খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, লক্ষ্য ৫০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, লক্ষ্য ৫০ লাখ

দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা বিকাশে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। চলতি বছর প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীতে এ সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-ভিশন বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সমতা, ন্যায়বিচার এবং শহর-গ্রামের শিক্ষাগত বৈষম্য কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চান যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক শিক্ষা গড়ে তুলবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সততা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার দেশব্যাপী খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশ ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে। শিগগিরই কোরআন তেলাওয়াতভিত্তিক কর্মসূচিও চালু করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে দুটি নতুন বিষয় ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি নতুন বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে একটি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, যার মাধ্যমে আনন্দময় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। অন্যটি ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’। বর্তমানে এ ধরনের শিক্ষা সীমিত আকারে থাকলেও আগামীতে তা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাত্ত্বিক শিক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে। প্রায় আড়াই মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করতে গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্য তুলে ধরলে অন্য শিক্ষার্থীরাও উদ্বুদ্ধ হবে। প্রথম বছরেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা অন্তত ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্টার্টআপ, বিজ্ঞান, প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী থাকায় মোট ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক হিসেবে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তামূলক চিন্তা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল ধারণাগুলোকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ, অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ১০০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

একই দিনে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বৃক্ষরোপণ করবেন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়বে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক চরিত্র, পারিবারিক শিক্ষা ও নাগরিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষে পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংস্কার আনা হচ্ছে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের আরও উৎসাহিত করতে এবং দেশের প্রতিটি পরিবারে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আরো ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আরো ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি

হামের প্রকোপের মধ্যে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বর। দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন। তবে এই সময়ে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন রয়েছেন।

এই সময়ে ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। এই বছর সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ওই বছর দেশে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। মশাবাহিত এই রোগে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নবনির্মিত ফায়ারিং রেঞ্জে অস্ত্রচালনা ও নিশানা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ব্যবহৃত একটি পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং নবনির্মিত ফায়ারিং রেঞ্জের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরে তিনি এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাহিনীর পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদে আফরোজা খানম

পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, পর্যটন খাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার  (১৮ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে পর্যটন শিল্প অন্যতম। কিন্তু বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে পর্যটন শিল্প এখনো অনেকটা পিছিয়ে। পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না?

জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন ও ব্র্যান্ডিংসহ পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যক্রম নিয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।

পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা পর্যটন মন্ত্রীর লিখিত জবাব থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো :

দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে প্রচার
দেশের পর্যটন আকর্ষণ ও সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিপণন কৌশল অনুসারে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে আসছে। সোর্স মার্কেটসমূহে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো ও বিটুবি সেশন আয়োজন, সোর্স মার্কেটের ট্যুর অপারেটর ট্রাভেল, এজেন্ট ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন, বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রচার, আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রচার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সোর্স মার্কেটে প্রচার কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর এ সব কার্যক্রমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/ হাইকমিশন কার্যকর সহযোগিতা দিচ্ছে।

টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি), ভিডিও, ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচার
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ডিজিটাল কনটেন্ট যেমন : টিভিসি, ডকুমেন্টারি, ফটো প্রস্তুতের কার্যক্রম নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর ২৮টি ৩-৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারি রয়েছে যেখানে থিমভিত্তিক বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ভিত্তিক কার্যক্রম-এর জন্য ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ৫০০ এর অধিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করেছে যা বিউটিফুল বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কম্পিটিশনের আয়োজন করে। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ২০০টি ফটো ও ২ থেকে ৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৬০টি বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ভিত্তিক ভিডিও ডকুমেন্টারি সংগ্রহ করেছে যা প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার ও বিপণনে ডিজিটাল মার্কেটিং
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন : ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (পূর্বতন টুইটার), লিংকডইন ও ইন্সটাগ্রামে ফটো ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি প্রমোশনাল ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন
বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল রাইটার, ইনফ্লুয়েন্সার, ব্লগার ও সাংবাদিকসহ বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন ও দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন করা হচ্ছে।

হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, খাবার পণ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিটুবি সেশন আয়োজন
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশি ট্যুর অপারেটর নিয়ে বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের ৯৭ জন ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশের ১২৫ জন ট্যুর অপারেটর এবং হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও টুরিস্ট ভেসেলের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীগণ তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ ও পর্যটন আকর্ষণ আগত ট্যুর অপারেটরদের নিকট তুলে ধরে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসসমূহের মাধ্যমে পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার
বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহ তুলে ধরতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে দেশের পর্যটন আকর্ষণ, পণ্য ও সেবা বিষয়ক লিফলেট, ব্রশিউর, টুরিস্ট ম্যাপ, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ব্রান্ডবুক ও টিভিসিসহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পর্যটকদের নিকট দেশের পর্যটন পণ্য ও সেবা বিষয়ক তথ্য দেওয়া ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অফিস বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি নামক একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউজ কিপিং, ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকিটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স বা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে ও দোভাষী হিসেবে দক্ষতা উন্নয়নে গাইডদের বিদেশি ভাষার ওপর এবং সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন শিল্পের (ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিক) মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অংশীজন পরিচিতিমূলক সভা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটিতে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের ইন্টার্নশিপ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলিয়ার, ক্রুজ শিপের কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্ট্রিট ফুড ভেন্ডর, সিবিটি কর্মী, হোমস্টের পরিবার, ইউএন ভলেন্টিয়ারদের সেবা দেওয়া ও দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন