শিক্ষার্থী কমছে সরকারি প্রাথমিকে, বাড়ছে শিক্ষকসংকট
উজিরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকসংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেকগুলোতেই দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে কোথাও ভারপ্রাপ্ত, আবার কোথাও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিভাবক সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু জন্মহার কমে যাওয়াকে শিক্ষার্থী কমার কারণ হিসেবে দেখলে হবে না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং অভিভাবকদের প্রত্যাশার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ফিডিং কর্মসূচিতে বেড়েছে শিক্ষার্থী
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বর থেকে উজিরপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর পর ২০২৬ সালে আগের বছরের তুলনায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। কোন এলাকায় কী কারণে শিক্ষার্থী কমছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণগুলো চিহ্নিত করে পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকসংকটের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলি সুজা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষকসংকটসহ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে শুধু ভর্তি বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি শিক্ষকসংকট দূর করা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array