হরমুজ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা, চুক্তি হলেও এখনই নৌপথটি খুলছে না ইরান
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ওমান। তবে সমঝোতা হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরও কয়েকটি শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
আলোচনা এগিয়ে চলছে বলে দুই পক্ষ জানালেও চুক্তি চূড়ান্ত হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে-এমন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে কি না, তা অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।’
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত যে জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, সেই হরমুজ প্রণালি ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরান। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন পথ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই পথের নিরাপত্তার দায়িত্ব দুই দেশ যৌথভাবে পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া অন্যান্য কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তিনি এসব শর্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
তিনি বলেন, এসব শর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইরানের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধের অবসানে আলোচনা এগিয়ে নিতে গত জুনে দুই দেশ যে চুক্তি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র সেটি লঙ্ঘন করেছে।
‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা সমঝোতা স্মারক নামে পরিচিত ওই চুক্তিটি দ্রুত ভেস্তে যায়। কূটনৈতিক আলোচনাও ব্যর্থ হয় এবং চুক্তি সইয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলকদর আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ ‘সংশোধন’ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয়টি দাবি পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘শিগগিরই’ হতে পারে। তবে শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক কাজ বাকি।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখনো খেলার মাঝামাঝি অবস্থায় আছি। বিষয়টি এখনো শেষ হয়নি।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মার্কিন জনগণের জন্য সর্বোত্তম ফল নিশ্চিত করতে আমরা কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক-সব ধরনের উপায় কাজে লাগাচ্ছি।’
ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর আগের মতোই উপসাগর থেকে ‘একই পরিমাণ তেল’ সরবরাহ হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মূলত এমন একটি ট্রাফিক ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি, যাতে জাহাজগুলো নিরাপদে প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারে।’ সূত্র: বিবিসি।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array