খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদায় হজের ভাষণ আজও প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
বিদায় হজের ভাষণ আজও প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিদায় হজ্বের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এর বিদায় হজের ভাষণে মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরি-এর উদযাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোন জাতিকে শক্তিশালী করে না। অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনও ফিরে না আসে, সেজন্য রাসূল (সা.)-কে অনুসরণ করে এবং ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তাঁর চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পরম মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন মমতাশীল।

এসময় তিনি রাসূল (সা.) এর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সমন্বয়ে যে সমাজব্যবস্থা, পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের জাতীয় জীবনে অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েত, মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর আগমন ছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় ঘটনা। তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন, সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য হবে রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি।

এসময় তিনি বাংলাদেশের ইসলমী সংস্কৃতি উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অবদান উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইতোমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম সাহেবদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদেরও সম্মানী ভাতা প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, ২০৩০ সালের আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে।

এসময় তিনি সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, গুজব, হিংসা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অসহিষ্ণুতা দূর করতে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে আলেম ওলামারা অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিশেষে ঈদে-মিলাদুন্নবী (স:)-১৪৪৮ হিজরী উদযাপন উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, আমি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি এবং সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করছি।

বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতি ঈদে-মিলাদুন্নবী-১৪৪৮ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সিরাত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে আল কুরআনুল করিম এনসাইক্লোপিডিয়া এর একটি সেট উপহার দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশ কারও কাছে মাথানত করবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ কারও কাছে মাথানত করবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আর কখনো বাংলাদেশ কারও কাছে মাথানত করবে না।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্পিকাররে মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, অলোচিত মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে সে সম্পর্কে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জবাবে স্পিকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্যাক্টকে (চুক্তি) বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এটি বিশ্ব মুসলিম পরিবারের আত্মরক্ষার বিষয়।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর তাৎপর্য নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ-ই এই তিনটি দেশ এই ধরনের চুক্তিতে একমত হয়নি। ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীত সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পারিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল। তারই ধারাবাহিকতাই এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি।

এই চুক্তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে, এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়া নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের বক্তব্যই পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশে যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে, এই বাংলাদেশ যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাবো।’

বঙ্গভবনের দরবার হলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কারো প্রতি তার কোনো রাগ-অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তার একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য রাখতে হবে। এসময় তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল এবং অপচয় রোধের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতির কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’

তিনি ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে বাংলাদেশ থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। ফোনালাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তারা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা তাদের চাহিদার কথা আমাদের জানাবেন। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিদেশি পর্যটকদের একটি দল মানস সরবরের দিকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে উদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোতে কোশী নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ