খুঁজুন
                               
, ,
           

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার (১০জুলাই)দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয়  সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি  সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ  মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

১১ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
১১ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও সমন্বয় করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্বর্ণের এ নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে শনিবারও নতুন এই দামেই বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই বস্তুটি।

নতুন দাম অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণ ভ্যাটসহ (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সবশেষ গত ৯ জুলাই সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়; যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন দুপুর সোয়া ১২টা থেকেই।

দেশের বাজারে এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪৪ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৪ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বারস্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আজকে সোনা-রুপার দাম কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আজকে সোনা-রুপার দাম কত?

দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার টাকার কিছু বেশি দামে। আর কম দামি বা সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ টাকার ওপরে। ভালো মানের রুপার গহনার ভরি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকার বেশি দামে।

দেশে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ১০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সোনার গহনা ও রুপার গহনার এই দাম নির্ধারণ করে। আবার নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই দামেই দেশে সোনার গহনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে।

বাজুস নির্ধারণ করা দর অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

অন্যদিকে. ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে ৪ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ ১১ জুলাই। ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো ৯০টি দেশে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। এরই ধারবাহিকতায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি