খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, সর্বত্র উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, সর্বত্র উৎসবের আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার (৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে যাবেন সরকারপ্রধান। সাড়ে ১০টার দিকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।

সেখান থেকে দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন স্থানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ত্রাণ বিতরণ ও ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেবেন।

সেখান থেকে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় যাবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান।

বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন তারেক রহমান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তাকে বরণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কক্সবাজারেও অন্যরকম আমেজ কাজ করছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোববার চট্টগ্রামে দলীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির। যেটি আবার দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সাংগঠনিক সভা।

তাই দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর ও সভাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা গেছে উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। আমার মনে হয় দু‘দিন ধরে তারা ঘুমোচ্ছে না। একটা সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর সব জায়গায়।’

তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়ন করার এই উদ্যোগ পুরো দলকে পুনরুজ্জীবিত ও নতুন গতিতে চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও।

তাদের মতে, সাংগঠনিক সভায় তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। অবশ্য উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কমিটি নেই। উত্তরের আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম আসেন। পরদিন পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন। এর আগে ২০০৫ সালে দুইবার চট্টগ্রাম এসেছেন তারেক রহমান। ওই বছরের ৬ মে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এর প্রায় তিন মাস পর একই বছরের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত জানুয়ারিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। গতবার সাংগঠনিক সভা করেননি, এবার করবেন।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভাটি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভা হবে, যেখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সাধারণত চেয়ারপার্সন ঢাকায় সেসব সাংগঠনিক সভা করেন সেখানে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ অংশ নেয়ার সুযোগ পান।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের সাংগঠনিক সভাগুলোর ভেন্যু থাকে রাজধানী ঢাকা। এসব সভায় জেলা বা মহানগরের সুপার ফাইভ-সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি,

সাধারণ সমাপদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে এবার সেই চর্চায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। এই সাংগঠনিক সভা দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা

কাজের সন্ধানে প্রতি বছরই অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করছেন হাজার হাজার বাংলাদেশী। এ কাজে জড়িত মানব পাচার চক্রটি পশ্চিম বলকান অঞ্চল ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। যেখানে যুক্ত আছে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীরা। অনেকে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও বেশির ভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীর ভাগ্যে নেমে আসে নির্মম পরিণতি। আইওএমের ডিটিএম পরিসংখ্যান বলছে, অনিয়মিত পথে ২০২৫ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন ২৪ হাজার ৩১৮ বাংলাদেশী।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। যাদের উল্লেখযোগ্য অংশই দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। ভাগ্য বদলাতে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে বাংলাদেশি তরুণদের এই আত্মহনন নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নৌকা ডুবে ৮ বাংলাদেশির সলিল সমাধি হয়। অন্যদিকে ২০১৪-২০২৪ এই ১০ বছরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রার পথে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ২৮৩ জন বাংলাদেশি। ইউরোপযাত্রার সবচেয়ে বিপজ্জনক রুটগুলোর একটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া। এ ছাড়া লিবিয়ায় অভিবাসী ও শরণার্থীদের আটকে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও নিয়মিত।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি প্রবেশ করেছেন। এই সময়ে কতজন মারা গেছে সেটির কোনো হিসেব নেই। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম মনে করে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের ১২ শতাংশ বাংলাদেশি।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাগরপথে ইতালি প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই শীর্ষ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ১৪ হাজার ২৮৪ জন, ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৭৭৪ জন, ২০২২ সালে ১৫ হাজার ২২৮ জন, ২০২১ সালে ৭ হাজার ৮৩৮ জন এবং ২০২০ সালে ৪ হাজার ১৪১ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢুকেছেন।

বাংলাদেশের চাকরির বাজার এখনও সংকীর্ণ। লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত বেকার কাজের আশায় পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে দিশেহারা হয়ে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু দালালের হাতে দিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। জীবিকার সন্ধানে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে সাগরে, মরুভূমিতে বা জঙ্গলে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আর যারা বেঁচে আছে তারা বিভিন্ন দেশে ফেরারি আসামি হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। হয়ত এক জীবনে তাদের মা-বাবা বা প্রিয় মানুষের মুখটি আর দেখা হবে না। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রচুর শিক্ষিত তরুণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেট্রল পাম্প, দোকান এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে শত কষ্ট সহ্য করেও কাজ করে যাচ্ছে।

জানা যায় ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের তরুণরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ পথে বেশি পাড়ি জমান। সমুদ্রযাত্রায় মৃত্যুর পাশাপাশি এসব রুটে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে অপহরণ ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার হারও অনেক বেশি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে কাউকে মাঝেমধ্যে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা সবসময়ই রয়ে যায় আড়ালে। আবার গ্রেফতারের পর অনেক সময় যথাযথ সাক্ষী না পাওয়া, মামলার দীর্ঘসূত্রতা, বাদীকে হুমকি-ধমকি কিংবা আদালতের বাইরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা আর শেষ পরিণতি পায় না।

কালের আলো/এম/এএইচ

সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

চার দিনের জন্য রোববার (৯ আগস্ট) সিঙ্গাপুরে সরকারি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিগত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের প্রথম সরকারি সিঙ্গাপুর সফর।

সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলকারনিয়ান বিন আবদুল রহিম এবং জনশক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দিনেশ ভাসু দাশের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থানীয় বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল এবং সে দেশের অন্যতম আধুনিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র টুয়াসওয়ান পরিদর্শন করবেন।

সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করেন, যারা তাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সিঙ্গাপুরে ‘রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।

এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বন্দর ও লজিস্টিকস সহযোগিতা, প্রযুক্তি, জনশক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

হরমুজ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা, চুক্তি হলেও এখনই নৌপথটি খুলছে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা, চুক্তি হলেও এখনই নৌপথটি খুলছে না ইরান

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ওমান। তবে সমঝোতা হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরও কয়েকটি শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

আলোচনা এগিয়ে চলছে বলে দুই পক্ষ জানালেও চুক্তি চূড়ান্ত হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে-এমন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে কি না, তা অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।’

বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত যে জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, সেই হরমুজ প্রণালি ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরান। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন পথ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই পথের নিরাপত্তার দায়িত্ব দুই দেশ যৌথভাবে পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া অন্যান্য কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তিনি এসব শর্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

তিনি বলেন, এসব শর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইরানের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধের অবসানে আলোচনা এগিয়ে নিতে গত জুনে দুই দেশ যে চুক্তি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র সেটি লঙ্ঘন করেছে।

‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা সমঝোতা স্মারক নামে পরিচিত ওই চুক্তিটি দ্রুত ভেস্তে যায়। কূটনৈতিক আলোচনাও ব্যর্থ হয় এবং চুক্তি সইয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়।

এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলকদর আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ ‘সংশোধন’ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয়টি দাবি পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘শিগগিরই’ হতে পারে। তবে শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক কাজ বাকি।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখনো খেলার মাঝামাঝি অবস্থায় আছি। বিষয়টি এখনো শেষ হয়নি।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মার্কিন জনগণের জন্য সর্বোত্তম ফল নিশ্চিত করতে আমরা কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক-সব ধরনের উপায় কাজে লাগাচ্ছি।’

ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর আগের মতোই উপসাগর থেকে ‘একই পরিমাণ তেল’ সরবরাহ হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মূলত এমন একটি ট্রাফিক ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি, যাতে জাহাজগুলো নিরাপদে প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারে।’ সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ