সামাজিক সুরক্ষার নামে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার দাবি, সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকার যে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, মূল্যস্ফীতি ও করের চাপে তার সুফল মানুষ পাচ্ছে না। কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে আট হাজার টাকা দেওয়ার উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির কারণে কার্যত মূল্যহীন হয়ে যাবে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকার মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিলেও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছে না। কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে বাজারের প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যয়ও বাড়ে। ফুয়াদের মতে, নগদ অর্থ সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার মান উন্নত করা গেলে মানুষের প্রকৃত উপকার হতো। এতে তাদের ব্যয় কমত এবং হাতে বেশি অর্থ থাকত।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, সাধারণ মানুষ সহায়তার টাকার অঙ্কটি বুঝলেও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কতটা কমে যাচ্ছে, তা অনেক সময় বিবেচনায় আসে না। একজন কৃষক, দরিদ্র পরিবার বা নারীকে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির কারণে তার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ফলে সামাজিক সুরক্ষার নামে যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
সরকারি দল লুটপাট ও জালিয়াতির প্রস্তাব করছে, আর বিরোধী দল টেলিভিশন-ফ্রিজ নিয়ে ব্যস্ত—এমন মন্তব্য করে ফুয়াদ বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা হচ্ছে না। দু-একজন সদস্য ছাড়া বিরোধী দলের বেশির ভাগ সদস্যকে এ বিষয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।
ফুয়াদ বলেন, বাজেট রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মাধ্যমে আগামী এক বছরে রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে, তার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। অথচ সংসদে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও গভীরতা নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে না।
আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় একজন মানুষকে এক হাজার, দুই হাজার বা আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ফলে তার জীবনমান, আয়ক্ষমতা, স্বাস্থ্য কিংবা সন্তানদের ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে কি না, তা মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রের নেই। বাজেটের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর ফলাফল পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ফুয়াদ আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ফলে জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (সিআইপিজি) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. শফিউল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব ড. শফিকুল আলম।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। কীনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ
আপনার মতামত লিখুন
Array