খুঁজুন
                               
, ,
           

শি জিনপিংকে লালগালিচার আড়ালে দর-কষাকষি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শি জিনপিংকে লালগালিচার আড়ালে দর-কষাকষি

এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে নিজেই হাজির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক ঘাঁটিতে লালগালিচা, সামরিক আনুষ্ঠানিকতা, রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ—শির সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটনের আয়োজন যেন বলে দিচ্ছে, অতিথি এবার সাধারণ কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নন।

  • বিমানবন্দরে ট্রাম্পের অভ্যর্থনা
  • রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ—জাঁকজমকের আড়ালে বাণিজ্য
  • তাইওয়ান ও প্রযুক্তির সংঘাত

কিন্তু লালগালিচার নিচেই জমে আছে কঠিন হিসাব। বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে বিরল খনিজ, তাইওয়ান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিং মুখোমুখি। ফলে এই সফরের আসল পরীক্ষা অভ্যর্থনার জাঁকজমকে নয়; দুই নেতা কতটা সংঘাত সামলে সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে পারেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

লালগালিচার আড়ালে ট্রাম্পের হিসাব
শির সফরে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের জায়গায় বাণিজ্য। পাল্টাপাল্টি শুল্কে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক একসময় ভয়াবহ উত্তেজনায় পৌঁছেছিল। পরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির পথে যায়। এখন সেই সমঝোতা আরও কিছু সময় বহাল রাখার পাশাপাশি বড় বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের জন্য এর গুরুত্ব শুধু অর্থনীতিতে সীমিত নয়। বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা মার্কিন ভোক্তা ও শিল্প খাতে চাপ বাড়াতে পারে। বিপরীতে চীনের সঙ্গে সমঝোতার দৃশ্যমান অগ্রগতি ওয়াশিংটনের জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা তৈরি করতে পারে।তবে শুল্ক কমানোই সব নয়। চীনের বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্যের প্রবেশ, বিরল খনিজ, প্রযুক্তি এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ—সবগুলো প্রশ্নই আলোচনার টেবিলে আলাদা হিসাব তৈরি করবে।

এবার শির হাতেও চাপের অস্ত্র
শি ওয়াশিংটনে এসেছেন আগের তুলনায় শক্তিশালী দর-কষাকষির অবস্থান নিয়ে। চীন এখন শুধু সস্তা পণ্যের উৎপাদক নয়; বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, শিল্প প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থায় দেশটির প্রভাব বেড়েছে।

বিশেষ করে বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে সামরিক প্রযুক্তি—বিভিন্ন শিল্পেই এসব উপাদানের প্রয়োজন। ফলে ওয়াশিংটন যেমন চীনের ওপর শুল্ক ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের চাপ দিতে পারে, বেইজিংয়ের হাতেও রয়েছে পাল্টা চাপ সৃষ্টির বাস্তব সক্ষমতা। এই পরিবর্তিত ভারসাম্যই এবারের বৈঠককে আগের অনেক আলোচনার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

তাইওয়ানে মিলবে না সহজ সমাধান
বাণিজ্যে সমঝোতার রাস্তা থাকলেও সবচেয়ে কঠিন দেয়াল তাইওয়ান। বেইজিংয়ের কাছে এটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ওয়াশিংটনের কাছে তাইওয়ান আবার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি শির আলোচনার অন্যতম কঠিন বিষয় হতে পারে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও চীনের চাপের মুখে তাইওয়ান প্রশ্নে বড় কোনো ছাড় দিতে চাইবে না। অর্থাৎ, বাণিজ্যে ‘দেনা-পাওনা’র হিসাব মিললেও তাইওয়ান প্রশ্নে সমঝোতার জায়গা অনেক সংকীর্ণ।

বাণিজ্য পেরিয়ে যুদ্ধ এখন প্রযুক্তিতে
যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার নতুন ফ্রন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। উন্নত চিপ, এআই মডেল, প্রযুক্তি রপ্তানি এবং সামরিক প্রয়োগ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশ এগিয়ে যেতে চাইছে। শির সফরে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাক্ষাতের আয়োজন তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে একদিকে চীনের প্রযুক্তি বাজারের গুরুত্ব ফুটে উঠছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের প্রযুক্তি-নিরাপত্তা উদ্বেগও স্পষ্ট হচ্ছে। বড় কোনো প্রযুক্তিগত ছাড়ের চেয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরিই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে।

ইরানেও মুখোমুখি ভিন্ন স্বার্থ
ইরান ইস্যু আলোচনায় এলে দুই দেশের স্বার্থের পার্থক্যও সামনে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সংঘাতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে ব্যস্ত, চীনের প্রধান উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহ। ট্রাম্প চাইতে পারেন, ইরান নিয়ে বেইজিং কোনো কূটনৈতিক ভূমিকা নিক। কিন্তু চীন যে ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সংঘাত ঠেকানোই লক্ষ্য
শিকে ঘিরে এত আয়োজন তাই দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের চেয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রয়োজনীয়তাই বেশি তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের উত্থান ঠেকাতে চাপ অব্যাহত রাখতে চায়। চীনও সেই চাপ মেনে নেওয়ার অবস্থানে নেই। ফলে এবারের বৈঠকে বড় ঐতিহাসিক চুক্তির চেয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ ফের তীব্র না হওয়া, যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং সংঘাতের সীমা নির্ধারণ—এই তিনটি বিষয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শির জন্য লালগালিচা যতই বিছানো হোক, বৈঠকের টেবিলে বসবে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি—বন্ধু নয়, হিসাবের অংশীদার।

কালের আলো/জেএন/এমকে

গণপরিবহনে ভাড়ানৈরাজ্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
গণপরিবহনে ভাড়ানৈরাজ্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দাবি

গণপরিবহনে ভাড়ানৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে অবিলম্বে সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের প্রতি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকার বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে। তবে ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী অনেক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি। অথচ নগর ও দূরপাল্লার বাসে দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

সংগঠনটির অভিযোগ, ভাড়ার তালিকা না থাকার সুযোগে বাসের কন্ডাক্টররা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত চার-পাঁচ দিন ধরে রাজধানী ঢাকা এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

গণপরিবহনে ভাড়ানৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে অবিলম্বে ঢাকাসহ সারা দেশে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্থাপনা পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্থাপনা পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠ, ভবন, সুইমিংপুল ও জিমনেসিয়ামের অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব গোলাম মোস্তফা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তিনি রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপ-সচিব গোলাম মোস্তফা স্থাপনাগুলোর অবকাঠামোর গুণগত মান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এসব স্থাপনার প্রশংসা করেন। তবে কিছু স্থানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।

এ সময় জেলা ক্রীড়া অফিস স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এ জন্য রাজশাহী স্টেডিয়ামের তৃতীয় তলায় নির্ধারিত কক্ষগুলো পরিদর্শন করেন উপ-সচিব। পরিদর্শন শেষে কক্ষগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ব্যবহার উপযোগী করার বিষয়ে তিনি মতামত দেন।

পরিদর্শনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুলহাস মিয়া, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মঞ্চ থেকে রাজপথে ইয়াসের খানের এক বার্তা—‘নৈরাজ্যের সুযোগ নেই’

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ ও জামালপুর প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
মঞ্চ থেকে রাজপথে ইয়াসের খানের এক বার্তা—‘নৈরাজ্যের সুযোগ নেই’

রাজনীতির মাঠে একই সুরের দুটি দৃশ্য। একটি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইলের চৌরাস্তা। আর দ্বিতীয়টি বিকেলে জামালপুর শহর। দুই মঞ্চ, দুই জেলা—কিন্তু তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি বার্তাই—দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টাই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্যে একইসঙ্গে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে সতর্কবার্তা, অতীত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার, অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ এবং দেশের উন্নয়ন-স্থিতিশীলতা ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুই দফা রাজপথের কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে একটি শব্দ—স্থিতিশীলতা।

  • নান্দাইল ও জামালপুরে পৃথক সমাবেশ-মিছিল
  • শেখ হাসিনাকে সতর্কবার্তা
  • বিচারের প্রত্যয় ও প্রতিরোধের ঘোষণা

‘ডিসেম্বরে নয়, এখনই আসুন’

এদিন দুপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল চৌরাস্তা চত্বরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইয়াসের খান চৌধুরী। শুরুতেই কঠোর সীমারেখা টেনে বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ এরপর শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তাঁর সরাসরি বক্তব্য, ‘নৈরাজ্যকারী শেখ হাসিনা আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ডিসেম্বরে দেশে আসার পাঁয়তারা করছেন। আমরা বলতে চাই, ডিসেম্বরে না এসে এখনই আসুন। সাবধান হয়ে যান, অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

’ইতিহাস টেনে বর্তমানের বার্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি ও হুমকি দিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ফিরে আসে ইতিহাসের চারটি বাঁক—১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। তাঁর ভাষ্যে, এসব আন্দোলন দমিয়ে রাখা যায়নি। গত ১৭ বছর জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখে তাদের ক্ষমতায় এনেছে।’ বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ১৭ বছরের শাসনামল প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মা-বোনদের সন্তানদের গুলি করে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব এনামুল কাদির, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনি, পৌর বিএনপি নেতা হাসনাত মাহমুদ তালহাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জামালপুরে ‘হাজার হাজার কোটি’র অভিযোগ

নান্দাইলের রাজপথের উত্তাপ পেরিয়ে বিকেলে জামালপুর শহরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এবার তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে আসে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ। তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন সেতু ও ওভারপাস নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, ‘লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের সম্পদ তারা বিদেশে পাচার করেছে। এখন তারা দেশে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ’

জামালপুরের মঞ্চেও ফিরে আসে সেই একই সতর্কতা। তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার সুযোগ দেওয়া হবে না। যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’ দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত করতে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ইয়াসের খান চৌধুরী।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, সংসদ সদস্য এ কে এম সুলতান মাহমুদ বাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল হক, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান আহমেদ খান লোটন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিউর রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সাজিব, পৌর বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আবদুল্লাহ আল মাসুদ। সমাবেশ শেষে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে তমালতলায় গিয়ে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে