খুঁজুন
                               
, ,
           

সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

চার দিনের জন্য রোববার (৯ আগস্ট) সিঙ্গাপুরে সরকারি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিগত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের প্রথম সরকারি সিঙ্গাপুর সফর।

সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলকারনিয়ান বিন আবদুল রহিম এবং জনশক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দিনেশ ভাসু দাশের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থানীয় বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল এবং সে দেশের অন্যতম আধুনিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র টুয়াসওয়ান পরিদর্শন করবেন।

সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করেন, যারা তাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সিঙ্গাপুরে ‘রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।

এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বন্দর ও লজিস্টিকস সহযোগিতা, প্রযুক্তি, জনশক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

এবার ‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমাটির নগ্নতার দৃশ্যও বাদ দিলেন পরিচালক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
এবার ‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমাটির নগ্নতার দৃশ্যও বাদ দিলেন পরিচালক

বছরে মাত্র এক রাত। সেই রাতে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক বৈধ। বছরের বাকি সময় তা নিষিদ্ধ। এমন অদ্ভুত এক সামাজিক নিয়মকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রোমান্টিক কমেডি ‘ওয়ান নাইট অনলি’। উইল গ্লাক পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই এর গল্প ও নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

‘ইজি এ’ ও ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’–এর মতো সিনেমার পরিচালক উইল গ্লাক এবার এমন একটি গল্প বেছে নিয়েছেন, যার ধারণাটি শুনলেই দর্শকের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বছরে একটি রাত কেন যৌন সম্পর্ক বৈধ? এই আইন কীভাবে কার্যকর হয়? কেউ আইন ভাঙলে কী হয়?—এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর অবশ্য সিনেমাটির মূল বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে জানা গেছে, গ্লাকের কাছে এই অদ্ভুত নিয়মটি মূলত গল্পের পটভূমি। তাঁর আসল আগ্রহ, এমন পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ কীভাবে নিজেদের জীবন ও সম্পর্ক সামলায়, সেটি দেখানো।

‘ওয়ান নাইট অনলি’র কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যালি। অভিনয় করেছেন মনিকা বারবারো। অ্যালি একজন উঠতি গায়িকা। সংগীতজগতে বড় সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই তরুণী আপাতত ওষুধের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়ে জীবিকা চালান।

অন্যদিকে ক্যালাম টার্নার অভিনীত ওয়েন একটি পিৎজার দোকানের মালিক। দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্থিতিশীল হলেও বিশেষ সেই রাতে তাঁর প্রেমিকা অন্য একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর নিউইয়র্ক শহরে শুরু হয় ১২ ঘণ্টার এক অদ্ভুত রাত। নানা বিশৃঙ্খলা ও হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্যে অ্যালি ও ওয়েন—দুই অপরিচিত মানুষ—বারবার একে অপরের মুখোমুখি হতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিই সিনেমাটির রোমান্স ও কৌতুকের মূল ভিত্তি।

গ্লাকের মতে, ছবির কাল্পনিক নিয়মগুলো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় গেলে সিনেমার মূল আনন্দ নষ্ট হতে পারে। অভিনেতারা বিভিন্ন টক শোতে গেলে তাঁদের অনেক সময় সিনেমার নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করতে হয়। অথচ পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি আসলে সেই নিয়ম নিয়ে নয়।

গ্লাকের লক্ষ্য ছিল এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেটি দর্শক অনুভব করবেন; কিন্তু সেই অদ্ভুত নিয়ম যেন গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে না ওঠে।

সিনেমাটির আরেকটি আলোচিত বিষয় যৌনতা ও নগ্নতার ব্যবহার। ভ্যারাইটি জানিয়েছে, শুটিংয়ের সময় ছবিতে আরও অনেক নগ্ন দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্পাদনার সময় সেগুলোর বড় অংশ বাদ দেন গ্লাক।

পরিচালকের পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত যৌনতা বা নগ্নতা অনেক সময় দর্শকের মনোযোগ গল্প থেকে সরিয়ে দেয়। বিশেষ করে এখন ব্যক্তিগত ফোন ও ঘরে বসে যৌন কনটেন্ট দেখার সুযোগ থাকায় সিনেমা হলে এ ধরনের দৃশ্যের দর্শক-অভিজ্ঞতাও বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

গ্লাকের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শক যখন চরিত্রের গল্পে মনোযোগী, তখন হঠাৎ অতিরিক্ত নগ্ন বা যৌন দৃশ্য দেখানো হলে তাঁদের মনোযোগ গল্প থেকে সরে যেতে পারে। দর্শকের এমন প্রতিক্রিয়া দেখেই একের পর এক দৃশ্য বাদ দিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে নিউইয়র্কের রাস্তায় ধারণ করা বেশ কিছু নগ্ন দৃশ্যও ছিল। পরিচালকের ধারণা ছিল, এসব দৃশ্য ছবির কাল্পনিক পৃথিবীকে আরও বাস্তব করে তুলবে। কিন্তু দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর অনেকটাই বাদ দেওয়া হয়।

যৌনতা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো নিরাপদ ও পেশাদার পরিবেশে ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সেটে একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডের বিভিন্ন অন্তরঙ্গ দৃশ্যে বাস্তব জীবনের দম্পতিদেরও অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়। তাঁদের কেউ বিবাহিত ছিলেন, কেউ শুটিংয়ের সময় সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন, আবার কেউ কেউ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

‘ওয়ান নাইট অনলি’র বেশ কিছু দৃশ্য নিউইয়র্কের বাস্তব লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। ফলে শুটিংয়ের সময় অভিনয়শিল্পীদের নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কখনো গাড়ির ভেতরে অভিনেতাদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় অভিনয় করতে হয়েছে। বাইরে থাকা পথচারীরা তখন স্বাভাবিকভাবেই থেমে দৃশ্য দেখতে থাকতেন। গ্লাকের কাছে এটিও ছিল সিনেমার বাস্তবতার অংশ। তাঁর যুক্তি, এমন ঘটনা সত্যিই ঘটলে নিউইয়র্কের মানুষও কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে থাকতেন।

ছবির কাল্পনিক পৃথিবীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও গ্রাফিতিও তৈরি করে শুট করা হয়েছে। এগুলো পরে কম্পিউটারে যুক্ত করা হয়নি।

ডানকিন, ডিউরেক্স, রেড বুল ও ইকুইনক্সের মতো ব্র্যান্ডের নামও সিনেমায় দেখা যায়। তবে এসব ব্র্যান্ডের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গ্লাক। বরং ছবির গল্প অনুযায়ী ব্র্যান্ডের নাম ও বিজ্ঞাপনের পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি নিতে হয়েছে।

অ্যালি চরিত্রটি শুরু থেকেই গায়িকা ছিল না। মনিকা বারবারোকে চূড়ান্ত করার পর চরিত্রটিকে গায়িকা হিসেবে নতুন করে গড়ে তোলেন গ্লাক।

পরিচালকের অভ্যাস হলো, কোনো অভিনেতাকে চূড়ান্ত করার পর তাঁর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনা। বারবারোর সঙ্গে কথা বলার পর তাঁর মনে হয়, অ্যালির গায়িকা হওয়াই চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত।

মজার বিষয়, বাস্তবে বারবারোর মঞ্চভীতি রয়েছে। তবে তাঁর কণ্ঠ ভালো হওয়ায় সেই বৈশিষ্ট্যও চরিত্রে ব্যবহার করেছেন পরিচালক।

ওয়েন চরিত্রটি একজন পিৎজা দোকানের মালিক হওয়ায় ক্যালাম টার্নারকে বাস্তবেই পিৎজা বানানো শিখতে হয়েছে। গ্লাক জানিয়েছেন, ক্যালাম টানা পাঁচ দিন একটি পিৎজার দোকানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তবে শুটিংয়ের সময় পিৎজা নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়তে হয় নির্মাতা দলকে। পিৎজা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় ক্যামেরায় ভালো দেখানোর জন্য বারবার নতুন পিৎজা বানাতে হয়েছে। অভিনেতারাও শুটিংয়ের সময় সত্যিকারের পিৎজা খেয়েছেন। একপর্যায়ে মনিকা ও ক্যালামকে বলতে হয়েছে, তাঁরা আর খেতে পারছেন না।

উইল গ্লাকের আগের সিনেমা ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’তে অভিনয় করেছিলেন সিডনি সুইনি ও গ্লেন পাওয়েল। বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাওয়া ওই সিনেমার দুই তারকার উপস্থিতিও রয়েছে ‘ওয়ান নাইট অনলি’তে।

তবে তাঁরা সরাসরি ক্যামিও করেননি। ব্যস্ত সময়সূচির কারণে তাঁদের দিয়ে প্রচলিত ক্যামিও করানো সম্ভব হয়নি। তাই ভিন্ন কৌশলে সিনেমায় তাঁদের যুক্ত করেছেন গ্লাক। বিষয়টি দর্শকের জন্য একটি মজার চমক হিসেবেই রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি এলাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছান তিনি।

পরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী, মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন।

সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন এবং ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন।

এরপর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন নেতার সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

পরে হাটহাজারীতে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্র বলছে, সভায় নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা অংশ নেবেন। সেখানে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

সফর শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চলছে, দাবি ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চলছে, দাবি ফিফার

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শনিবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু অভিযোগ ও সংবাদে ‘ভিত্তিহীন দাবি’ এবং ‘প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য’ রয়েছে।

একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে ফিফার গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে কিছু পক্ষ ফিফা ও এর সভাপতিকে দুর্বল করার জন্য সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সংস্থাটির ভাষ্য, ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন না থাকা কোনো পক্ষ অভিযোগ, ইঙ্গিত কিংবা ভুল তথ্যের মাধ্যমে এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করতে পারে না, যা ফিফার নির্ধারিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়।

২০২৭ সালে ফিফা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ইনফান্তিনো। তাঁর নেতৃত্বের বিরোধিতায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সরব ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

ফিফার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ ও এএফসির আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।

তবে এরপরও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার আপত্তি থামেনি। এমনকি ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে ইউরোপীয় সংস্থাটি।

এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর দাবি, উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে উয়েফা ছাড়ার সময় ওই নারীকে সংস্থাটি বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। উয়েফার বর্তমান প্রশাসন অর্থপ্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এসব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষাপটেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইনফান্তিনো এবং তাঁদের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিফার ভাষায়, ইনফান্তিনোকে সরানো বা তাঁর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করার কোনো উদ্যোগ যদি নেওয়া হয়, সেটি অবশ্যই সংস্থার গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠিত পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সাম্প্রতিক সংবাদ ও অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। সংস্থাটির দাবি, কিছু প্রতিবেদনে ফিফা ও এর সভাপতিকে নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে এবং অনুমান ও ইঙ্গিতকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো অভিযোগ বারবার বলা হলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না।’

ফিফা আরও জানিয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো মেনে নেওয়া হবে না। কোনো প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা তার ‘সরাসরি ও কঠোর প্রতিবাদ’ করবে।

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ তৈরি হলেও ইনফান্তিনো পুরোপুরি একা নন। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল জানিয়েছে, দ্রুত কোনো প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে সরানোর উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে না।

আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)ও ইনফান্তিনোর প্রতি ‘সর্বসম্মত সমর্থন’ জানিয়েছে।

ফলে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উয়েফার অবস্থান, অন্যদিকে কনমেবল ও সিএএফের সমর্থন—সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ