খুঁজুন
                               
, ,
           

নদীগর্ভে যাচ্ছে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়ক, ঝুঁকিতে ৫০ বসতবাড়ি

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
নদীগর্ভে যাচ্ছে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়ক, ঝুঁকিতে ৫০ বসতবাড়ি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর ভাঙনে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধের কাজ করছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় আট কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৪০ মিটার। নদীটির গতিপথ আঁকাবাঁকা ও ভাঙনপ্রবণ। চলতি বর্ষা মৌসুমে পানির তীব্র স্রোতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙনের কারণে স্থানীয়দের ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের কোথাও ভেঙে গেছে, আবার কোথাও দেবে গেছে। ফলে ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের টায়ার, চেইন, বিয়ারিং ও মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কলেজছাত্র হৃদয় শেখ বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে সড়কটি পুরোপুরি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে যাতায়াতের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে।

চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী মিস্ত্রি বলেন, নদীভাঙনে তাদের বসতঘর আগেই বিলীন হয়েছে। এখন জমিও ভাঙনের মুখে। বালুর বস্তা ফেলা হলেও ভাঙন থামছে না। সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ডুমরিয়া ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় শৈলদাহ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

রামিসা হত্যা মামলা: অগ্রগতি জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে বাবা

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলা: অগ্রগতি জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে বাবা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারের মামলার অগ্রগতি জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, গত ২১ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছিলেন। পরে ৭ জুন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় ঢাকার আদালত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য রয়েছে। মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে রামিসার বাবা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল শিশু রামিসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া নিজস্ব আইনগত গতিতে এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ ভবনের পাশের একটি ফ্ল্যাটে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

২১ মে আসামি সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২৫ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

এরপর ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ভারতে ভেজাল মদপানে ১৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
ভারতে ভেজাল মদপানে ১৯ জনের মৃত্যু

ভারতের নাগাল্যান্ডে সন্দেহভাজন বিষাক্ত বা ভেজাল মদপানে গত দুই দিনে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের মোককচুং ও তুয়েনসাং জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভেজাল মদের উৎস ও সরবরাহ চক্র শনাক্ত করতে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান করে মোককচুং জেলায় আটজন এবং তুয়েনসাং জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মোককচুং জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ ভেসুপ্রা কেজো জানান, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি কোথা থেকে সন্দেহভাজন ভেজাল মদ এসেছে এবং কীভাবে তা সরবরাহ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করবে।

মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে সন্দেহভাজন মদের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আসামের গুয়াহাটিতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ভেসুপ্রা কেজো বলেন, তদন্তে কিছু সূত্র পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞাত উৎসের, লেবেলবিহীন কিংবা সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে তৈরি বা অনুমোদনহীন মদ কেনা ও পান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সন্দেহজনক মদ পান করার পর কারও মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

নাগাল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই মদ বিক্রি ও পান নিষিদ্ধ। ১৯৯০ সাল থেকে রাজ্যটিতে মদ নিষিদ্ধ আইন কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যেই সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান করে একসঙ্গে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিষিদ্ধ মদের অবৈধ সরবরাহ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সন্দেহভাজন মদের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কালের আলো/এসএ

 

জাপানে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ, দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
জাপানে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ, দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব

জাপানের তরুণ ও কর্মক্ষম জনবলের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ সেমিনার ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। দুই দেশের এই জনমিতিক বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জাপানের জনবল চাহিদা—দুই দিক থেকেই এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণদের জীবনমান উন্নত হবে উল্লেখ করে আবদুল মঈন খান বলেন, একই সঙ্গে জাপানের সেবা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।

জাপানি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব

জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। প্রয়োজনে জাপানি ভাষা শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে জাপানের প্রতিনিধিরা জানান, জাপানে বাংলাদেশের মতো বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী নেই। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কনস্ট্রাকশন, কৃষি, ড্রাইভিং ও নার্সিংসহ বিভিন্ন খাতে জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

তাদের মতে, এসব খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে জাপানে কাজের জন্য আগ্রহী বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি