খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত, সবার বা‌ড়ি সি‌লে‌টে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত, সবার বা‌ড়ি সি‌লে‌টে

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) রাতে রিয়াদ–তায়েফ সড়কের রিদওয়ান ব্রিজের প্রায় সাত কিলোমিটার পর আল-হাওয়িয়াহর দিকে একটি ইনোভা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যু ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসীরা হলেন- করিম উদ্দিন, খালিদ মিয়া, আমিন মিয়া এবং শাহ আলম।

দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত আরবি নথি অনুযায়ী নিহত চারজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের সবার বাড়ি সিলেট বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরমধ্যে করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়ার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে আল-মুইয়্যাহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এক শোকবার্তায় তারা জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে নিহতদের ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি

সার্বভৌম মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
সার্বভৌম মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভারতের আগ্রহের কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

নোট মুদ্রণে ব্যয় দ্বিগুণ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
নোট মুদ্রণে ব্যয় দ্বিগুণ

নতুন টাকা ছাপানোর খরচ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকনোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা, অর্থাৎ ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিটরস রিপোর্ট ও অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টসে এই ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। পাঁচ অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করলেও দেখা যায়, সর্বশেষ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে।

বেশি টাকা ছাপানোর কারণে নয়
নোট মুদ্রণের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি বাজারে সরবরাহের জন্য এবার অনেক বেশি নতুন নোট ছাপানো হয়েছে? বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা বলছে, বিষয়টি তেমন নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন নোট মুদ্রণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে নোটের পরিমাণের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং একটি নোট উৎপাদনের পেছনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়াই এবারের ব্যয় বৃদ্ধির বড় কারণ।

নোট মুদ্রণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানের কাগজ বা কালি ব্যবহার করা যায় না। নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এসব পণ্যের সরবরাহকারীও বিশ্বজুড়ে সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নোট তৈরির কাগজ ও কালি অত্যন্ত বিশেষায়িত হওয়ায় এসব উপকরণের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম। ফলে সরবরাহকারীদের সঙ্গে দাম কমানোর জন্য বড় ধরনের দর-কষাকষির সুযোগ থাকে না।

তার ব্যাখ্যায়, বিশেষায়িত কাগজ ও কালি তৈরির প্রক্রিয়াই তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এমনকি বিশ্বের সব দেশেও ব্যাংকনোট তৈরির নিরাপত্তা কাগজ উৎপাদন হয় না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব উপকরণের দাম বাড়লে বাংলাদেশকেও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এবার নোট মুদ্রণের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির বড় ভূমিকা রয়েছে। বৈশ্বিকভাবে কাগজের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহের খরচও বেড়েছে।

আরিফ হোসেন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি বিনিময় হারের প্রভাবও কিছুটা রয়েছে। তবে সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে ব্যাংকনোট ছাপানোর কাজ করে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড—এসপিসিবিএল। তবে নোট তৈরির প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের একটি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের নোট মুদ্রণের ব্যয়ের সরাসরি যোগ রয়েছে।

ডলারের বিনিময় হারও মুদ্রণ ব্যয়ে প্রভাব
আমদানিনির্ভর উপকরণ ব্যবহারের কারণে ডলারের বিনিময় হারও মুদ্রণ ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু গত এক বছরে এ ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন শেষে আন্তঃব্যাংক গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২৬ সালের জুন শেষে সেটি বেড়ে হয়েছে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে পরিবর্তন মাত্র ৮ পয়সা, বা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। যেখানে নোট মুদ্রণের ব্যয় বেড়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি, সেখানে বিনিময় হারের সামান্য পরিবর্তনকে এই বিশাল ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই বেশি।

খরচ বাড়িয়েছে নতুন নকশা
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিযুক্ত নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার ব্যাংকনোট চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের নকশা পরিবর্তনের কাজও এগিয়েছে। তবে নতুন নকশার কারণে মুদ্রণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—এমন ধারণা নাকচ করেছেন আরিফ হোসেন খান। তাঁর মতে, নকশা পরিবর্তনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে খুব কম। নতুন নকশা মুদ্রণপ্রক্রিয়ায় কিছু বাড়তি জটিলতা তৈরি করলেও ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ এটি নয়।

পাঁচ বছরের চিত্রে এবারই সর্বোচ্চ
নোট মুদ্রণের ব্যয়ের গতিপথেও এবারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্পষ্ট। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ সালে তা কমে হয় ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ সালে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় আরও কমে ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় নেমেছিল। কিন্তু এক বছর পরই তা বেড়ে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

ফলে পরিসংখ্যান বলছে, এবার শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, গত পাঁচ অর্থবছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় নোট মুদ্রণে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—নতুন নোটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও এই ব্যয় বেড়েছে। অর্থাৎ এবারের হিসাব মূলত বেশি টাকা ছাপার চেয়ে টাকা তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ার চিত্রই তুলে ধরছে। বিশেষায়িত কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজার, সরবরাহ সংকট এবং সীমিত সরবরাহকারীর কারণে এই ব্যয় আগামী দিনেও বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের চাপ হয়ে থাকতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

উগ্রবাদ-অসহিষ্ণুতা রোধে গবেষণার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
উগ্রবাদ-অসহিষ্ণুতা রোধে গবেষণার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

দেশে উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা, সামাজিক বিভাজন ও মেরুকরণের মতো সংকট মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেছেন, গবেষণার লক্ষ্য শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ, উদ্ধৃতি বাড়ানো কিংবা গবেষকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত প্রোফাইল সমৃদ্ধ করা নয়। মানুষের জীবন ও সমাজের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার ফল কাজে লাগাতে পারাই গবেষণার প্রকৃত সার্থকতা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় মানবকেন্দ্রিক ও প্রমাণভিত্তিক নীতি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাময়িকীতেও গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। তবে গবেষণার ফল মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো না গেলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। তাই উগ্রবাদ ও অসহিষ্ণুতাকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। এর পেছনে থাকা সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন কারণও অনুসন্ধান করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন শাখার গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস ও সামাজিক পটভূমির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তার মতে, এ ধরনের চর্চা শিক্ষার্থীদের মানবিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের জটিল সমস্যা মোকাবিলায় সব ধরনের জ্ঞান ও গবেষণার সমন্বয় প্রয়োজন।

তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে মামুন আহমেদ বলেন, সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এমন মানসম্পন্ন গবেষণা প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এলে অর্থায়নে ইউজিসি প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় বড় না ছোট, পুরোনো না নতুন, এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। প্রকল্পের মান ও গবেষকদের সক্ষমতার ভিত্তিতেই অর্থায়ন দেওয়া হবে।

ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের ‘ইন্টার রিলিজিয়াস ডায়ালগ, রিজিলিয়েন্স বিল্ডিং, অ্যান্ড কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক উপপ্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি পলিসি ল্যাব এবং বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করে।

সম্মেলনে মূল বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. গর্ডন ক্লাব। উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপ-উপাচার্য মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাঈম আশফাক চৌধুরী।

এ ছাড়া হিট উপ-প্রকল্পের এসপিএম ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি ল্যাবের গবেষণা পরিচালক ড. মো. দিদারুল ইসলাম প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ