খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গুতে একদিনে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, শনাক্তেও রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে একদিনে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, শনাক্তেও রেকর্ড

মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে চলতি বছরের সর্বোচ্চ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৬৩ জন, এটিও চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছরে সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে। একই সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন।

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) ডেঙ্গুতে একদিনে তিনজনের মৃত্যু হয়। এদিন রোগটিতে আক্রান্ত হন এক হাজার ৯৭ জন, যা ছিল চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনই ঢাকার। এর মধ্যে দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি এবং একজন উত্তর সিটির বাসিন্দা। মারা যাওয়া অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

প্রতিবেদন আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মাঝে বরিশাল বিভাগের ১৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২০ জন, ঢাকা বিভাগের ১৫৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১২৩ জন, খুলনা বিভাগের ২৮৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬৯ জন, রাজশাহী বিভাগের ৮৭ জন, রংপুর বিভাগের ৭ জন এবং সিলেট বিভাগের একজন রোগী রয়েছেন।

প্রতিবেদন আরও বলছে, চলতি বছরে মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনের মধ্যে পুরুষ ৬১ শতাংশ এবং নারী ৩৯ শতাংশ।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছরে এই সংখ্যা মোট ৩৩ হাজার ২০৫ জন।

এর আগে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। অন্যদিকে ২০২৪ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মিয়ারচরের শত পরিবার

বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মিয়ারচরের শত পরিবার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই বছরে নদীভাঙনে অন্তত ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেসব আশ্রয়স্থলও এখন নদীর গ্রাসে চলে যাচ্ছে।

মিয়ারচরের বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই ঘরও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী বলেন, নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লারখাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, তীব্র স্রোতে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার একটি অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার বাসিন্দারাও জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়ক ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অন্য অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাফিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাফিস আহমেদের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার বাঁশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম গাজী। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নিহতের খালাতো ভাই শেখ নাজমুল হাসান জানান, বুধবার রাতে চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন রাফিস। এ সময় পাশের একটি দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাকবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি চলছিল।

বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে রাফিস সেখানে গেলে একপর্যায়ে ঝালমুড়ি বিক্রেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিসসহ আরও দুজনের ওপর হামলা চালান। এতে রাফিসের পেটের ডান পাশে গভীর ছুরিকাঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুল হাসান আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে একটি টহল পুলিশ দল আটক করে। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রাফিসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সর্জন পদ্ধতিতে একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি মরিচ ও কাঠ কচু চাষ করছেন তিনি। তাঁর সফলতা দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠ কচু। ফলে একই জমি থেকে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেডের দুই পাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।

তিনি জানান, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মুসলিম উদ্দীনের উদ্যোগ সফল হওয়ায় মিরসরাইয়ের অন্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন। এতে পতিত বা নিচু জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি