খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঁচ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা

অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১১ থেকে ১২ জুলাই দেশের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এসময় কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাণিতিক মডেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী অতি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা, জরুরি বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা এবং দ্রুত জনগণের মধ্যে সতর্কবার্তা প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও বসতি থেকে দ্রুত নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পূর্বাভাসে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, মোমবাতি, ম্যাচ, অন্তত তিন দিনের কাপড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে রাখা ও পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবার, প্রতিবেশী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি নদী ও ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ঘরের আশপাশের নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা এবং গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

মাংসের বাজারে নেই স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
মাংসের বাজারে নেই স্বস্তি

মাছ ও মুরগির বাজারে দামের ওঠানামা থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের বাজারে নেই কোনো স্বস্তি। গত বছরের শেষ দিকে এক দফা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বাড়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কমেনি মাংসের দাম। ফলে উচ্চমূল্যেই গরু ও খাসির মাংস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরু ও খাসির মাংসের দাম কয়েক মাস ধরেই একই অবস্থানে রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গবাদিপশু কেনার খরচ, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দাম কমারও সুযোগ নেই।

যাত্রাবাড়ীর মাংস বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবারই মাংসের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। কর্মব্যস্ত মানুষ এদিন বাজার করেন, আবার অনেক পরিবারে শুক্রবার বিশেষ রান্নার আয়োজন থাকে। তবে দাম বেশি থাকায় অনেকেই আগের মতো পরিমাণে মাংস কিনছেন না।’

শ্যামবাজারে আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রেতারা দাম নিয়ে অভিযোগ করেন, কিন্তু আমাদেরও বেশি দামে গরু কিনতে হয়। তাই কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই।’

রাজধানীর নারিন্দার বাসিন্দা রাব্বি মিয়া বলেন, ‘সাত-আট মাস আগে এক লাফে মাংসের দাম অনেক বেড়েছিল। এরপর এতদিনেও কমেনি। শুক্রবার বাসায় অতিথি আসে, বাচ্চারাও মাংস খেতে চায়। তাই ইচ্ছা না থাকলেও কিনতে হয়।’

গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, ‘আগে মাসে কয়েকবার গরুর মাংস রান্না হতো। এখন দাম বেশি হওয়ায় অনেক হিসাব করে কিনতে হয়। খাসির মাংস তো প্রায় কেনাই ছেড়ে দিয়েছি।’

ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হলেও বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বাজার তদারকি বাড়িয়ে মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ট্রেনের ৪ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ট্রেনের ৪ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনে প্রবেশের আগে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটির ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, গফরগাঁও স্টেশনে প্রবেশের ঠিক আগে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এরপর ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা নওফলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা নওফলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ

নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ৬-৭ জনের একটি দল তার বাসভবন লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে আগুনের সূত্রপাত হলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

এসময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম নগরের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী।

গত দুই বছরে চশমা হিলের এই বাসভবনে এবারসহ চার দফায় হামলা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল থেকে প্রথম দফায় হামলা চালানো হয়।

ওই বছরের ৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বাড়িটি খালি পড়ে আছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসার ভেতরে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গত বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তা দেন ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা। সেই অনুষ্ঠানে নওফেলও অংশ নেন। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ঘটনার জেরেই বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি