খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে বহুমুখী ঝুঁকির সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাংকের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বহুমুখী ঝুঁকির সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাংকের

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্য অনিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একই সময়ে একাধিক ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত কর্মসংস্থান। ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক—দুই ধরনের চাপই ক্রমে বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট এপ্রিল ২০২৬-এর মূল্যায়ন বলছে, এসব ঝুঁকি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি সংকট আরেকটিকে আরও গভীর করে তুলছে। জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, খাদ্য নিরাপত্তা দুর্বল হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের ওপর তার প্রভাব পড়ছে।

দুর্বল অর্থনীতির ওপর নতুন ধাক্কা
২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০.৮ শতাংশ এবং সরকারি কোষাগারের ঘাটতি ৪.৪ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হয়েছে। রাজস্ব পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ২০২৫ অর্থবছরে গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। অন্যদিকে টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা যখন সংকুচিত হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও কমছে না। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ব্যাংকিং খাত নিয়ে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১০ শতাংশের অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। ফলে অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের বহুমুখী প্রভাব
বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির বড় অংশই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই নির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিতেই ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। খোলা বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে পৌঁছেছে—আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে ২০২৬ অর্থবছরে জ্বালানি ভর্তুকির সম্ভাব্য বোঝা ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এর প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, কৃষি এবং সামাজিক খাতের ব্যয়েও চাপ তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের এই হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জ্বালানি সংকটকে আর একক কোনো খাতের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি অর্থনীতি ও জনজীবনের একাধিক স্তরে একযোগে প্রভাব ফেলছে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাড়ছে ঝুঁকি
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাও জ্বালানি ও আমদানিনির্ভরতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সার ও জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, কৃষি উপকরণের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। দেশে হেক্টরপ্রতি সারের ব্যবহার ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। গ্যাস সংকটের কারণে ছয়টি ইউরিয়া কারখানার পাঁচটিই উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বাজারে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের ওপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি খাদ্যপণ্যের দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

স্বাস্থ্য খাতেও জ্বালানি সংকটের ছায়া
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবায়ও। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৬ হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনাগত চাপে রয়েছে। সরকারি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর বিদ্যুৎ বিলেই প্রতি মাসে প্রায় ০.৬ থেকে ১.১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমদানিনির্ভর চিকিৎসা উপকরণের উচ্চ ব্যয়। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৯০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর এবং সেগুলোর ওপর ৩৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। এই চাপের মধ্যেই ২০২৬ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাব নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৪০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান—শেষ আঘাতটি এখানে
অর্থনীতির বহুমুখী ঝুঁকির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে। সীমিত কর্মসংস্থান ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৫ সালে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও অন্যান্য বৈশ্বিক ধাক্কার কারণে ২০২৬ সালে প্রত্যাশিত ১৭ লাখের পরিবর্তে মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে প্রায় ছয় লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দিয়ে এই ঝুঁকি ব্যাখ্যা করা যায় না। বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা কাটাতে না পারলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

এক সংকটের সঙ্গে আরেক সংকটের যোগ
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নের মূল বার্তাটি এখানেই—বাংলাদেশের ঝুঁকিগুলো আলাদা আলাদা নয়। জলবায়ু দুর্যোগ খাদ্য উৎপাদনে আঘাত করে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয় কমায়, দুর্বল ব্যাংকিং খাত বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে এবং কম বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সংকটকে আরও গভীর করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনো একটি খাতের সংকট মোকাবিলা নয়; বরং পরস্পরকে শক্তিশালী করা এই ঝুঁকিগুলোর চক্র ভাঙা। জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে বহুমুখী চাপ একসময় সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা তাই কেবল ভবিষ্যৎ ঝুঁকির পূর্বাভাস নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান দুর্বলতাগুলোকে দ্রুত মোকাবিলার একটি জরুরি সংকেত।

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি