খুঁজুন
                               
, ,
           

ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চলছে, দাবি ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চলছে, দাবি ফিফার

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শনিবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু অভিযোগ ও সংবাদে ‘ভিত্তিহীন দাবি’ এবং ‘প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য’ রয়েছে।

একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে ফিফার গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে কিছু পক্ষ ফিফা ও এর সভাপতিকে দুর্বল করার জন্য সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সংস্থাটির ভাষ্য, ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন না থাকা কোনো পক্ষ অভিযোগ, ইঙ্গিত কিংবা ভুল তথ্যের মাধ্যমে এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করতে পারে না, যা ফিফার নির্ধারিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়।

২০২৭ সালে ফিফা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ইনফান্তিনো। তাঁর নেতৃত্বের বিরোধিতায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সরব ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

ফিফার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ ও এএফসির আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।

তবে এরপরও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার আপত্তি থামেনি। এমনকি ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে ইউরোপীয় সংস্থাটি।

এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর দাবি, উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে উয়েফা ছাড়ার সময় ওই নারীকে সংস্থাটি বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। উয়েফার বর্তমান প্রশাসন অর্থপ্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এসব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষাপটেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইনফান্তিনো এবং তাঁদের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিফার ভাষায়, ইনফান্তিনোকে সরানো বা তাঁর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করার কোনো উদ্যোগ যদি নেওয়া হয়, সেটি অবশ্যই সংস্থার গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠিত পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সাম্প্রতিক সংবাদ ও অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। সংস্থাটির দাবি, কিছু প্রতিবেদনে ফিফা ও এর সভাপতিকে নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে এবং অনুমান ও ইঙ্গিতকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো অভিযোগ বারবার বলা হলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না।’

ফিফা আরও জানিয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো মেনে নেওয়া হবে না। কোনো প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা তার ‘সরাসরি ও কঠোর প্রতিবাদ’ করবে।

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ তৈরি হলেও ইনফান্তিনো পুরোপুরি একা নন। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল জানিয়েছে, দ্রুত কোনো প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে সরানোর উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে না।

আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)ও ইনফান্তিনোর প্রতি ‘সর্বসম্মত সমর্থন’ জানিয়েছে।

ফলে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উয়েফার অবস্থান, অন্যদিকে কনমেবল ও সিএএফের সমর্থন—সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

মাঠে খেলা শুরুর আগেই শুরু হয়েছে সমর্থকদের লড়াই। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে রাখতে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে চালু হয়েছে ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ঘিরে দর্শক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজকেরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে আলোচনায় আসা এই ভোটিং কার্যক্রমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভোট দিতে পারবেন সমর্থকেরা। ভোটগ্রহণ চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ভোট দিতে ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। একটি ই-মেইল ঠিকানা থেকে দেওয়া যাবে মাত্র একটি ভোট। এ ক্ষেত্রে ই-মেইল যাচাই কিংবা পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ভোটের সর্বশেষ অবস্থান জানতে ওয়েবসাইটের ‘ফ্যান কাপ লিডারবোর্ড’ দেখার সুযোগও থাকছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মোট ভোট, শতকরা হার এবং প্রতিদিনের ভোটের হিসাব দেখা যাবে।

২৫ অক্টোবর শুরু মাঠের লড়াই

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আগামী ২৫ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবিজি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হবে ক্রিকেট ও ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা। ফ্লাডলাইটের আলোয় রাতে অনুষ্ঠিত হবে দুই খেলার ম্যাচগুলো।

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফেয়ারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

চ্যাম্পিয়নদের জন্য ১০ লাখ টাকা

ক্রিকেট ও ফুটবলে পৃথক প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দল। প্রতিটি খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকেরা।

পুরস্কারের পাশাপাশি পেশাদার পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

অধিনায়কদের নিয়ে ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’

টুর্নামেন্ট সামনে রেখে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান, উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, টি স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ইকরাম হোসেন রাফি। এ ছাড়া ক্রিকেট ও ফুটবলে অংশ নিতে যাওয়া ২০টি দলের অধিনায়ক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অংশগ্রহণকারী অধিনায়কেরা জানান, পেশাদার পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের এমন সুযোগ তাঁদের জন্য গর্বের। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি করবে বাড়তি উন্মাদনা।

কালের আলো/জেএন

জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) মাস্কের এই মন্তব্য সামনে আসে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে এবং ডিজেলের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ

শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটন একাধিকবার কিয়েভকে সতর্ক করলেও ইউক্রেন সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুদ্ধ বন্ধের সুযোগও জেলেনস্কি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিয়েভকে ছয়বার সতর্ক করার দাবি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত থাকতে ইউক্রেনকে অন্তত ছয়বার অনুরোধ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এসব অনুরোধের পরও হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপ কমাতে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে কিয়েভ। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্টারলিংক নিয়েও বাড়ছে দূরত্ব

মাস্ক ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি নতুন নয়। ইউক্রেনের যুদ্ধে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, সেনা ইউনিটগুলোর সমন্বয় এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে স্টারলিংক ব্যবহারের বিষয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছেন মাস্ক। ২০২২ সালে ক্রিমিয়ার কাছে রুশ নৌবহর লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্টারলিংক পরিষেবা সম্প্রসারণে তিনি সম্মতি দেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাস্কের যুক্তি ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপে স্পেসএক্স সরাসরি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যুদ্ধের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্টারলিংক ব্যবহারের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য আরও সামনে এসেছে।

ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংকের গুরুত্ব বিবেচনায় মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি দেশটির সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: আরটি, অ্যাক্সিওস ও দ্য আটলান্টিক।

কালের আলো/জেএন

শিক্ষামন্ত্রী

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি কারিকুলামে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে নিজস্ব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সমমানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার সর্বস্তরে সমতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কার্যকর পাঠদান জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের ৫০ নম্বর ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের জন্য ভর্তির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নুরুল ইসলাম জানান, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুযোগ সীমিত। তাঁদের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম দেশের উচ্চশিক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি