খুঁজুন
                               
, ,
           

এবার ‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমাটির নগ্নতার দৃশ্যও বাদ দিলেন পরিচালক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
এবার ‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমাটির নগ্নতার দৃশ্যও বাদ দিলেন পরিচালক

বছরে মাত্র এক রাত। সেই রাতে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক বৈধ। বছরের বাকি সময় তা নিষিদ্ধ। এমন অদ্ভুত এক সামাজিক নিয়মকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রোমান্টিক কমেডি ‘ওয়ান নাইট অনলি’। উইল গ্লাক পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই এর গল্প ও নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

‘ইজি এ’ ও ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’–এর মতো সিনেমার পরিচালক উইল গ্লাক এবার এমন একটি গল্প বেছে নিয়েছেন, যার ধারণাটি শুনলেই দর্শকের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বছরে একটি রাত কেন যৌন সম্পর্ক বৈধ? এই আইন কীভাবে কার্যকর হয়? কেউ আইন ভাঙলে কী হয়?—এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর অবশ্য সিনেমাটির মূল বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে জানা গেছে, গ্লাকের কাছে এই অদ্ভুত নিয়মটি মূলত গল্পের পটভূমি। তাঁর আসল আগ্রহ, এমন পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ কীভাবে নিজেদের জীবন ও সম্পর্ক সামলায়, সেটি দেখানো।

‘ওয়ান নাইট অনলি’র কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যালি। অভিনয় করেছেন মনিকা বারবারো। অ্যালি একজন উঠতি গায়িকা। সংগীতজগতে বড় সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই তরুণী আপাতত ওষুধের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়ে জীবিকা চালান।

অন্যদিকে ক্যালাম টার্নার অভিনীত ওয়েন একটি পিৎজার দোকানের মালিক। দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্থিতিশীল হলেও বিশেষ সেই রাতে তাঁর প্রেমিকা অন্য একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর নিউইয়র্ক শহরে শুরু হয় ১২ ঘণ্টার এক অদ্ভুত রাত। নানা বিশৃঙ্খলা ও হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্যে অ্যালি ও ওয়েন—দুই অপরিচিত মানুষ—বারবার একে অপরের মুখোমুখি হতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিই সিনেমাটির রোমান্স ও কৌতুকের মূল ভিত্তি।

গ্লাকের মতে, ছবির কাল্পনিক নিয়মগুলো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় গেলে সিনেমার মূল আনন্দ নষ্ট হতে পারে। অভিনেতারা বিভিন্ন টক শোতে গেলে তাঁদের অনেক সময় সিনেমার নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করতে হয়। অথচ পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি আসলে সেই নিয়ম নিয়ে নয়।

গ্লাকের লক্ষ্য ছিল এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেটি দর্শক অনুভব করবেন; কিন্তু সেই অদ্ভুত নিয়ম যেন গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে না ওঠে।

সিনেমাটির আরেকটি আলোচিত বিষয় যৌনতা ও নগ্নতার ব্যবহার। ভ্যারাইটি জানিয়েছে, শুটিংয়ের সময় ছবিতে আরও অনেক নগ্ন দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্পাদনার সময় সেগুলোর বড় অংশ বাদ দেন গ্লাক।

পরিচালকের পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত যৌনতা বা নগ্নতা অনেক সময় দর্শকের মনোযোগ গল্প থেকে সরিয়ে দেয়। বিশেষ করে এখন ব্যক্তিগত ফোন ও ঘরে বসে যৌন কনটেন্ট দেখার সুযোগ থাকায় সিনেমা হলে এ ধরনের দৃশ্যের দর্শক-অভিজ্ঞতাও বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

গ্লাকের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শক যখন চরিত্রের গল্পে মনোযোগী, তখন হঠাৎ অতিরিক্ত নগ্ন বা যৌন দৃশ্য দেখানো হলে তাঁদের মনোযোগ গল্প থেকে সরে যেতে পারে। দর্শকের এমন প্রতিক্রিয়া দেখেই একের পর এক দৃশ্য বাদ দিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে নিউইয়র্কের রাস্তায় ধারণ করা বেশ কিছু নগ্ন দৃশ্যও ছিল। পরিচালকের ধারণা ছিল, এসব দৃশ্য ছবির কাল্পনিক পৃথিবীকে আরও বাস্তব করে তুলবে। কিন্তু দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর অনেকটাই বাদ দেওয়া হয়।

যৌনতা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো নিরাপদ ও পেশাদার পরিবেশে ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সেটে একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডের বিভিন্ন অন্তরঙ্গ দৃশ্যে বাস্তব জীবনের দম্পতিদেরও অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়। তাঁদের কেউ বিবাহিত ছিলেন, কেউ শুটিংয়ের সময় সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন, আবার কেউ কেউ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

‘ওয়ান নাইট অনলি’র বেশ কিছু দৃশ্য নিউইয়র্কের বাস্তব লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। ফলে শুটিংয়ের সময় অভিনয়শিল্পীদের নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কখনো গাড়ির ভেতরে অভিনেতাদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় অভিনয় করতে হয়েছে। বাইরে থাকা পথচারীরা তখন স্বাভাবিকভাবেই থেমে দৃশ্য দেখতে থাকতেন। গ্লাকের কাছে এটিও ছিল সিনেমার বাস্তবতার অংশ। তাঁর যুক্তি, এমন ঘটনা সত্যিই ঘটলে নিউইয়র্কের মানুষও কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে থাকতেন।

ছবির কাল্পনিক পৃথিবীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও গ্রাফিতিও তৈরি করে শুট করা হয়েছে। এগুলো পরে কম্পিউটারে যুক্ত করা হয়নি।

ডানকিন, ডিউরেক্স, রেড বুল ও ইকুইনক্সের মতো ব্র্যান্ডের নামও সিনেমায় দেখা যায়। তবে এসব ব্র্যান্ডের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গ্লাক। বরং ছবির গল্প অনুযায়ী ব্র্যান্ডের নাম ও বিজ্ঞাপনের পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি নিতে হয়েছে।

অ্যালি চরিত্রটি শুরু থেকেই গায়িকা ছিল না। মনিকা বারবারোকে চূড়ান্ত করার পর চরিত্রটিকে গায়িকা হিসেবে নতুন করে গড়ে তোলেন গ্লাক।

পরিচালকের অভ্যাস হলো, কোনো অভিনেতাকে চূড়ান্ত করার পর তাঁর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনা। বারবারোর সঙ্গে কথা বলার পর তাঁর মনে হয়, অ্যালির গায়িকা হওয়াই চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত।

মজার বিষয়, বাস্তবে বারবারোর মঞ্চভীতি রয়েছে। তবে তাঁর কণ্ঠ ভালো হওয়ায় সেই বৈশিষ্ট্যও চরিত্রে ব্যবহার করেছেন পরিচালক।

ওয়েন চরিত্রটি একজন পিৎজা দোকানের মালিক হওয়ায় ক্যালাম টার্নারকে বাস্তবেই পিৎজা বানানো শিখতে হয়েছে। গ্লাক জানিয়েছেন, ক্যালাম টানা পাঁচ দিন একটি পিৎজার দোকানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তবে শুটিংয়ের সময় পিৎজা নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়তে হয় নির্মাতা দলকে। পিৎজা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় ক্যামেরায় ভালো দেখানোর জন্য বারবার নতুন পিৎজা বানাতে হয়েছে। অভিনেতারাও শুটিংয়ের সময় সত্যিকারের পিৎজা খেয়েছেন। একপর্যায়ে মনিকা ও ক্যালামকে বলতে হয়েছে, তাঁরা আর খেতে পারছেন না।

উইল গ্লাকের আগের সিনেমা ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’তে অভিনয় করেছিলেন সিডনি সুইনি ও গ্লেন পাওয়েল। বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাওয়া ওই সিনেমার দুই তারকার উপস্থিতিও রয়েছে ‘ওয়ান নাইট অনলি’তে।

তবে তাঁরা সরাসরি ক্যামিও করেননি। ব্যস্ত সময়সূচির কারণে তাঁদের দিয়ে প্রচলিত ক্যামিও করানো সম্ভব হয়নি। তাই ভিন্ন কৌশলে সিনেমায় তাঁদের যুক্ত করেছেন গ্লাক। বিষয়টি দর্শকের জন্য একটি মজার চমক হিসেবেই রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরকার মোটেই শঙ্কিত নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও দুই বছর আগে থেকেই করে আসছে। তাই এসব ঘটনাকে সরকার খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের অন্ধকারে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক আসামিকে মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাতে বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা এবং চালক-হেলপারবিহীন বাসকে লক্ষ্য করে কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও দেশে ফেরার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে সরকার শঙ্কিত নয়। ‘লকডাউন’ কর্মসূচির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা কতটা দৃশ্যমান হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের হিসাবে এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বা ভুল স্বীকার করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের লং মার্চের সুযোগ আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দল তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেই পারে। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। সরকারের দায়িত্ব এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনে সহযোগিতা করা।

চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর পর বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে। তখন জনমত কার পক্ষে যায়, তা তখনই দেখা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন এবং সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।

বিরোধী দলের লং মার্চের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া কর্মসূচির অংশ বলে সরকারের কাছে মনে হয়েছে।

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে বিরোধী দলের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিরোধী ও সরকারি দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি সেখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল।

কালের আলো/এমএসআইপি 

হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আশির দশকের কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী। সম্প্রতি তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন রিফাত চৌধুরী। তাঁর শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও নিদ্রাহীনতার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে চিকিৎসকেরা নজর রাখছেন। দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয়

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন রিফাত চৌধুরী। মঞ্চ ও টেলিভিশনে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ‘হাউসফুল’, ‘এইম ইন লাইফ’, ‘পাটিগণিত’, ‘ফোর টোয়েন্টি’, ‘সিক্সটি নাইন’, ‘বনমানুষ’, ‘বাইসাইকেল’, ‘৪২০’, ‘ক্যারাম’ ও ‘মুড়ির টিন’সহ বহু জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।

বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নাট্যাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু নাটক দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

কবি হিসেবেও পরিচিতি

অভিনয়ের পাশাপাশি কবি হিসেবেও রিফাত চৌধুরীর রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। ১৯৮৪ সালে ‘আলিঙ্গনের নাম’ কবিতার মাধ্যমে তাঁর কবিতার জগতে প্রবেশ।

এরপর নিয়মিতভাবে কবিতা ও সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গেছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর ২৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিনয় ও কবিতা—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আসছেন রিফাত চৌধুরী।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

কালের আলো/এসএ

উত্তর কোরিয়ার ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
উত্তর কোরিয়ার ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে সমুদ্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, এটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে থাকতে পারে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও উৎক্ষেপণ করা বস্তুটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রে পড়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ার নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। পিয়ংইয়ংকে এমন পরীক্ষা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।

এর আগে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের অংশগ্রহণে সামরিক মহড়ার সমালোচনা করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেছেন, এসব সামরিক মহড়াই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার শক্তিশালী করার নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ