খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারপ্রধান এমন আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ যেন মানসম্মত চিকিৎসা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে মানুষের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে ঢামেকের উদ্দেশে রওনা হয়।

শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কথিত প্রেমিকাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
কথিত প্রেমিকাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্ট ঘিরে বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে এমনিতেই তীব্র চাপে আছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেই পরিকল্পনা বাতিল করে ক্ষমা চাইলেও সমালোচনা থামেনি। এর মধ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নতুন অভিযোগ।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে উয়েফা ছাড়ার সময় ওই নারীকে সংস্থাটি বড় অঙ্কের অর্থ দেয়। তবে ইনফান্তিনোর মুখপাত্র অভিযোগটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উয়েফাও অর্থ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে তাদের দাবি, স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে ওই নারীর এমবিএ পড়ার খরচ হিসেবে নিয়ম মেনেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল।

২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ইনফান্তিনো। উয়েফার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নারীকে চাকরি ছাড়ার সময় অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে অর্থের পরিমাণ বা এর সঙ্গে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সে বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

টেলিগ্রাফ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্কে থাকা ওই নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে অভিযোগটি কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

ফিফার এক মুখপাত্র টেলিগ্রাফকে বলেছেন, ইনফান্তিনো অভিযোগগুলো ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছেন এবং সেগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। তাঁর আচরণ নিয়ে উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো অসদাচরণ কিংবা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ করেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে উয়েফা জানিয়েছে, ওই নারীকে অর্থ দেওয়া হলেও তা ছিল তাঁর এমবিএ কোর্সের ফি পরিশোধের জন্য। সংস্থাটির দাবি, সে সময়কার প্রচলিত নিয়ম মেনেই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উয়েফা তাদের নিয়মকানুন আরও কঠোর করেছে।

নতুন অভিযোগটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোকে নিয়ে আগে থেকেই তীব্র বিতর্ক চলছে। বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর শেষ পর্যন্ত সেটি বাতিল করা হয়। পরে নিজের ‘ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমাও চান ৫৬ বছর বয়সী এই সংগঠক।

পরিকল্পনা বাতিল হলেও ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ফিফার আয়োজন বয়কটের হুমকি দিয়ে রেখেছে। উয়েফা ও নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথা জানিয়েছে। তাঁর পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি তাঁর বিপক্ষে নয়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল ও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সহআয়োজক মেক্সিকো এবং রানার্সআপ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তাঁর পাশে রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) অবশ্য এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি।

ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন। ২০০৯ সালে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন। সুইজারল্যান্ডে ইতালীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনো বহু ভাষায় কথা বলতে পারেন। তাঁর ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও লেবাননের নাগরিকত্ব রয়েছে।

২০০১ সালে লিনা আল-আশকারকে বিয়ে করেন ইনফান্তিনো। তাঁদের চার কন্যাসন্তান রয়েছে।

ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর অসন্তোষ এবং এখন উয়েফায় তাঁর সময়কার কথিত সম্পর্ক নিয়ে নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর জন্য সময়টা যে বেশ কঠিন, তা বলাই যায়।

কালের আলো/এসএ

তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শিগগিরই শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শিগগিরই শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোন মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছি।

নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। পরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু এবং জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসএকে

‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভী দাবি করেছেন, তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং একসময় তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। তবে শাবনূরের দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, বাস্তবে বিয়ে না হয়ে হয়তো তাঁদের ‘স্বপ্নের বাসর’ই হয়েছিল।

শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে রিজভীর বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী বলেছেন, শাবনূরের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা কখনো প্রকাশ করতে পারেননি। তবে মনে মনে তাঁকে এতটাই ভালোবাসতেন যে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং এখনো চান।

অন্যদিকে, একই সময়ের কাছাকাছি সময় টিভিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রিজভী দাবি করেছেন, শাবনূর তাঁর সাবেক প্রেমিকা ছিলেন।

রিজভীর বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালে শাবনূরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং দুই বছর পর, ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন শাবনূর। তাঁর প্রশ্ন, রিজভী যদি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকেন এবং ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে না এসে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল?

শাবনূর আরও জানান, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। তাঁর দাবি, ওই সময়ের অনেক আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন। রিজভীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাঁকে তিনি কখনো দেখেছেন বা চিনেছেন বলেও মনে করতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গেই রসিকতার সুরে শাবনূর লিখেছেন, রিজভীর বক্তব্য শুনে তাঁর মনে হচ্ছে, তাঁদের বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি; হয়তো হয়েছিল শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’।

রিজভীর বক্তব্যের আরেকটি অংশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শাবনূর। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি সালমান শাহর মৃত্যুর জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাবনূর।

এই অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, রিজভীর নাম তিনি প্রথম শোনেন সালমান শাহর মৃত্যুর পর। তখন সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল।

শাবনূরের প্রশ্ন, যদি রিজভীকে তিনি আগে চিনতেনই না, তাহলে কীভাবে তিনি দাবি করছেন যে শাবনূর সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন?

শাবনূরের বিরুদ্ধে সালমান শাহ ও তাঁর স্ত্রী সামিরার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির জন্য একে অন্যের কথা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শাবনূরের দাবি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কেউ কখনো বলতে পারবেন না যে তিনি কারও সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেছেন।

নিজের পরিবার থেকেও এমন আচরণের শিক্ষা পাননি বলে উল্লেখ করে শাবনূর বলেন, চলচ্চিত্রজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এ ধরনের কাজ করার সময়ও তাঁর ছিল না।

নিজের পোস্টে রিজভীর অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তাঁর দাবি, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ একসময় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন।

সেই সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থের বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে শাবনূর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

তবে দীর্ঘ সময় পর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতে রিজভী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন শাবনূর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুকে হত্যা নয়, আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকেও দায়ী করেছেন তিনি।

শাবনূরের দাবি, সাম্প্রতিক এসব বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তাঁকেও সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাবনূরের পোস্টের পর তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের অনেকে মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ সত্য তুলে ধরার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ লিখেছেন, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায়।

রিজভী আহমেদের বক্তব্য এবং শাবনূরের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই আপাতত বিতর্ক সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কালের আলো/এসএ