খুঁজুন
                               
, ,
           

সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

সরকারের কাছে সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে স্মারকলিপিটি পেশ করেন বাপার নেতারা। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও উপস্থিত ছিলেন। বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সহসভাপতি খুশি কবির, মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক ড. এম. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক ড. হালিম দাদ খান, এস এম মিজানুর রহমান এবং খন্দকার আজিজুল হক মনিও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাপার নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাপার পক্ষ থেকে দেশের নদ-নদীতে মেগা প্রকল্পের ফলে নদীর আকার-প্রকৃতির পরিবর্তন, স্লুইসগেটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর বর্তমান বাস্তব চিত্র, বুড়িগঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ, বড়াল নদী ও চলনবিলের মাছ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের সমস্যা, বিল হরিণা ও ভবদহের দুর্ভোগ, নদ-নদীতে বাঁধ বা পোল্ডারের অপ্রয়োজনীয়তা, দেশের হাওরগুলোর সমস্যা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন বাপার নেতারা।

মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই পরিবেশ ও নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ বিষয়ে সরকারের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাপার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় চলনবিলের পদ্মা-যমুনা ও অভ্যন্তরীণ নদীপথের একমাত্র পতিতমুখ বন্ধ করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিবর্তে অন্যত্র করার বিষয়ে চিন্তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা স্মারকলিপিতে যেসব সুপারিশ করা হয়—

১) নদ-নদীর প্রতি উন্মুক্ত নীতিকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করবেন; প্লাবনভূমিতে নদ-নদীর আসা-যাওয়ার পথে ইতিমধ্যে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেবেন; এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবেন।

২) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) অধীনে উপকূলের পোল্ডারগুলোর বাঁধ আরও নিশ্ছিদ্র করার পরিবর্তে সেগুলোকে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে পোল্ডারের মধ্যে বর্ষাকালে পলিযুক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে এবং পলিপতনের মাধ্যমে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত নিমজ্জনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৩) দেশের অভ্যন্তরে যেসব পোল্ডার নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর বাঁধও ক্রমান্বয়ে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে বর্ষাকালে নদীর পানি পোল্ডারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং বর্ষা শেষে আবার নদীতে ফিরে যেতে পারে। এর ফলে পোল্ডারের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এ ধারায় অগ্রসর হয়ে ভবদহসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কার্যকরভাবে নিরসন করবেন।

৪) পোল্ডারের সঙ্গে সম্পর্কহীনভাবে দেশের নদ-নদীর ওপর যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমন—স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর, প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সংকীর্ণ সেতু ও কালভার্ট—সেগুলো অপসারণ করে নদ-নদীর প্রবাহ বাধাহীন করার নির্দেশ দেবেন।

৫) সিএস মানচিত্র অনুযায়ী দেশের সব নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার করবেন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

৬) গঙ্গা ও যমুনার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী চলনবিলের প্রধান নদী বড়ালকে অবমুক্ত করার অর্ধসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আশু পদক্ষেপ নেবেন।

৭) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যেসব নদী ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে মহেশখালীর কোহেলিয়া অন্যতম, সেগুলো পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

৮) নদ-নদী ও জলাশয়কে আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত করার বর্তমান প্রবণতা রোধ করবেন এবং হবিগঞ্জের সুতাং, ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ, কক্সবাজারের বাঁকখালী, খুলনার ময়ূরসহ দেশের সব নদ-নদীকে দূষণমুক্ত করবেন।

৯) নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে নদ-নদীর পাড়ভাঙন রোধ এবং পাড় স্থিতিশীল করাকে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসেবে গ্রহণ করবেন। সে লক্ষ্যে জিওব্যাগ পদ্ধতিসহ দেশীয় বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহারের ভিত্তিতে অগ্রসর হবেন।

১০) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালী করবেন এবং নদ-নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

১১) আন্তর্জাতিক নদ-নদীর ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার আদায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন এবং গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে ৫ ও ৬ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত যথাক্রমে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং সফল চুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে যা করতে হবে শীর্ষক নিবন্ধে উপস্থাপিত বিভিন্ন পরামর্শ বিবেচনায় নিতে পারেন।

১২) তিস্তা নদীর সংকট সমাধানে বিদেশি কোম্পানির প্রস্তুত করা প্রকল্পের পরিবর্তে দেশীয় পারদর্শিতা, দেশীয় প্রযুক্তি, দেশীয় অর্থায়ন ও উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষ ও দেশবাসীর সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করবেন।

১৩) গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে জাতীয় পর্যায়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেবেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচে ১২ থেকে ১৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানো সত্ত্বেও কেন তা গড়াই-মধুমতি, বড়াল ও অন্যান্য শাখানদীতে প্রবেশ করছে না, তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলো অপসারণে পাউবোকে নির্দেশ দেবেন। কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি শাখানদীগুলোতে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হলে প্রস্তাবিত গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ সম্পর্কে আরও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

১৪) উপর্যুক্ত ধারায় আপনার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি বাপার সমর্থন থাকবে এবং বাপা সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন পরিকল্পনা সরকারের

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখা, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামত করা হয়েছে। তবে এলএনজি কার্গো সরবরাহে কিছু সমস্যার কারণে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগছে।

শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বকেয়া বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। এতে শিল্প খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত এই গ্যাস জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতেও বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়ে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন নতুন করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে।

এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজারদর বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও ইউরোপের বাড়তি চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চলমান সংকট একদিনে তৈরি হয়নি; এটি বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল। সংকট কাটিয়ে একটি ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা নেই; বরং ধীরে ধীরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন আনসার-ভিডিপির ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন আনসার-ভিডিপির ডিজি

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে উৎসবমুখর ও গৌরবোজ্জ্বল পরিবেশে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান, নতুন পদায়নপ্রাপ্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত বিদায়ী কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সদর দপ্তর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ উপমহাপরিচালক পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. আসাদুজ্জামান গনীসহ চাকরিজীবনের ২০ বছর পূর্ণ করে পরিচালক ও উপপরিচালক পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

উপসচিব পদে নতুন কর্মস্থলে পদায়নপ্রাপ্ত মোহা. ইয়াছিন আরাফাত এবং চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়া বিদায়ী কর্মকর্তা পরিচালক মো. আব্দুস সামাদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জিত এই পদোন্নতি কর্মকর্তাদের আগামী দিনের দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা কমান্ড্যান্ট, ঢাকা মহানগরের ৪ জোনের অধিনায়ক এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও বিদায়ী কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চলতি অর্থবছরেই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
চলতি অর্থবছরেই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়গুলো জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষ আগামী সপ্তাহে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনার জন্য ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের তফসিল, তারিখ নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। ইসির সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিং করবে।

বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় পানি সরবরাহে ডেনমার্কের সহায়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, রাজধানীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে ডেনমার্ক। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ফেজের কাজ শেষ করতে ডেনমার্ক সহায়তা করবে। এই ধাপে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পানি শোধনাগারে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা সহায়তা করবে দেশটি। এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা অনুদান। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা আগামী ২০ বছরে ধাপে ধাপে পরিশোধ করবে সরকার। এতে সরকারের ওপর চাপ পড়বে না।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মেঘনা নদী থেকে ৯৫ কোটি লিটার পানি শোধন সম্ভব হবে।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ডেনমার্ক ১০০ কোটি টাকা দেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ