খুঁজুন
                               
, ,
           

একটি মহল আবার দেশকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
একটি মহল আবার দেশকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

চারদিকে যখন নতুন করে দেশ গড়ার আন্দোলন শুরু হতে যাচ্ছে, সে সময় একটি মহল আবার দেশকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে ওপরে উঠতে থাকলেই একটি মহল নানা চক্রান্তের মাধ্যমে দেশকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অতীতেও দেখেছি, যখন দেশ ওপরে উঠতে থাকে, তখনই একটা মহল জাতীয়-অন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে আবার সেটাকে পেছনে ফিরিয়ে দেয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন একটা সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকারে গিয়ে সংসদের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাই, তখন সেই মহলটি রাজপথে নেমে একেবারে অন্যায়ভাবে তারা এই কাজটি করছেন দেশকে আবার একটা অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন দেশ ধ্বংস করে দেয়, সেই ধ্বংসের পরে, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্বটা বিএনপির ওপরে পড়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান একইভাবে ১৯৭৫ সালে সেই ধ্বংস স্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলেছিলেন, একইভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দেশকে গড়ে তুলেছেন, আজকে আবার এ দায়িত্বে এসে পড়েছে তাদেরই পুত্র তারেক রহমানের দিকে ওপর।’

চিকিৎসা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তার ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

এর আগে সকালে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদরাসাশিক্ষার্থী নিহত

৩ ঘণ্টার অবরোধে ১৫ কিলোমিটার যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
৩ ঘণ্টার অবরোধে ১৫ কিলোমিটার যানজট

গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়াসিন আলী (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অবরোধের ৩ ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তিন ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করছেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরআগে, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে আন্দোলন শুরু হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শনিবার রাতে সড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ড ভ্যান মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে চাপা দিলে তার মৃত্যু হয়।

সড়কে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি বন্ধে আধুনিক ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং স্থাপন এবং মহাসড়কে সার্বক্ষণিক একজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সড়ক অবরোধের পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঢাকা পোস্টকে জানান, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করেছে। তাদের সাথে কথা বলে দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচল করছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায়  মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যানের চাপায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৫) নিহত হয়।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

প্রকাশ্যে ‘টক্সিক’–এর ট্রেলার, ইয়াশকে দেখা যাবে দুই চরিত্রে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
প্রকাশ্যে ‘টক্সিক’–এর ট্রেলার, ইয়াশকে দেখা যাবে দুই চরিত্রে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে কন্নড় তারকা ইয়াশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’–এর ট্রেলার। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ট্রেলারে অ্যাকশন, রক্তপাত, বিস্ফোরণ ও প্রতিশোধের পাশাপাশি উঠে এসেছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের নানা ইঙ্গিত। একাধিক চরিত্রে ইয়াশের উপস্থিতি সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

১৯৮০-এর দশকের গোয়াকে পটভূমি করে নির্মিত হয়েছে ‘টক্সিক’। ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যায়, ইয়াশের অভিনীত একটি চরিত্রের সঙ্গে তাঁর ছেলের জটিল সম্পর্ক। এরপর একের পর এক সহিংস ও বিস্ফোরক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে গল্পের বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হয়।

সিনেমায় ইয়াশকে রায়া ও রুমি—দুই চরিত্রে দেখা যাবে। ট্রেলার থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, বাবা-ছেলের আদর্শগত সংঘাত গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একপর্যায়ে রায়া ও টক্সিককে মুখোমুখি সংঘর্ষেও দেখা যায়। ফলে তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত গল্পকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

‘টক্সিক’–এ ইয়াশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি ও রুক্মিণী বসন্ত।

কিয়ারাকে নাদিয়া, নয়নতারাকে গঙ্গা, হুমা কুরেশিকে এলিজাবেথ, তারা সুতারিয়াকে রেবেকা এবং রুক্মিণী বসন্তকে মেলিসা চরিত্রে দেখা যাবে।

ট্রেলারের বিভিন্ন দৃশ্যে নারীবিদ্বেষ, রাগ, লোভ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে। ইয়াশের সঙ্গে কিয়ারা ও তারা সুতারিয়ার চরিত্রের সম্পর্কেরও নানা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে সিনেমার গল্প নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘টক্সিক’–এর নতুন গান ‘মানমোহকা’। গানটিতে ইয়াশের সঙ্গে কিয়ারা ও তারা সুতারিয়াকে দেখা গেছে। তিন চরিত্রের মধ্যকার জটিল সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে গানটির দৃশ্যায়নেও।

এর আগে প্রকাশিত ‘তাবাহি’ গানটিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। বিশেষ করে ইয়াশ ও কিয়ারার রসায়ন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

গীতু মোহানদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’ সিনেমাটি কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় ধারণ করা হয়েছে। পরে হিন্দি, তেলেগু, তামিল ও মালয়ালমসহ আরও কয়েকটি ভাষায় ডাব করে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হয় দৃশ্যধারণ। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, গোয়া, তুতিকোরিন ও জয়পুরের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।

ভেঙ্কট কে. নারায়ণ ও ইয়াশের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটি আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ভারতীয় আম্পায়ার ছাড়াই হকি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ভারতীয় আম্পায়ার ছাড়াই হকি

প্রায় তিন দশক পর বিরল এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারতীয় হকি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় আম্পায়ার ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হকি বিশ্বকাপ।

সবশেষ ১৯৯৮ সালে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোনো ভারতীয় আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। এবারও নেদারল্যান্ডসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নেই ভারতের কোনো আম্পায়ার।

আগামী ১৪ আগস্ট নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের যৌথ আয়োজনে শুরু হবে হকি বিশ্বকাপের ১৬তম আসর। টুর্নামেন্টের ‘ডি’ পুলে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সঙ্গে খেলবে ভারত। ১৫ আগস্ট ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা।

হকির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই অন্তত একজন ভারতীয় আম্পায়ার ছিলেন। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ সালের আসর।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র চারজন ভারতীয় আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন অমরজিত সিং বাওয়া, তারলক সিং ভুলার, সতীন্দর শর্মা ও রঘু প্রসাদ।

অমরজিত সিং বাওয়া ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে দায়িত্ব পালন করেন তারলক সিং ভুলার। সতীন্দর শর্মা ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে আম্পায়ার ছিলেন। আর রঘু প্রসাদ ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেন।

ভারতীয় আম্পায়ারিংয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি রঘু প্রসাদ। এশিয়ার প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ২০০টি আন্তর্জাতিক হকি ম্যাচ পরিচালনার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর গত বছর বাঁশি তুলে রাখেন তিনি।

রঘু প্রসাদের অবসরের পর ভারতীয় হকির আম্পায়ারিংয়ে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্যানেলভুক্ত আম্পায়ারের ঘাটতিই এবার বিশ্বকাপের আম্পায়ারিং প্যানেলে ভারতের প্রতিনিধিত্ব না থাকার অন্যতম কারণ।

আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) ঘোষিত ১৬ সদস্যের আম্পায়ারিং প্যানেলে ইউরোপীয় আম্পায়ারদের প্রাধান্য রয়েছে। সেখানে কোনো ভারতীয় আম্পায়ারের নাম না থাকায় দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে।

ভারতের জন্য বিষয়টি আরও হতাশার, কারণ ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দেশটির কোনো আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন না।

একদিকে বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের অংশগ্রহণ থাকছে, অন্যদিকে আম্পায়ারিংয়ে থাকছে না কোনো প্রতিনিধিত্ব। ফলে ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ভারতীয় হকির জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক বিরল ও হতাশাজনক অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ