খুঁজুন
                               
, ,
           

পূজায় আসছে রায়হান রাফীর বড় বাজেটের হরর সিনেমা ‘আন্ধার’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
পূজায় আসছে রায়হান রাফীর বড় বাজেটের হরর সিনেমা ‘আন্ধার’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক দৃশ্য ‘ফাঁস’ করে ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছেন নির্মাতা রায়হান রাফী। অভিনব এই প্রচারণার মাঝেই জানা গেল তাঁর বহুল আলোচিত হরর চলচ্চিত্র ‘আন্ধার’ মুক্তির আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা। আগামী অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে আনার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও পূজার দীর্ঘ ছুটিকেই মুক্তির লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরিচালক রায়হান রাফী জানান, ঈদে সিনেমা মুক্তির মাধ্যমে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তা তাঁরা পূজাতেও ফিরিয়ে আনতে চান। ছুটির দিনে দর্শক যাতে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে আসেন, সে উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা।
‘আন্ধার’কে বলা হচ্ছে দেশের অন্যতম বড় বাজেটের হরর ছবি। সিনেমার একটি বিশাল অংশে থাকছে ভিএফএক্স ও গ্রাফিকস অ্যানিমেশনের কাজ, যার সম্পাদন সম্পন্ন হয়েছে মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে। নির্মাতার বিশ্বাস, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে হরর ঘরানার যে শূন্যতা রয়েছে, এই সিনেমা তা অনেকটাই পূরণ করবে।
চলচ্চিত্রটির গল্পের পটভূমিও বেশ ভিন্ন। দেশের জনপ্রিয় দুই ব্যান্ডশিল্পী—অর্থহীনের সাইদুস সালেহীন সুমন (বাস বাবা সুমন) এবং ক্রিপটিক ফেইটের শাকিব চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ভৌতিক লোককাহিনি ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার গল্প সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের সংগৃহীত সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই নির্মিত হয়েছে ‘আন্ধার’-এর কাহিনি। আন্তর্জাতিক মানের হরর কনটেন্ট উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রচেষ্টা।
চিত্রনাট্যে নাজিফা তুষিকে দেখা যাবে ‘নাদিয়া’ চরিত্রে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া স্থিরচিত্রে তুষির পাশাপাশি দেখা গেছে জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী আফসানা মিমিকে। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর কাজ নিয়ে মুখ খুলে তুষি জানান, নাদিয়া চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।
তুষি ও আফসানা মিমি ছাড়া সিনেমাটির শক্তিশালী তারকাবহুল কাস্টে আরও রয়েছেন: চঞ্চল চৌধুরী,সিয়াম আহমেদ,গাজী রাকায়েত, মোস্তফা মন্ওয়ার, তানজিকা আমিন। এছাড়াও এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটছে ফররুখ আহমেদ রেহান ও স্বর্ণালী চৈতির।
চলচ্চিত্রটির বেশিরভাগ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহে। আগামী সেপ্টেম্বরে ছবিটি বাংলাদেশ সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মুক্তির আগে পর্যায়ক্রমে ছবিটির অফিশিয়াল পোস্টার, টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।
কালের আলো/এসএ

সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

সেবার মানসিকতা না থাকলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন চিকিৎসকদের পেশাদারিত্বে কোনো ধরনের প্রভাব না ফেলে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের উদ্দেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসকদের মূল দায়িত্ব মানুষের সেবা করা। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রোগীর প্রতি দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও তা যেন পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি খাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এর আগে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দল-মতের বিবেচনা করা হবে না। নদীর ভাঙনে মানুষ যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোক, তাদের নিরাপত্তা ও বসতভিটা রক্ষাই সরকারের দায়িত্ব।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে একথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নদীভাঙন একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।

শুধু তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো নয়, নদীর গতিপথ, পানির প্রবাহ ও ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কুড়িগ্রামের নদীভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-স্থায়ী ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা-নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

পরে তিনি চিলমারীর বাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী এবং রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় নদীর ভাঙন, বাঁধের অবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।

এ সময় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিশ্বকাপে মেসি সহ তারকা ফুটবলার-রেফারিদের ওপর হুমকির ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে মেসি সহ তারকা ফুটবলার-রেফারিদের ওপর হুমকির ঝড়

বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ। মাঠের উত্তেজনা, গ্যালারির উন্মাদনা আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা। কিন্তু সেই উৎসবের আড়ালে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তার অনেকটাই এত দিন ছিল অপ্রকাশ্য।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও দলগুলোর ওপর নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির তথ্য। নথিগুলো আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি)–এর নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের নেতৃত্বে আইপিসিসিতে ৪০টির বেশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেছিলেন।

মজার বিষয় হলো, এফবিআই পরে জানিয়েছিল বিশ্বকাপের ৩৯ দিনের আয়োজনে বড় কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেনি। প্রায় ৫ হাজার এফবিআই সদস্য এবং ৫৯টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্কফোর্স নিরাপত্তায় কাজ করেছিল। কিন্তু প্রকাশিত নথি দেখাচ্ছে, বড় কোনো হামলা না ঘটলেও হুমকি ও সন্দেহজনক ঘটনার চাপ ছিল যথেষ্ট।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের আগে ও চলাকালে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া ফুটবলারদের একজন ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

আর্জেন্টিনা–জর্ডান ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আরও দুজনকে নিয়ে হাতে তৈরি বোমা ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির বক্তব্যে মেসিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল।

এরপর আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের আগেও মেসিকে নিয়ে ভয়ংকর হুমকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ব্যবহারকারী স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে হামলার লক্ষ্য বানানোর কথা লেখেন। একই ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের কয়েকটি ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে—এমন ফোনও আসে পুলিশের কাছে। পরে বিস্ফোরক শনাক্তকারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।

বিশ্বের আরেক মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়েছে।

এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি পর্তুগাল দলের হোটেল ও রোনালদোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাঁকে শনাক্ত করে। হিউস্টনে দলটির হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

টরন্টোতেও এক ভক্ত রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে থামিয়ে দেন। পরে ওই ব্যক্তি জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধু রোনালদোর সঙ্গে ছবি তোলা। মায়ামিতেও রোনালদোকে ঘিরে ভক্তদের অতিরিক্ত আগ্রহের ঘটনা ঘটে। এমনকি পর্তুগাল–ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন।

বিশ্বকাপে নিরাপত্তা-ঝুঁকির আরেকটি দিক ছিল খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অনলাইন হুমকি। ম্যাচে ভুল করা বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর কয়েকজন ফুটবলারকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

নরওয়ের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজও পেনাল্টি মিসের পর হুমকির মুখে পড়েন।

ফ্রান্সের লুকাস দিনিয়ে স্পেন–ফ্রান্স ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার পরও অনলাইনে ভয়ংকর হুমকি পান বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের চাপ সামলাতে হয়েছে। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর তাঁকে ঘিরে দেশটিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ধরনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা শুধু স্টেডিয়ামের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে না। অনলাইন বিদ্বেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হুমকি এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে আবেগও কখনো বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়া দলও ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কোচ হং মিয়ং-বো এবং দলের সদস্যদের উদ্দেশে হত্যার হুমকি দেওয়া হলে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বিমানবন্দর পর্যন্ত দলটিকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে যেতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হুমকির মাত্রার দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ পরিচালনার পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব বার্তার বড় অংশই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।

ম্যাচটির ভিএআর কর্মকর্তা উইলি দেলাজোদও হুমকির শিকার হন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে লেতেক্সিয়ার ও দেলাজোদের বাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে এফবিআইয়ের সরকারি মূল্যায়ন ছিল ইতিবাচক। সংস্থাটি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টে কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ দর্শক, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে নিরাপদে রাখতে ব্যাপক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় করা হয়েছিল।

কিন্তু এখন প্রকাশিত এসব নিরাপত্তা-তথ্য দেখাচ্ছে, বড় কোনো হামলা না ঘটার পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে বিশ্বকাপ যতটা ছিল উৎসবের, নিরাপত্তার দিক থেকে তার আড়ালের ছবিটা ছিল অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

তারকা ফুটবলার থেকে রেফারি—কারও কাছেই হুমকি থামেনি। আর এসব ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, কোটি কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্রে থাকা একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের নিরাপত্তা কতটা কঠিন ও জটিল হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ