খুঁজুন
                               
, ,
           

অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা

কাজের সন্ধানে প্রতি বছরই অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করছেন হাজার হাজার বাংলাদেশী। এ কাজে জড়িত মানব পাচার চক্রটি পশ্চিম বলকান অঞ্চল ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। যেখানে যুক্ত আছে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীরা। অনেকে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও বেশির ভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীর ভাগ্যে নেমে আসে নির্মম পরিণতি। আইওএমের ডিটিএম পরিসংখ্যান বলছে, অনিয়মিত পথে ২০২৫ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন ২৪ হাজার ৩১৮ বাংলাদেশী।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। যাদের উল্লেখযোগ্য অংশই দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। ভাগ্য বদলাতে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে বাংলাদেশি তরুণদের এই আত্মহনন নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নৌকা ডুবে ৮ বাংলাদেশির সলিল সমাধি হয়। অন্যদিকে ২০১৪-২০২৪ এই ১০ বছরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রার পথে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ২৮৩ জন বাংলাদেশি। ইউরোপযাত্রার সবচেয়ে বিপজ্জনক রুটগুলোর একটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া। এ ছাড়া লিবিয়ায় অভিবাসী ও শরণার্থীদের আটকে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও নিয়মিত।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি প্রবেশ করেছেন। এই সময়ে কতজন মারা গেছে সেটির কোনো হিসেব নেই। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম মনে করে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের ১২ শতাংশ বাংলাদেশি।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাগরপথে ইতালি প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই শীর্ষ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ১৪ হাজার ২৮৪ জন, ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৭৭৪ জন, ২০২২ সালে ১৫ হাজার ২২৮ জন, ২০২১ সালে ৭ হাজার ৮৩৮ জন এবং ২০২০ সালে ৪ হাজার ১৪১ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢুকেছেন।

বাংলাদেশের চাকরির বাজার এখনও সংকীর্ণ। লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত বেকার কাজের আশায় পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে দিশেহারা হয়ে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু দালালের হাতে দিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। জীবিকার সন্ধানে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে সাগরে, মরুভূমিতে বা জঙ্গলে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আর যারা বেঁচে আছে তারা বিভিন্ন দেশে ফেরারি আসামি হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। হয়ত এক জীবনে তাদের মা-বাবা বা প্রিয় মানুষের মুখটি আর দেখা হবে না। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রচুর শিক্ষিত তরুণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেট্রল পাম্প, দোকান এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে শত কষ্ট সহ্য করেও কাজ করে যাচ্ছে।

জানা যায় ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের তরুণরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ পথে বেশি পাড়ি জমান। সমুদ্রযাত্রায় মৃত্যুর পাশাপাশি এসব রুটে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে অপহরণ ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার হারও অনেক বেশি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে কাউকে মাঝেমধ্যে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা সবসময়ই রয়ে যায় আড়ালে। আবার গ্রেফতারের পর অনেক সময় যথাযথ সাক্ষী না পাওয়া, মামলার দীর্ঘসূত্রতা, বাদীকে হুমকি-ধমকি কিংবা আদালতের বাইরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা আর শেষ পরিণতি পায় না।

কালের আলো/এম/এএইচ

আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে এ মামলায় হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের করা আপিল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতের রায়ের পর মামলাটি নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

বিস্তারিত আসছে…

কালের আলো/এম/এসআইপি 

ত্রিশালে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
ত্রিশালে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মালবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

দুর্ঘটনার পর সড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেলের খসড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেলের খসড়া

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া আজ সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি নতুন পে-স্কেল দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। প্রাথমিক প্রস্তাবে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল।

তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। তবে বর্ধিত অর্থ পরিশোধ করা হবে ধাপে ধাপে। পে-স্কেল কীভাবে এবং কোন সময়সূচিতে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে নতুন পে-স্কেল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে ওই কমিটি।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে সচিব কমিটির চূড়ান্ত খসড়ায় ১০০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়নি।

কমিশনের প্রস্তাবে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। কমিশনের হিসাবে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোয় থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও নতুন কাঠামো প্রণয়নের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি