খুঁজুন
                               
, ,
           

‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আবার বন্ধুত্বও চাইবেন—এভাবে সম্পর্ক হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আবার বন্ধুত্বও চাইবেন—এভাবে সম্পর্ক হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবেন-এ দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াকে সমর্থন করে? এভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রাখব।

আমাদের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে আন্তনির্ভরশীলতা আছে এবং এই আন্তনির্ভরশীলতাকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয়, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটি পরস্পরবিরোধী। আশা করি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে, তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারেন, তাহলে হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে জোরপূর্বক নির্বাসিত হয়েছি। এটাই হাসিনার সঙ্গে আমাদের ব্যবধান।

তিনি আরও বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিয়েছেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গেছেন এবং হিন্দন বিমানবন্দরে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম। আর আমাদের বস্তাবন্দি করে, হাত-পা ও চোখ বেঁধে বস্তাসহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুর হার ছিল ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে এ দেশের মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

এ সময় আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরাও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলছি। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সেই আইন করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টেও সেটা আছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে স্থগিত হবে কি না-এসব বিধান সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কি না, সেটাও ওই আইনে বলা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্ত হচ্ছে। আমরা আশা করব, সেই তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলোর ক্ষেত্রে ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নেই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, তবে একটা বিষয় তিনি খুব ভালো জানেন। তিনি বলেন, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপতৎপরতা ও মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হলে, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ৪ বাংলাদেশি নিহত

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ৪ বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত চারজনের সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এরই মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। নিহত অপর দুজনের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

জানা গেছে, জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীদের

ফিলিস্তিনের দখলকৃত এলাকায় ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের এমন উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন ইসরাইলের দুই মন্ত্রী।

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘ইহুদিবিদ্বেষী সরকারের’ মতো আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধের বিষয়টিও সামনে আনেন।

বেন-গভির দাবি করেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড এবং ব্রিটেন সেখানে ‘দখলদারত্ব’ বজায় রেখেছে। দ্বীপপুঞ্জে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার এই দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ মানুষ ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে বলে জানা যায়।

এদিকে, ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের মধ্যে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আগে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও আপত্তি জানাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে ইসরাইলি মন্ত্রীদের বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গ্যাস সংকট কাটছে, স্বস্তির পথে শিল্প-বিদ্যুৎ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
গ্যাস সংকট কাটছে, স্বস্তির পথে শিল্প-বিদ্যুৎ

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহের পথে ফিরছে দেশ। সংকটের তীব্রতা কমাতে একদিকে স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাসের নিজস্ব উৎস বাড়াতে নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার, দেশীয় কয়লা উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এসব তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং চলতি সেপ্টেম্বরেই শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক খাতে সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

জরুরি ব্যবস্থায় সংকট সামাল
সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও আবাসিক খাতে। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারেনি এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে রান্নাতেও ভোগান্তি তৈরি হয়। এ অবস্থায় সরকার সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালকে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এলএনজি কার্গো দেশে আসায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারের এ তাৎক্ষণিক তৎপরতাই এখন সংকট কাটার সবচেয়ে বড় আশার জায়গা। আরও এলএনজি কার্গো যুক্ত হলে সরবরাহ ঘাটতি পর্যায়ক্রমে কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়েক দিনেই দৃশ্যমান উন্নতি
পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতি এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। ঘাটতির এই চাপ সামলাতে সরকার শুধু সরবরাহ বাড়ানোর দিকেই নজর দেয়নি, গ্যাসের বিকল্প ব্যবহারের পথও খুলে দিয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি তেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে সীমিত গ্যাস শিল্পসহ অগ্রাধিকার খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সরকারের এই সময়সীমাভিত্তিক উদ্যোগ শিল্প ও ব্যবসা খাতে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।

শিল্পে ফিরবে গতি
গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে শিল্প খাত। উৎপাদন কমানো, কারখানা পরিচালনার সময় কমিয়ে আনা এবং বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানি কার্যক্রম ও শ্রমিকদের কর্মঘণ্টাতেও। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানিতে গতি আসবে, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। গ্যাস সংকট নিরসন শুধু জ্বালানি খাতের স্বস্তি নয়; এটি শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু এলএনজি নয়, নজর দেশীয় সম্পদে
বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি সরকার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। নতুন গ্যাসকূপ খনন, পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার এবং দেশের নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের জ্বালানি অবকাঠামো
গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে বড় অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি সক্ষমতার স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে ৬০০ এমএমসিএফডি সক্ষমতার আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতেও বহুমুখী জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৭ সালের শুরুর দিকে উৎপাদনে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মজুদের ক্ষেত্রেও সরকারের প্রস্তুতি বেড়েছে। ডিজেলের মজুদ ১৭ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩২ দিনে উন্নীত করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাময়িক স্বস্তি নয়, লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা
বর্তমান বাস্তবতায় গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান এখনো বড়। তাই এলএনজি আমদানির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় সরকারের বর্তমান কৌশলটি গুরুত্বপূর্ণ—একদিকে জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি এনে সরবরাহ বাড়ানো, অন্যদিকে দেশীয় গ্যাস ও কয়লার অনুসন্ধান-উত্তোলন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ এবং জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো। ফলে বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথটি শুধু তাৎক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী ও স্থিতিশীল করার প্রস্তুতিও এগোচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সেটি হবে সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগের সাফল্য। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে সেই সাফল্যই পরিণত হতে পারে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ