খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার আগে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে এ বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’। তেহরানের দাবি, এ ঘটনার জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী দায়ী।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে, একদল ‘বিচ্যুত’ কট্টরপন্থি আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। এটি আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’

শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, না হলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’

আজ ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান ঘটানো।

সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে। এ সময় তারা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করবে বলে জানানো হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। এ ব্যবস্থায় প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসআর/এএএন

পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে দিয়ে তিন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার ধবলসূতি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সীমান্তের ৮৩৩/৯-এস নম্বর পিলারের কাছে ঘটনাটি ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ভারতের ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের খরখড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে  তিন নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।

সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের পুশইনচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বর্তমানে ওই তিন নারী সীমান্ত পিলার ৮৩৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

৬১ বিজিবির (তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে।

সীমান্তে অবস্থান করা ওই নারীদের দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএসএফকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ও সতর্কতা জারি রয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারপ্রধান এমন আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ যেন মানসম্মত চিকিৎসা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে মানুষের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে ঢামেকের উদ্দেশে রওনা হয়।

শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিসিপিএস সভাপতিকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
বিসিপিএস সভাপতিকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে দেখতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর একটি হাসপাতালে গিয়ে তিনি ডা. পাভেলের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথা বলেন ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। একই সঙ্গে তিনি অধ্যাপক ডা. পাভেলের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং তার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালনে আকস্মিক জটিলতার কারণে অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বর্তমানে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক পাভেল বর্তমানে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসায় দেশে-বিদেশে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সার্ক আইকন অব সার্জন’ সম্মানে ভূষিত হন খ্যাতনামা এই সার্জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ