খুঁজুন
                               
, ,
           

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার (১০জুলাই)দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয়  সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি  সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ  মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভী দাবি করেছেন, তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং একসময় তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। তবে শাবনূরের দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, বাস্তবে বিয়ে না হয়ে হয়তো তাঁদের ‘স্বপ্নের বাসর’ই হয়েছিল।

শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে রিজভীর বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী বলেছেন, শাবনূরের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা কখনো প্রকাশ করতে পারেননি। তবে মনে মনে তাঁকে এতটাই ভালোবাসতেন যে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং এখনো চান।

অন্যদিকে, একই সময়ের কাছাকাছি সময় টিভিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রিজভী দাবি করেছেন, শাবনূর তাঁর সাবেক প্রেমিকা ছিলেন।

রিজভীর বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালে শাবনূরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং দুই বছর পর, ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন শাবনূর। তাঁর প্রশ্ন, রিজভী যদি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকেন এবং ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে না এসে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল?

শাবনূর আরও জানান, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। তাঁর দাবি, ওই সময়ের অনেক আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন। রিজভীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাঁকে তিনি কখনো দেখেছেন বা চিনেছেন বলেও মনে করতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গেই রসিকতার সুরে শাবনূর লিখেছেন, রিজভীর বক্তব্য শুনে তাঁর মনে হচ্ছে, তাঁদের বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি; হয়তো হয়েছিল শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’।

রিজভীর বক্তব্যের আরেকটি অংশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শাবনূর। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি সালমান শাহর মৃত্যুর জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাবনূর।

এই অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, রিজভীর নাম তিনি প্রথম শোনেন সালমান শাহর মৃত্যুর পর। তখন সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল।

শাবনূরের প্রশ্ন, যদি রিজভীকে তিনি আগে চিনতেনই না, তাহলে কীভাবে তিনি দাবি করছেন যে শাবনূর সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন?

শাবনূরের বিরুদ্ধে সালমান শাহ ও তাঁর স্ত্রী সামিরার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির জন্য একে অন্যের কথা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শাবনূরের দাবি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কেউ কখনো বলতে পারবেন না যে তিনি কারও সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেছেন।

নিজের পরিবার থেকেও এমন আচরণের শিক্ষা পাননি বলে উল্লেখ করে শাবনূর বলেন, চলচ্চিত্রজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এ ধরনের কাজ করার সময়ও তাঁর ছিল না।

নিজের পোস্টে রিজভীর অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তাঁর দাবি, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ একসময় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন।

সেই সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থের বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে শাবনূর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

তবে দীর্ঘ সময় পর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতে রিজভী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন শাবনূর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুকে হত্যা নয়, আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকেও দায়ী করেছেন তিনি।

শাবনূরের দাবি, সাম্প্রতিক এসব বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তাঁকেও সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাবনূরের পোস্টের পর তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের অনেকে মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ সত্য তুলে ধরার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ লিখেছেন, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায়।

রিজভী আহমেদের বক্তব্য এবং শাবনূরের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই আপাতত বিতর্ক সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

থম্পসনের ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
থম্পসনের ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে ক্যাম্পবেল থম্পসন এখনো বড় কোনো পরিচিত নাম নন। জাতীয় দলে তো খেলেনইনি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তাঁর অভিজ্ঞতা মাত্র একটি ম্যাচের। অথচ এই অনভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসারই ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে একাই হয়ে উঠলেন বড় আতঙ্ক।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৮ উইকেট নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী থম্পসন। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

থম্পসন খুব দ্রুতগতির পেসার নন। তবে তাঁর শক্তি হলো নিখুঁত লাইন-লেন্থ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করার দক্ষতা। নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি স্টাম্প বরাবর আক্রমণাত্মক বোলিং করতে পারেন তিনি।

ডারউইনের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে এই কৌশলই দারুণভাবে কাজে দিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে অমিত হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ছাড়া বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যানই থম্পসনের শিকার হয়েছেন।

সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম কিংবা নাজমুল হোসেন—কেউই তাঁকে সামলাতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছেন শুধু তানজিদ হাসান। ওপেনার করেন ২২ রান।

থম্পসনের সঙ্গে কোরি রোচিচ্চিওলি দুটি উইকেট না নিলে তাঁর শিকারসংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও থম্পসন নিজের কৃতিত্বকে খুব বড় করে দেখেননি। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, এদিন ভাগ্যও তাঁর পক্ষে ছিল।

তবে তাঁর বোলিং যে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল না, সেটিও স্পষ্ট তাঁর কথায়। ম্যাচের সকালে বোলিং পরিকল্পনা ঠিক করে নিয়েছিলেন তাঁরা। নতুন বল কাজে লাগানো, সুইং করানো এবং স্টাম্পে আঘাত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে দেয়।

গত মৌসুমে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় থম্পসনের। তার আগে প্রাইম মিনিস্টার্স একাদশের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে কাপ ও শেফিল্ড শিল্ডেও খেলেছেন এই তরুণ। শেফিল্ড শিল্ডে উসমান খাজার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকেও চাপে ফেলেছিলেন তিনি।

তবে গত মৌসুমের শেষটা ভালোভাবে করতে পারেননি থম্পসন। ওয়ানডে কাপের একটি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর পুনর্বাসন শেষে প্রাক্-মৌসুমের প্রস্তুতিতে ফেরেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি দূরের পরিকল্পনা করছেন না তিনি। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চান এই তরুণ পেসার।

থম্পসনের ৮ উইকেট বাংলাদেশের জন্য শুধু প্রস্তুতি ম্যাচের একটি দুঃস্বপ্ন নয়, বরং টেস্ট সিরিজের আগেও বড় সতর্কবার্তা।

১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে অপেক্ষা করছে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের পেস আক্রমণ।

প্রস্তুতি ম্যাচে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ এক পেসারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং যেখানে মাত্র ৫৪ রানে ভেঙে পড়েছে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মূল পেস আক্রমণের সামনে কাজটি যে আরও কঠিন হবে, তা বলাই যায়। টেস্টের আগে তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাজ হবে ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নেওয়া।

কালের আলো/এসএ

শেখ হাসিনার লাল ফোনে কান পাতলেন নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার লাল ফোনে কান পাতলেন নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও অন্য নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতারা।

শনিবার (০৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জুলাই জাদুঘরে যান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ। তখনো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি জাদুঘর।

নাহিদের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, মাহিন সরকার, সারোয়ার তুষার, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ কয়েকজন। তারা ঘুরে ঘুরে জাদুঘরের নানা কক্ষ দেখেন। এক পর্যায়ে জাদুঘরের লাল টেলিফোন কক্ষে যান তারা। এ সময় লাল টেলিফোনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কথোপকথনের অডিও শুনতে দেখা যায় তাদের। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদও লাল টেলিফোনে কান পাতেন। নম্বর ডায়াল করে শোনেন শেখ হাসিনার কথোপকথন।

একসময় এই কক্ষটি ছিল শেখ হাসিনার অফিসকক্ষ। সেখানে তিনটি আলাদা টেবিলে আছে ছয়টি লাল টেলিফোন। সঙ্গে তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নাম ও নম্বরের তালিকা। নির্দিষ্ট নম্বরে ডায়াল করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনা যায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত। এই জাদুঘরে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের বর্ণনাসংবলিত গ্রাফিতি, আলোকচিত্র, প্রতীকী কবর এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন আইকনিক ছবির আদলে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ভাস্কর্য।

জাদুঘরের ফটকে রয়েছে থ্রিডি প্রজেকশনে গণভবনের ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি। একটি কক্ষে ছিল শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপকর্ম ও ভূমিকার সংক্ষিপ্ত অ্যানিমেশন ভিডিও। আরেকটি কক্ষের মেঝেতে শক্ত কাচের নিচে আছে ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতার হাতে চুরমার হওয়া গণভবনের ইট-পাথর, কাচ ইত্যাদি।

সেখানে আওয়ামী লীগ শাসনামলের বিভিন্ন আলোকচিত্র, গণভবন থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ফাইলের কপিও আছে। আরও আছে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতীকী উপস্থাপন। রাজনৈতিক দলের ওপর দমন-পীড়নের বিভিন্ন আলোকচিত্রও রাখা হয়েছে। জাদুঘরের আরেকটি অংশে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগ শাসনামলের ভয়াবহ নির্যাতন ও গুমের চিত্র।

জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষের দেয়ালে ছিল অভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ। নাহিদ তার সঙ্গীদের নিয়ে কিছুক্ষণ সেই ভিডিওগুলো দেখেন। ওখানে আরও আছে কার্টুনিস্ট দেবাশিস চক্রবর্তীর তৈরি করা জুলাইয়ের পোস্টারের সংগ্রহ। আছে জুলাইয়ের টাইমলাইনও। পাশাপাশি স্থান পেয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকাসংক্রান্ত বিভিন্ন আলোকচিত্র।

এভাবে পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখেন নাহিদসহ এনসিপি নেতারা। পরে প্রবেশ করেন জাদুঘর কার্যালয়ে। সেখানে কিছুক্ষণ আলোচনার পর বেলা ১১টার দিকে জাদুঘরের মূল ফটকে সংবাদ সম্মেলন করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ