খুঁজুন
                               
, ,
           

ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চলছে, দাবি ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চলছে, দাবি ফিফার

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শনিবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু অভিযোগ ও সংবাদে ‘ভিত্তিহীন দাবি’ এবং ‘প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য’ রয়েছে।

একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে ফিফার গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে কিছু পক্ষ ফিফা ও এর সভাপতিকে দুর্বল করার জন্য সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সংস্থাটির ভাষ্য, ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন না থাকা কোনো পক্ষ অভিযোগ, ইঙ্গিত কিংবা ভুল তথ্যের মাধ্যমে এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করতে পারে না, যা ফিফার নির্ধারিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়।

২০২৭ সালে ফিফা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ইনফান্তিনো। তাঁর নেতৃত্বের বিরোধিতায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সরব ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

ফিফার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ ও এএফসির আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।

তবে এরপরও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার আপত্তি থামেনি। এমনকি ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে ইউরোপীয় সংস্থাটি।

এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর দাবি, উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে উয়েফা ছাড়ার সময় ওই নারীকে সংস্থাটি বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। উয়েফার বর্তমান প্রশাসন অর্থপ্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এসব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষাপটেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইনফান্তিনো এবং তাঁদের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিফার ভাষায়, ইনফান্তিনোকে সরানো বা তাঁর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করার কোনো উদ্যোগ যদি নেওয়া হয়, সেটি অবশ্যই সংস্থার গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠিত পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সাম্প্রতিক সংবাদ ও অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। সংস্থাটির দাবি, কিছু প্রতিবেদনে ফিফা ও এর সভাপতিকে নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে এবং অনুমান ও ইঙ্গিতকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো অভিযোগ বারবার বলা হলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না।’

ফিফা আরও জানিয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো মেনে নেওয়া হবে না। কোনো প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা তার ‘সরাসরি ও কঠোর প্রতিবাদ’ করবে।

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ তৈরি হলেও ইনফান্তিনো পুরোপুরি একা নন। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল জানিয়েছে, দ্রুত কোনো প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে সরানোর উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে না।

আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)ও ইনফান্তিনোর প্রতি ‘সর্বসম্মত সমর্থন’ জানিয়েছে।

ফলে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উয়েফার অবস্থান, অন্যদিকে কনমেবল ও সিএএফের সমর্থন—সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থেকে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও রুহুল কবীর রিজভী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)।

প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখতে পাবেন যে ৬ সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখতে পাবেন যে ৬ সিনেমা

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘একল সেকাল’। শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।

আজ বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হবে। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। এরপর রাত ৮টায় দেখানো হবে জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ১০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হবে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। রাত ৮টায় থাকছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত ‘মাস্তুল’।

শেষ দিন ১১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হবে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘দুই পয়সার আলতা’। সমাপনী প্রদর্শনী হিসেবে রাত ৮টায় দেখানো হবে আকাশ হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। উৎসবের সব প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।

উৎসবকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের একাল সেকাল’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সেমিনারকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আকতানিন খায়ের তানিন। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম কচি, নির্মাতা মতিন রহমান, শাহীন দিল-রিয়াজ, মোহাম্মদ নূরুজ্জামান ও এস এম ইমরান হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।

সেমিনারে স্বাধীন নির্মাতাদের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও নির্মাণের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ক্রমাগত সিঙ্গেল স্ক্রিন কমে যাওয়ায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনগুলোকে নিয়মিত বিকল্প সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুধু উৎসবের সময় নয়, সারা বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাধীন ও নবীন নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে কনটেন্ট ব্যাংক তৈরি, ঢাকার বাইরের প্রদর্শনীতে নির্মাতাদের যুক্ত করা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ফিল্ম সোসাইটিগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খোলা মাঠ বা উন্মুক্ত মঞ্চে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, অনলাইন প্রচারণা বাড়ানো এবং ব্যয় কমাতে ছোট কক্ষ বা উন্মুক্ত স্থান ব্যবহারের প্রস্তাবও আসে।

নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যয় মেটাতে ১০ থেকে ২০ টাকা টিকিট চালু এবং স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন ন্যূনতম ভাড়ায় দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

সেমিনারে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী। তিনি বলেন, স্বাধীন নির্মাতাদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর বিভাগ একাত্ম।

দীপক কুমার গোস্বামী জানান, দেশের বিভিন্ন শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম ও হলগুলো চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উপযোগী করতে সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন ও ভালো পর্দার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নাট্যদলগুলো যেভাবে মিলনায়তন ব্যবহারে রেয়াত পায়, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ক্ষেত্রেও ভাড়ায় রেয়াত দেওয়ার বিষয়টি পরিষদে তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, চলচ্চিত্র বিভাগ আলাদা করার প্রস্তাব সম্প্রতি সংসদে পাস হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকও নির্দেশনা দিয়েছেন।

কালের আলো/এসএ

এবার ‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমাটির নগ্নতার দৃশ্যও বাদ দিলেন পরিচালক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
এবার ‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমাটির নগ্নতার দৃশ্যও বাদ দিলেন পরিচালক

বছরে মাত্র এক রাত। সেই রাতে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক বৈধ। বছরের বাকি সময় তা নিষিদ্ধ। এমন অদ্ভুত এক সামাজিক নিয়মকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রোমান্টিক কমেডি ‘ওয়ান নাইট অনলি’। উইল গ্লাক পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই এর গল্প ও নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

‘ইজি এ’ ও ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’–এর মতো সিনেমার পরিচালক উইল গ্লাক এবার এমন একটি গল্প বেছে নিয়েছেন, যার ধারণাটি শুনলেই দর্শকের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বছরে একটি রাত কেন যৌন সম্পর্ক বৈধ? এই আইন কীভাবে কার্যকর হয়? কেউ আইন ভাঙলে কী হয়?—এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর অবশ্য সিনেমাটির মূল বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে জানা গেছে, গ্লাকের কাছে এই অদ্ভুত নিয়মটি মূলত গল্পের পটভূমি। তাঁর আসল আগ্রহ, এমন পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ কীভাবে নিজেদের জীবন ও সম্পর্ক সামলায়, সেটি দেখানো।

‘ওয়ান নাইট অনলি’র কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যালি। অভিনয় করেছেন মনিকা বারবারো। অ্যালি একজন উঠতি গায়িকা। সংগীতজগতে বড় সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই তরুণী আপাতত ওষুধের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়ে জীবিকা চালান।

অন্যদিকে ক্যালাম টার্নার অভিনীত ওয়েন একটি পিৎজার দোকানের মালিক। দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্থিতিশীল হলেও বিশেষ সেই রাতে তাঁর প্রেমিকা অন্য একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর নিউইয়র্ক শহরে শুরু হয় ১২ ঘণ্টার এক অদ্ভুত রাত। নানা বিশৃঙ্খলা ও হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্যে অ্যালি ও ওয়েন—দুই অপরিচিত মানুষ—বারবার একে অপরের মুখোমুখি হতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিই সিনেমাটির রোমান্স ও কৌতুকের মূল ভিত্তি।

গ্লাকের মতে, ছবির কাল্পনিক নিয়মগুলো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় গেলে সিনেমার মূল আনন্দ নষ্ট হতে পারে। অভিনেতারা বিভিন্ন টক শোতে গেলে তাঁদের অনেক সময় সিনেমার নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করতে হয়। অথচ পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি আসলে সেই নিয়ম নিয়ে নয়।

গ্লাকের লক্ষ্য ছিল এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেটি দর্শক অনুভব করবেন; কিন্তু সেই অদ্ভুত নিয়ম যেন গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে না ওঠে।

সিনেমাটির আরেকটি আলোচিত বিষয় যৌনতা ও নগ্নতার ব্যবহার। ভ্যারাইটি জানিয়েছে, শুটিংয়ের সময় ছবিতে আরও অনেক নগ্ন দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্পাদনার সময় সেগুলোর বড় অংশ বাদ দেন গ্লাক।

পরিচালকের পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত যৌনতা বা নগ্নতা অনেক সময় দর্শকের মনোযোগ গল্প থেকে সরিয়ে দেয়। বিশেষ করে এখন ব্যক্তিগত ফোন ও ঘরে বসে যৌন কনটেন্ট দেখার সুযোগ থাকায় সিনেমা হলে এ ধরনের দৃশ্যের দর্শক-অভিজ্ঞতাও বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

গ্লাকের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শক যখন চরিত্রের গল্পে মনোযোগী, তখন হঠাৎ অতিরিক্ত নগ্ন বা যৌন দৃশ্য দেখানো হলে তাঁদের মনোযোগ গল্প থেকে সরে যেতে পারে। দর্শকের এমন প্রতিক্রিয়া দেখেই একের পর এক দৃশ্য বাদ দিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে নিউইয়র্কের রাস্তায় ধারণ করা বেশ কিছু নগ্ন দৃশ্যও ছিল। পরিচালকের ধারণা ছিল, এসব দৃশ্য ছবির কাল্পনিক পৃথিবীকে আরও বাস্তব করে তুলবে। কিন্তু দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর অনেকটাই বাদ দেওয়া হয়।

যৌনতা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো নিরাপদ ও পেশাদার পরিবেশে ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সেটে একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডের বিভিন্ন অন্তরঙ্গ দৃশ্যে বাস্তব জীবনের দম্পতিদেরও অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়। তাঁদের কেউ বিবাহিত ছিলেন, কেউ শুটিংয়ের সময় সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন, আবার কেউ কেউ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

‘ওয়ান নাইট অনলি’র বেশ কিছু দৃশ্য নিউইয়র্কের বাস্তব লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। ফলে শুটিংয়ের সময় অভিনয়শিল্পীদের নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কখনো গাড়ির ভেতরে অভিনেতাদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় অভিনয় করতে হয়েছে। বাইরে থাকা পথচারীরা তখন স্বাভাবিকভাবেই থেমে দৃশ্য দেখতে থাকতেন। গ্লাকের কাছে এটিও ছিল সিনেমার বাস্তবতার অংশ। তাঁর যুক্তি, এমন ঘটনা সত্যিই ঘটলে নিউইয়র্কের মানুষও কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে থাকতেন।

ছবির কাল্পনিক পৃথিবীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও গ্রাফিতিও তৈরি করে শুট করা হয়েছে। এগুলো পরে কম্পিউটারে যুক্ত করা হয়নি।

ডানকিন, ডিউরেক্স, রেড বুল ও ইকুইনক্সের মতো ব্র্যান্ডের নামও সিনেমায় দেখা যায়। তবে এসব ব্র্যান্ডের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গ্লাক। বরং ছবির গল্প অনুযায়ী ব্র্যান্ডের নাম ও বিজ্ঞাপনের পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি নিতে হয়েছে।

অ্যালি চরিত্রটি শুরু থেকেই গায়িকা ছিল না। মনিকা বারবারোকে চূড়ান্ত করার পর চরিত্রটিকে গায়িকা হিসেবে নতুন করে গড়ে তোলেন গ্লাক।

পরিচালকের অভ্যাস হলো, কোনো অভিনেতাকে চূড়ান্ত করার পর তাঁর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনা। বারবারোর সঙ্গে কথা বলার পর তাঁর মনে হয়, অ্যালির গায়িকা হওয়াই চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত।

মজার বিষয়, বাস্তবে বারবারোর মঞ্চভীতি রয়েছে। তবে তাঁর কণ্ঠ ভালো হওয়ায় সেই বৈশিষ্ট্যও চরিত্রে ব্যবহার করেছেন পরিচালক।

ওয়েন চরিত্রটি একজন পিৎজা দোকানের মালিক হওয়ায় ক্যালাম টার্নারকে বাস্তবেই পিৎজা বানানো শিখতে হয়েছে। গ্লাক জানিয়েছেন, ক্যালাম টানা পাঁচ দিন একটি পিৎজার দোকানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তবে শুটিংয়ের সময় পিৎজা নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়তে হয় নির্মাতা দলকে। পিৎজা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় ক্যামেরায় ভালো দেখানোর জন্য বারবার নতুন পিৎজা বানাতে হয়েছে। অভিনেতারাও শুটিংয়ের সময় সত্যিকারের পিৎজা খেয়েছেন। একপর্যায়ে মনিকা ও ক্যালামকে বলতে হয়েছে, তাঁরা আর খেতে পারছেন না।

উইল গ্লাকের আগের সিনেমা ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’তে অভিনয় করেছিলেন সিডনি সুইনি ও গ্লেন পাওয়েল। বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাওয়া ওই সিনেমার দুই তারকার উপস্থিতিও রয়েছে ‘ওয়ান নাইট অনলি’তে।

তবে তাঁরা সরাসরি ক্যামিও করেননি। ব্যস্ত সময়সূচির কারণে তাঁদের দিয়ে প্রচলিত ক্যামিও করানো সম্ভব হয়নি। তাই ভিন্ন কৌশলে সিনেমায় তাঁদের যুক্ত করেছেন গ্লাক। বিষয়টি দর্শকের জন্য একটি মজার চমক হিসেবেই রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ