খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড হলেও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে লক্ষ্য ও অর্জনের ব্যবধান এখনও বড় রয়ে গেছে।

রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে এনবিআর ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এসব টাস্কফোর্স করসংক্রান্ত আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং বকেয়া আদায়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা ইতোমধ্যে গত অর্থবছরের পুরো বছরের রাজস্ব আদায়কে ছাড়িয়ে গেছে।

তবে রাজস্ব আহরণের এই রেকর্ডের আড়ালে রয়েছে বড় বাস্তবতা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। ফলে মে মাস পর্যন্ত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতি কেবল একটি সংখ্যাগত সমস্যা নয়; এটি সরাসরি সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ঋণনির্ভরতার ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ যেমন বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধ কমানোর সুযোগ সীমিত। ফলে রাজস্ব কম হলে উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করার চাপ তৈরি হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি সরকারের সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ জাতীয় বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থ আসে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্ব থেকে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় বাজেটের বাধ্যতামূলক খাত হওয়ায় এসব ব্যয় কমানোর সুযোগ খুবই সীমিত।

ফলে রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে উন্নয়ন খাতে। অর্থসংকট দেখা দিলে সাধারণত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন গতি এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রবণতা থেকে সরকার এখনও বের হতে পারেনি। তার মতে, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর প্রশাসনে সংস্কার ছাড়া টেকসইভাবে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল নজরদারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।

কালের আলো/এম/এএইচ

দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, নির্বাচনের আগে পার্বত্য তিন জেলায় যেরকম দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও অবহেলা করা হয়েছে, জনগণের নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সময়ে তা আর ইনশাআল্লাহ হতে দেওয়া হবে না। পাহাড়ি-বাঙালি মিলে যারা এই বাংলাদেশকে একটি ‘রংধনু জাতি’ হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিত করে তুলেছেন, তাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে ‘পাহাড়ি ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘পাহাড়ি ফল মেলা ২০২৬’।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সার্থক করতে পাহাড় ও সমতলের মানুষের সমন্বয়ে পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাবো। অতীতে বিভিন্ন স্কিমের নাম করে তিন পার্বত্য জেলায় এক হাজার ৭৪টি নামকাওয়াস্তে বা ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যা কোনো বাস্তবসম্মত উন্নয়ন আনেনি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অনর্থক স্কিম দেওয়া-নেওয়ার হার কমিয়ে আনা হবে এবং বাস্তবসম্মত ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তার বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুলগামী কন্যাশিক্ষার্থী, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধদের ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলায় নারীদের জন্য আরও একটি করে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য ই-লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে সারফেস ওয়াটারকে (উপরিভাগের পানি) কাজে লাগিয়ে প্রতিটি অঞ্চলে সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত ফল ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ নির্মাণ করা হবে, যা কৃষকরা সমবায়ের বা সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া অবিক্রিত ফলগুলো দিয়ে ‘ড্রাই ফুড’ তৈরি করে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কফি অত্যন্ত উচ্চমানের হওয়ায় কফি চাষকে আরও আকর্ষণীয় করতে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। জুম চাষিরা যাতে একই জমিতে আরও বেশি ফসল ফলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে ‘ইকো ট্যুরিজম’ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।

পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও তথ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ডরমিটরি স্থাপন, তিনটি জেলায় মাল্টিপারপাস ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, রাঙামাটিতে একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় আধুনিক ‘তথ্য কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মিসেস মাধবী মার্মা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ মন্ত্রণালয় ও পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম অঞ্চল থেকে আগত মোট ৩০টি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে পাহাড়ের সুস্বাদু মৌসুমি ফল আম, আনারস, কাঁঠাল, কলার পাশাপাশি দুর্লভ বুনো রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনোবেলের মতো বাহারি কেমিক্যালমুক্ত ফলের সমাহার ঘটেছে।

মেলাটি আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।

প্রতি সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

যারা ফ্যামিলি কার্ডকে ভুয়া বলেছিলেন, তারাই এখন কার্ডের জন্য উদগ্রীব: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
যারা ফ্যামিলি কার্ডকে ভুয়া বলেছিলেন, তারাই এখন কার্ডের জন্য উদগ্রীব: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের প্রতিশ্রুতিকে যারা ‘ভুয়া’ বলে সমালোচনা করেছিলেন, তারাই এখন এসব কার্ড পাওয়ার জন্য উদগ্রীব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, মুখে স্বীকার না করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনার সফলতা বিরোধীরাও উপলব্ধি করছেন।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হলে তা শুধু পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতেই ভূমিকা রাখবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়বে। এই অর্থ গ্রামের মুদি দোকান, ওষুধের দোকানসহ স্থানীয় বাজারে ব্যয় হবে, ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। ৪০ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় এলে বাংলাদেশ আরও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাজেটের প্রশংসা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সময়োপযোগী বা মানবিক বাজেট নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার ভাষায়, গত ১৭ বছরে অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাজেটের আকার নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সবাই উন্নয়ন চান, কিন্তু বড় বাজেটের সমালোচনা করেন। উন্নয়ন করতে হলে বাজেটের পরিধিও বড় হতে হবে। বাসায় ডাল-ভাতের বাজেট করে বিরিয়ানি খাওয়ার আশা করা যায় না। তিনি বলেন, সবাই বেহেশতে যেতে চায়, কিন্তু কেউ মরতে চায় না। একইভাবে সবাই নিজের এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বড় বাজেট মেনে নিতে চান না।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ইয়াসের খান বলেন, তারা সংসদে হাসপাতাল, সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি তুলছেন। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়, সরকার ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে এবং তারা জানেন, এ সরকারই এসব উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে ইয়াসের খান দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবারও মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।

নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকায়। পরে তা বেসরকারি খাতে বিক্রি করে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রায় বিনামূল্যেই দেশের দর্শকরা বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন। তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে সক্ষম হয়েছে এবং তরুণ-শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

তুরাগে আ.লীগ নেতাকর্মীদের লাশ ভাসার খবরে পুলিশের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
তুরাগে আ.লীগ নেতাকর্মীদের লাশ ভাসার খবরে পুলিশের বিবৃতি

ঢাকার তুরাগ নদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থক সাতজনের লাশ ভাসার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে বিবৃতি দিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।’

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি এবং এর সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অনেকে গ্রেপ্তারও হন।

এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সমর্থক বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে দাবি তোলা হয় যে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সাতজনকে মিছিল থেকে আটকের পর হত্যা করে লাশ তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সেই খবর নাকচ করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অপপ্রচারকারীদের হুঁশিয়ারও করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

কালের আলো/এসএকে