খুঁজুন
                               
, ,
           

আ.লীগের বিচারের তদন্তে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ শিগগিরই: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
আ.লীগের বিচারের তদন্তে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ শিগগিরই: চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের তদন্তে শিগগিরই ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে, সাংসদ রোকেয়া বেগম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতা এবং জুলাই আন্দোলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে দেওয়া ৭ দফা দাবি তুলে ধরে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মধ্যে একটি পারসেপশন তৈরি হয়েছে যে, বিচারের গতিটা ধীর হয়ে গেছে। আমরা আশা করি, আপনারা জনগণকে সেই আস্থা দেবেন। আমাদের মূল ফোকাস হচ্ছে জুলাই গণহত্যা।

জোটের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মিরপুর ১০, পল্টন ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যার দ্রুত তদন্ত। হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার। ঢাকার বাইরে ৬১টি জেলায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন, তাদের গ্রেফতার করা, সাক্ষীদের নির্ভয়ে সাক্ষ্য দিতে পারা।

গণহত্যায় উসকানিদাতা ও অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা।

গুম-খুন এবং মরদেহ পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর ধীরগতি দূর করা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মূলহোতারা আজ দেশের বাইরে পলাতক। সরকার বলছে চিঠি লিখবে। শুধু চিঠি লেখাই যেন শেষ নয়, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে কোর্টে হাজির করাতে হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার এমনভাবে করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের রাস্তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। আইনে কোনো ছিদ্র রাখা যাবে না।

এ সময় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান  ফুয়াদ ট্রাইব্যুনালের জনবল ও বাজেট সংকট নিরসনের দাবি জানান। তিনি বলেন, চিফ প্রসিকিউটরকে আমরা বারবার দ্রুত বিচারের কথা বলছি, অথচ তাকে ঢাল-তলোয়ার দিচ্ছি না। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের উচিত ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত প্রসিকিউটর, ইনভেস্টিগেটর এবং রিসোর্স অ্যালোকেশন করা।

যাত্রাবাড়ীতে ১৭ হত্যা: সাবেক এমপি মনুসহ ৪ জনকে হাজিরের নির্দেশ

মতবিনিময়কালে বিচারকাজের অগ্রগতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইতোমধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলা এবং রামপুরা ও হাসানুল হক ইনুর ঘটনাসহ তিনটি মামলার জাজমেন্ট (রায়/সিদ্ধান্ত) হয়েছে। ওবায়দুল কাদের, মাহবুব উল আলম হানিফ, জিয়াউল হাসান এবং শহীদ জাবেরের মামলাসহ চারটি মামলার জাজমেন্ট আগামী মাসের মধ্যে আমরা পাব বলে আশা করছি।

জুলাইয়ের ঘটনাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসা ৫৯০টি অভিযোগ থেকে ১০৯টিকে আমরা তদন্তের আওতায় এনেছি। শাপলা চত্বরসহ ১২টি তদন্ত রিপোর্ট খুব দ্রুত শেষ করে ফরমাল চার্জ দিয়েছি। আমির হোসেন আমু, দীপু মনিসহ গত দেড় বছর ধরে আটকে থাকা অনেক হাইপ্রোফাইল আসামির তদন্ত রিপোর্ট আমরা রেডি করেছি।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাইয়ের যত মামলা আছে, সব ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট এবং জাজমেন্টের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে চাই।

গুমের প্রায় চার হাজার মামলার তালিকা পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সার্ভিং অফিসার থেকে শুরু করে অনেক সেনা সদস্য, যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের রিপোর্ট আমরা ক্লোজ করে নিয়ে এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও ভিসিসহ যাদের ইন্ধনে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, তার রিপোর্টও আমরা আজ হাতে পেয়েছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এগুলো দাখিল করব।

১১ দলীয় জোটের স্মারকলিপি গ্রহণ করে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ কী অপরাধ করেছে, আমি আসার পর সেই তদন্তকে ত্বরান্বিত করেছি। খুব দ্রুতগতিতে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) চলমান আছে এবং কিছুদিনের মধ্যে আপনারা দৃশ্যমান একটা অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে না, আরও যদি কোনো সংগঠন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, যাদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে, তারাও এখান থেকে রেহাই পাবে কি না আমি জানি না। সেই জায়গা থেকেও আমরা কাজ করছি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতা থেকে শুরু করে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা—দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে হেলিকপ্টারে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে পরিদর্শন করেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিচালন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে।

  • আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ ও জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
  • বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন
এদিন সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। আকাশপথে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিপুল জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায়ও এ বন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মৎস্যসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী, শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ভিড়
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দুর্গম উপকূলীয় জনপদটিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এ সফরের গুরুত্ব কেবল প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

নদীভাঙন, পানির সংকট ও যোগাযোগের দুর্ভোগ
সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপের নলিয়ান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। নদীভাঙন, নিরাপদ পানির অভাব, লবণাক্ততা এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। উপকূলীয় জনপদের টেকসই উন্নয়নে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি। নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সারা বছর চলাচল উপযোগী সড়ক এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবমুখী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

সফর উপলক্ষে জোরদার নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড। সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থানেও ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন
নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে যান। পরে সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরের প্রধান ফটকে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

বন্দর সম্প্রসারণে বাড়তে পারে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহন, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আধুনিক বন্দর গড়ে তোলার জন্য শুধু জেটি বা কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। পণ্য ওঠানামার গতি, জাহাজ চলাচলের সুবিধা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহন, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা
সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে টার্মিনালের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, অনুমোদন, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া প্রকল্পটির চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া যায় না। সুন্দরবনের কাছাকাছি বড় জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বন, নদী, জলজ প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সফরে দক্ষিণাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন নলিয়ানের মানুষের নদীভাঙন, সুপেয় পানি ও যোগাযোগসংকট; অন্যদিকে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

এই দুই ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। সুন্দরবন থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, উপকূলীয় জনজীবন ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর গুরুত্ব সামনে এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন—পরিদর্শনে উঠে আসা সম্ভাবনাগুলো কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান এবং উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে রূপ নেয়।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

 

সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভ্রমণ অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬২টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদিগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটের মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারীদের ওপরও।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীকে যাত্রার সময় পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা এবং টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি, সৌদি আরবে নতুন করে কাজে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, সময়সূচি ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন