খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে

রাজশাহীতে আষাঢ় মাসে কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা মিলছে না। বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা না হলেও এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে, নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও চারজন ডেঙ্গু রোগী।

রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, জুন মাসের শেষ ২০ দিন ও জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই দিন হাসপাতালটিতে আরও দুইজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ জুন থেকে ১২ জুন নতুন ডেঙ্গু রোগী না থাকলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন।

এ ছাড়াও ১৩ ও ১৪ জুন একজন করে রোগী ভর্তি হন। ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন নতুন রোগী ভর্তি না হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। ১৮ ও ১৯ জুন রোগী ভর্তি না হলেও ২০ জুন একজন ভর্তি হন। ২১ জুন রোগী ভর্তি না হলেও ২২ জুন একজন নতুন রোগী ভর্তি হন। পরের দিন ২৩ জুন তিনজন এবং ২৪ জুন দুইজন ভর্তি হয়েছেন। এতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচজনে।

২৫ জুন দুইজন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন দুইজন। ২৪ জুন ভর্তি না থাকলেও ২৭ জুন একজন ভর্তি হয়েছেন। এদিন একজন ছুটি পেয়েছেন। ২৮ জুন নতুন রোগী না থাকলেও ২৯ জুন একজন ভর্তি হন। এদিন ছুটি হয় দুইজনের। ৩০ জুন নতুন করে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন থাকেন তিনজন। ১ জুলাই নতুন একজন রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন দুইজন, চিকিৎসাধীন থাকেন দুইজন। সবশেষ ২ জুলাই নতুন করে দুইজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন রামেক হাসপাতালে।

গত মে মাসে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সূচক ২০-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরিপে নগরীর ৭৫টি বাড়ির ১৫টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে বিশ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারণকারী পাত্রে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব স্থানে আরও পানি জমলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নগরীতে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক এডিস মশার উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা জানান, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পানির উৎসে নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণেও বংশবিস্তার করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ নানা ধরনের পানিধারণকারী সামগ্রীতে লার্ভা পাওয়া গেছে।

রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, বর্ষা সামনে রেখে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে অস্থিরতা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের জুন মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ৯টা ৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৫ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের শুরুতে ২ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল স্বর্ণের দাম। অন্যদিকে আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে।

টেস্টিলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বন্ডের দাম কমেছে, ডলারের মূল্য কিছুটা বেড়েছে, স্বর্ণের দাম পিছিয়েছে। তবে সংশোধনের পর বাজার এখন কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তার মতে, স্বর্ণের দাম এখন নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করে। এর ফলে শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি পায় এবং ডলার সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা আগে থেকেই নাজুক যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বেড়ে ৬৩ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা মঙ্গলবার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ।

এদিকে, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ১৬-১৭ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ সুদের হার কোন পথে যেতে পারে, সে বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন তারা।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই সম্পদের চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট রুপার দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৪৭ ডলারে ওঠে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৪৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৬৮ দশমিক ৬৪ ডলারে নেমে আসে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ৮৫ স্থাপনায় হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ৮৫ স্থাপনায় হামলা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও ইরানের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার (৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, এ হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার হরমোজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরান এ অভিযান চালিয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, মার্কিন হামলাগুলো ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ওয়াশিংটন এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ম্লান করার চেষ্টা করছে।

এদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে এ ধরনের হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

করাচিগামী কার্গো বিমান আরব সাগরের ওপর নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
করাচিগামী কার্গো বিমান আরব সাগরের ওপর নিখোঁজ

পাকিস্তানের করাচিভিত্তিক বেসরকারি এয়ারলাইন K2 Airways-এর একটি কার্গো বিমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে আরব সাগরের ওপর রাডার থেকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়েছে।

বিমানটিতে থাকা পাঁচজন ক্রু সদস্যের এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডাটা এবং পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (PAA) থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, KTA1732 ফ্লাইটটি ছিল একটি Boeing 737-400 (BDSF) কার্গো বিমান (রেজিস্ট্রেশন: AP-BOI)।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, পাকিস্তান সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে বিমানের পাইলট করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের (ACC) সঙ্গে যোগাযোগ করে নেভিগেশনাল সিস্টেমে ত্রুটির কথা জানান এবং সহায়তা চান। এরপর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) বিমানটিকে নির্দেশনা দিতে শুরু করে।

তবে মাত্র তিন মিনিট পর, রাত ৯টা ২১ মিনিটে, করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে আরব সাগরের আকাশে বিমানটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। এরপরই রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

Flightradar24-এর শেষ ADS-B ডাটা অনুযায়ী, বিমানটি সর্বশেষ মাত্র ১,১০০ ফুট উচ্চতায় শনাক্ত হয়েছিল এবং তখন এর নামার গতি ছিল প্রতি মিনিটে ২২ হাজার ৪০০ ফুট, যা বিশেষজ্ঞদের মতে একটি অত্যন্ত খাড়া পতনের (Sudden Nose Dive) ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট আগে বিমানের ফ্লাইট প্রোফাইলেও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে দ্রুত ২৯ হাজার ৪৭৫ ফুটে নেমে আসে এবং এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ৩৬ হাজার ৬৫০ ফুটে উঠে যায়। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে এমন তীব্র ওঠানামা কোনো বড় ধরনের ইন-ফ্লাইট কারিগরি ত্রুটি বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। সমুদ্রে PNS Zulfiqar যুদ্ধজাহাজ এবং PNSC Lahore বাণিজ্যিক জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে অনুসন্ধানে অংশ নিচ্ছে বিমানবাহিনীর SAAB 2000 এবং নৌবাহিনীর ATR-72 Maritime Patrol Aircraft।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শারজাহ থেকে উড্ডয়নের পর বিমানটি GNSS (Global Navigation Satellite System) ইন্টারফারেন্সের সম্মুখীন হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিই দুর্ঘটনার একমাত্র বা প্রধান কারণ বলে মনে করার সুযোগ নেই। বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে বিমানটি এবং এর পাঁচজন ক্রু সদস্যের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি