খুঁজুন
                               
, ,
           

বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টা যৌনসম্পর্ক বৈধ, এ কেমন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টা যৌনসম্পর্ক বৈধ, এ কেমন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

ভাবুন তো, এমন এক সমাজের কথা—যেখানে প্রেম করা বৈধ, কিন্তু বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তবে বছরের একটি নির্দিষ্ট রাতে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। অবিবাহিতরা তখনই নিজেদের ইচ্ছেমতো সম্পর্কে জড়াতে পারেন। সময় শেষ হলেই আবার আগের আইন কার্যকর।

শুনতে কল্পবিজ্ঞানের কোনো রাজনৈতিক ডিস্টোপিয়ার মতো মনে হলেও এমনই এক অদ্ভুত পৃথিবীকে রোমান্টিক কমেডির গল্পে রূপ দিয়েছেন পরিচালক উইল গ্লাক। তাঁর নতুন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’ মুক্তি পেয়েছে ৭ আগস্ট। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটির ব্যতিক্রমী গল্প ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

সিনেমার কাল্পনিক যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করার আইন চালু হয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে সরকার বছরে একবার ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ নামে একটি রাত নির্ধারণ করেছে। ওই রাতের ১২ ঘণ্টায় অবিবাহিত ব্যক্তিরা আইনত যৌনসম্পর্ক করতে পারেন।

এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নাগরিকদের শরীরে বিশেষ প্রযুক্তির বায়োসেন্সর পরতে হয়। শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ওই ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে কেউ যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছে কি না। নির্ধারিত সময়ের বাইরে আইন ভাঙলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা।

ফলে বছরের ওই রাতটি হয়ে ওঠে দেশটির মানুষের কাছে এক বিশেষ উৎসব। ডেটিং অ্যাপগুলোতে বাড়ে ব্যস্ততা, রেস্তোরাঁ ও বারে জমে ওঠে ভিড়। কেউ পুরোনো সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তুতি নেয়, কেউ আবার নতুন সম্পর্কের সন্ধানে বের হয়।

গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ওভেন। ম্যানহাটনে একটি ছোট পিৎজারিয়ার মালিক সে। স্বভাবের দিক থেকে শান্ত ও কিছুটা অন্তর্মুখী ওভেনও বছরের বিশেষ রাতটির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মালিকার সঙ্গে রাতটি কাটানোর পরিকল্পনা ছিল তার।

কিন্তু দেখা হওয়ার পর মালিকা জানায়, এবার সে অন্য একজনের সঙ্গে রাত কাটাতে চায়। সম্পর্কের বাইরে অন্য অভিজ্ঞতা নিতে চাওয়ার কথা জানিয়ে দেয় সে। এতে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ওভেনের পরিকল্পনা।

অন্যদিকে অ্যালি গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পেশাগতভাবে খুব একটা সফল হতে পারেনি। জীবিকা চালাতে তাকে ওষুধ কোম্পানির বিজ্ঞাপনের জন্য জিঙ্গেল গাইতে হয়।

বছরের বিশেষ রাতটিও তার পরিকল্পনামতো এগোয় না। যার সঙ্গে বের হওয়ার কথা ছিল, সে অন্য একজনের সঙ্গে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত বন্ধুর দেওয়া পোশাক পরে একাই শহরের রাতের উৎসবে বের হয় অ্যালি।

এরপরই ভাগ্যের টানে ওভেন ও অ্যালির দেখা। প্রেমিকার আচরণে হতাশ হয়ে ওভেন এরই মধ্যে কয়েক পেগ পান করে ফেলেছে। নতুন পরিচিত অ্যালির সামনে দাঁড়িয়েই প্রায় বমি করে ফেলে সে। বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে চলে যায় অ্যালি।

কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে, ততই বিভিন্ন জায়গায় তাদের আবার দেখা হতে থাকে। নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাত, সাবওয়ে, রাস্তা আর বিভিন্ন আড্ডার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসতে শুরু করে দুজন।

ওভেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালাম টার্নার, আর অ্যালির ভূমিকায় আছেন মনিকা বারবারো। দুই অভিনেতার অভিনয়ই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। ওভেনের সরলতা ও অস্বস্তি যেমন টার্নার বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন, তেমনি বারবারোর অ্যালি চরিত্রে আত্মবিশ্বাস ও সংবেদনশীলতার মিশেলও প্রশংসা পেয়েছে।

তাদের কথোপকথন, হাস্যরস ও ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া সম্পর্কই গল্পের আবেগের মূল জায়গা।

নাম ও মূল ধারণা দেখে সিনেমাটিকে শুধুই যৌনতা নিয়ে তৈরি কমেডি মনে হতে পারে। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে ওভেন ও অ্যালির সম্পর্ক অন্য দিকে মোড় নেয়।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তারা নিজেদের স্বপ্ন, ব্যর্থতা, ভয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। ওভেন উপলব্ধি করে, জীবনের সবকিছু আগেভাগে পরিকল্পনা করে রাখা সম্ভব নয়। অ্যালিও নিজের স্বপ্নের পথে এতদিন যে বাধাগুলো তৈরি করে রেখেছিল, সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

এই যাত্রায় ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ হয়ে ওঠে দুই অপরিচিত মানুষের একে অপরকে আবিষ্কারের পটভূমি।

সিনেমায় নিউইয়র্ক শহরকে শুধু গল্পের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। রাতের সাবওয়ে, ব্রুকলিন ব্রিজ, ছোট পিৎজারিয়া, ক্যাফে এবং শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি শহরের তুলনামূলক কম পরিচিত এলাকাও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে দর্শক যেন পর্যটকের বদলে শহরের একজন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে নিউইয়র্ককে দেখার সুযোগ পান।

হাস্যরস ও প্রেমের গল্পের আড়ালে সিনেমাটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আনে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর রাষ্ট্রের কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত? আইন দিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না? আর স্বাধীনতা কি শুধু আইনি অধিকার, নাকি ব্যক্তিগত পছন্দ ও অনুভূতির সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে?

নির্মাতা এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি। বরং ওভেন ও অ্যালির ব্যক্তিগত গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শককে নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ দিয়েছেন।

সিনেমাটি মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে এর রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে। সমালোচকদের একটি অংশের মতে, বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের নজরদারির মতো গুরুতর বিষয়কে রোমান্টিক কমেডির কাঠামোয় আটকে রাখায় গল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।

তাদের মতে, এমন একটি ধারণা সহজেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, রক্ষণশীলতা, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে গভীর বক্তব্যের জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত সেই পথে খুব বেশি দূর এগোয়নি।

অন্যদিকে আরেকটি মত হলো, ‘ওয়ান নাইট অনলি’কে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। এটি মূলত একটি অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে দুই মানুষের সম্পর্ক ও আত্ম-আবিষ্কারের গল্প। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটি গল্পের একটি ব্যতিক্রমী পটভূমি মাত্র।

তবে সমালোচকদের মধ্যে যে বিষয়ে একমত হওয়া কঠিন, তা হলো—সিনেমাটির মূল ধারণাটি এতটাই অস্বাভাবিক ও রাজনৈতিক যে দর্শকের মনে স্বাভাবিকভাবেই আরও অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়।

বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রজনন অধিকার নিয়ে বাস্তব রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন ‘ওয়ান নাইট অনলি’র কাল্পনিক পৃথিবীকে নিছক বিনোদন হিসেবে দেখাও কঠিন।

সুতরাং ‘ওয়ান নাইট অনলি’ শেষ পর্যন্ত নিখাদ রোমান্টিক কমেডি, নাকি ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য—মুক্তির পরের বিতর্কই হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকবে।

কালের আলো/এসএ

সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ দুইবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ দুইবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হবে।

পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ আবু সাঈদের ভাই মো. আবু হোসেন এবং শহীদ একরামুল হক সাজিদের মাতা নাজমা খাতুন লিপি।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

পরে মন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে ঢাবি সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

বিএনপি গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
বিএনপি গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ষড়যন্ত্র, অস্থিরতা, নির্যাতন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের রাজনীতি জনগণ কখনও গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। বিএনপি একটি আধুনিক, উদার ও গণতান্ত্রিক দল এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বিএনপি কোনো নিউজ কন্ট্রোল করে না, গণমাধ্যমকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। যতবার বাংলাদেশের মানুষ নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবার বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক-ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। তরুণ নেতৃত্বের কাছ থেকে মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। জনগণ এখন বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চায়। পাঁচ বছর পর জনগণই সরকারের কর্মকাণ্ডের বিচার করবে এবং কারা দেশ পরিচালনা করবে, সেই সিদ্ধান্তও জনগণই নেবে।

তিনি বলেন, ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফিশারিজ খাতেও ৫০০টির বেশি পদের অনুমোদন হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এর আগে ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণার কার্যকর প্রয়োগ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিএসভিইআরের ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিচিকিৎসক, নীতিনির্ধারক, প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ১৬টি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১১৬টি মৌখিক এবং ২০২টি পোস্টার উপস্থাপনা রয়েছে।

বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ. কে. এম. খসরুজ্জামান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানাসহ বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক জাতের পাশাপাশি দেশের পরিবেশ ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার উপযোগী জাত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশি গরু যেন গড়ে চার লিটার দুধ, দেশি ছাগল এক লিটার দুধ এবং মুরগি বছরে ন্যূনতম ১৫০টি ডিম দিতে পারে; এমন জাত উন্নয়নে গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। এছাড়া, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এক দশকে ব্ল্যাকপিংক, দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চার সদস্য একসঙ্গে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
এক দশকে ব্ল্যাকপিংক, দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চার সদস্য একসঙ্গে

২০১৬ সালের ৮ আগস্ট ‘হুইসেল’ ও ‘বুমবায়াহ’ গান দিয়ে কে-পপের দুনিয়ায় যাত্রা শুরু করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গার্ল গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দলটির পথচলার এক দশক পূর্ণ হলো। বিশেষ এই দিনটি একসঙ্গে উদ্‌যাপন করছেন জিসু, জেনি, রোজে ও লিসা।

দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ভক্তদের সঙ্গে ছোট পরিসরে দেখা করার আয়োজন করেছে ব্ল্যাকপিংক। অনুষ্ঠানের স্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচিত ৪০ জন ভক্ত এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেখানে চার সদস্যেরই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ভক্তদের সামনে দীর্ঘ সময় পর আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে ব্ল্যাকপিংকের চার সদস্যকে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিউলের উপকণ্ঠ গোয়াংয়ে ‘ডেডলাইন’ বিশ্বভ্রমণের একটি কনসার্টে একসঙ্গে মঞ্চে উঠেছিলেন তাঁরা।

দশ বছরের পথচলায় ব্ল্যাকপিংক শুধু কে-পপেই নয়, আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি ফ্যাশন, বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ও বিজ্ঞাপনের জগতেও চার সদস্যের আলাদা প্রভাব তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘বর্ন পিংক’ ব্ল্যাকপিংকের ক্যারিয়ারে বড় মাইলফলক হয়ে আসে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে ওঠে। এর মাধ্যমে কোনো নারী কে-পপ শিল্পীর অ্যালবাম হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করে দলটি। যুক্তরাজ্যের অফিশিয়াল অ্যালবাম চার্টেও শীর্ষস্থান দখল করে ‘বর্ন পিংক’।

দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রকল্প হিসেবে তৃতীয় ইপি ‘ডেডলাইন’ প্রকাশ করে ব্ল্যাকপিংক। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এ অষ্টম অবস্থান অর্জন করে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে ব্ল্যাকপিংক। দল হিসেবে চার সদস্যই ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি বজায় রাখলেও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা।

জেনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রতিষ্ঠান অড অ্যাটেলিয়ার। লিসা শুরু করেন লাউড। জিসু প্রতিষ্ঠা করেন ব্লিসু। অন্যদিকে রোজে যুক্ত হন দ্য ব্ল্যাক লেবেলের সঙ্গে।

একক ক্যারিয়ারেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন চার শিল্পী। রোজে ও ব্রুনো মার্সের ‘আপাতে’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটির মাধ্যমে রোজে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পাওয়া প্রথম কে-পপ শিল্পী হন।

জেনির প্রথম একক অ্যালবাম ‘রুবি’ তাঁর একক শিল্পী হিসেবে অবস্থান আরও শক্ত করে। টেম ইমপালার সঙ্গে করা ‘ড্রাকুলা’ গানটিও জায়গা করে নেয় বিলবোর্ড হট ১০০-এ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজেদের পরিচিতি বাড়িয়েছেন ব্ল্যাকপিংকের সদস্যরা। জিসু অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করছেন। লিসা অভিনয় করেছেন এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেন তিনি।

দশ বছর পূর্তিতে চার সদস্যের এই একসঙ্গে উদ্‌যাপন তাই শুধু ভক্তদের জন্য নয়, ব্ল্যাকপিংকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরও একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ