খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, লক্ষ্য ৫০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, লক্ষ্য ৫০ লাখ

দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা বিকাশে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। চলতি বছর প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীতে এ সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-ভিশন বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সমতা, ন্যায়বিচার এবং শহর-গ্রামের শিক্ষাগত বৈষম্য কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চান যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক শিক্ষা গড়ে তুলবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সততা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার দেশব্যাপী খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশ ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে। শিগগিরই কোরআন তেলাওয়াতভিত্তিক কর্মসূচিও চালু করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে দুটি নতুন বিষয় ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি নতুন বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে একটি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, যার মাধ্যমে আনন্দময় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। অন্যটি ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’। বর্তমানে এ ধরনের শিক্ষা সীমিত আকারে থাকলেও আগামীতে তা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাত্ত্বিক শিক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে। প্রায় আড়াই মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করতে গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্য তুলে ধরলে অন্য শিক্ষার্থীরাও উদ্বুদ্ধ হবে। প্রথম বছরেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা অন্তত ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্টার্টআপ, বিজ্ঞান, প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী থাকায় মোট ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক হিসেবে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তামূলক চিন্তা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল ধারণাগুলোকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ, অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ১০০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

একই দিনে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বৃক্ষরোপণ করবেন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়বে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক চরিত্র, পারিবারিক শিক্ষা ও নাগরিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষে পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংস্কার আনা হচ্ছে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের আরও উৎসাহিত করতে এবং দেশের প্রতিটি পরিবারে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা

গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা

গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় সমাপনী বক্তব্যের শেষে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্বরে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজিত পথসভায় এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের শেষ দিকে শফিজল ইসলাম বলেন, ‘আমি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন মানুষের পাড়া-মহল্লায় গিয়ে কথা বলছি। অত্যন্ত সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আপনারা যদি সহযোগিতা করেন, আশা করি আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরে জামালপুর ইউনিয়ন। আপনারা সহযোগিতা করলে চেয়ারম্যান পদে কেউ আমাকে ঠেকাতে পারবে না। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, জয়বাংলা।’

‘জয়বাংলা’ উচ্চারণের পর মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ফিসফাস শুরু হয়। এরপর শফিজল ইসলাম মঞ্চ থেকে সরে যান।

পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান ও সুমাইয়া ফারজানা এবং গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে তার কবর জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ পথসভায় অংশ নেন।

‘জয়বাংলা’ কেন বলেছিলেন—এ বিষয়ে জানতে শফিজল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে এনসিপির গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘শফিজল ইসলাম আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এলাকায় তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই তাকে এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামালপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। বড় জনসমাগমে বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় অসাবধানতাবশত তিনি ‘জয়বাংলা’ বলে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বিষয়টি শুনে বিস্মিত হন।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির পর এবার জ্বালানি পণ্য পরিবহনের অপর গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পানা নিয়েছে ইরান। ইয়েমেনে নিজেদের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে তেহরান থেকে।

ইতোমধ্যে কূটনৈতিক সূত্রে তেহরানের এই পরিকল্পনার তথ্য সৌদির কাছে পৌঁছেছে এবং রিয়াদ এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

ইরানের দু’টি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে— সেক্ষেত্রে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে যে কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইরানি, মধ্যপ্রাচ্যীয়, এশীয় বা পশ্চিমা কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি এ তথ্য।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান থেকে নির্দেশ আসার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করে এনেছে হুথি গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে লোহিত সাগারের প্রবেশ পথ হিসেবে পরিচিত বাব এল-মান্দেব প্রণালির চারপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা শেষ করার পর আগামী সপ্তাহেই দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করা হবে।

মার্কিন বাহিনী এই নীতিতে হামলা করলে পাল্টা ব্যবস্থা কী হতে পারে— তা জানা গেল রয়র্টার্সের এ প্রতিবেদনে।

যদি সত্যি হুথি গোষ্ঠী বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের জন্য বড় দুর্যোগ। কারণ হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর— এই দু’টি পথ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্য এশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দু’টি প্রধান পথ হলো হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২৫ শতাংশ হরমুজ দিয়ে এবং ৭ শতাংশ লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।

যদি সত্যিই হুথি গোষ্ঠ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিপদে পড়বে সৌদি আরব। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল উত্তোলনকারী দেশ বৈশ্বিক বাজারে যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, তার ৭০ শতাংশ চালান যায় লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে।

আর হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের পাশাপাশি লোহিত সাগর এলাকার সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যে হামলা করবে— এমন আশঙ্কা ব্যাপকভাবে আছে।

কারণ কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীর নেতা ও মুখপাত্রদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে ধ্বংস করতে ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। এই হামলার জন্য সৌদিকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুথি গোষ্ঠী।

সৌদি আরবকে এক নম্বর বা শীর্ষ পর্যায়ের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হুথি। ২০১৫ সালে এই গোষ্ঠী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে আনতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে এই সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

সূত্র : রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওএর ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ছাড়াও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি