খুঁজুন
                               
, ,
           

পটিয়া-বোয়ালখালী

কেলিশহর-করলডেঙ্গার পাহাড়ি পথে অস্ত্র-মাদকের কারবারের অভিযোগ

পটিয়া (চট্টগ্রাম)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
কেলিশহর-করলডেঙ্গার পাহাড়ি পথে অস্ত্র-মাদকের কারবারের অভিযোগ

চট্টগ্রামের পটিয়া ও বোয়ালখালীর সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় দুর্গম পথকে ঘিরে অস্ত্র ও মাদক কারবারিদের চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। পাহাড়, বাগান ও ঘন জঙ্গলে ঘেরা এসব নির্জন পথ অপরাধীদের আত্মগোপন ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে কেলিশহর ও করলডেঙ্গা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি কেলিশহরের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। গত ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশীয় এলজিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইন্নারপাড়া ও ছাতিভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, লোহা কাটার যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে কেলিশহর ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের পওলি ছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তিন বাগান মালিকসহ সাতজনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে।

পাশাপাশি পটিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। গত আগস্টে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়ার কাছে একটি চক্রের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। তাদের দাবি, ইয়াবাগুলো কক্সবাজারের রামু থেকে চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে পটিয়ার কেলিশহর ও হাইদগাঁও এবং বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা ও আমুচিয়ার পাহাড়ি এলাকাকে মাদক পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কেলিশহর ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার একটি বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি র‌্যালিও বের করা হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, পটিয়ায় মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেলিশহরসহ পুরো পটিয়ায় পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সমাবেশে বক্তারা মাদকের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়, বাগান ও ঝোপঝাড়ের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অপরাধীদের চলাচল শনাক্ত করা কঠিন। তাই নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও যৌথ অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের সম্ভাব্য সরবরাহপথ চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনেরও দাবি উঠেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করবেন ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করবেন ডা. শফিকুর রহমান

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এলাকায় অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখোশধারী একদল ব্যক্তি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে মালামাল লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবারের পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে দেখবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা ফিরবে না: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা ফিরবে না: নাহিদ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর বিএনপির বিরুদ্ধে যে নৈরাজ্য, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে বলে তারা মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের সামনে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করে নাহিদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।

মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুরের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম স্থানীয় বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা বা সহযোগিতা ছাড়া রাজধানীতে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

দেশের অন্যান্য এলাকার কয়েকটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। হবিগঞ্জে সিএনজি বা অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে তারা মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে দখল-বাণিজ্য চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন বা জবাবদিহির মুখোমুখি হলে মন্ত্রী মূল বিষয় এড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের নিরাপত্তার জন্য তাদের পাশে থাকতে হবে। যেখানে দখলদারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে, সেখানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা

ঢাকার বাতাসের মান আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে ১৬০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

আইকিউএয়ারের তালিকায় ১৭৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। ১৬৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং ১৬১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ। ১৫৬ স্কোর নিয়ে ভারতের কলকাতা রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরের মধ্যে বায়ুর মান ‘ভালো’ বা ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা ‘মাঝারি বা সহনীয়’। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

জলবায়ু পরিবর্তন, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাব জনস্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি