খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

মুহুরীর পাড়ে উন্নয়নের মহড়া

বিশেষ সংবাদদাতা/ফেনী প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
মুহুরীর পাড়ে উন্নয়নের মহড়া
বৃষ্টিভেজা বিকেল। সামনে মুহুরী নদী। দুই পাড়ে মানুষের ভিড়। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও হাতে ফুল; কারও চোখে কৌতূহল—নানাবাড়ির মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী বলেন? সেই অপেক্ষার মধ্যেই ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় এসে পৌঁছালেন তিনি। ফলক উন্মোচন করলেন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের। নদী খননের উদ্বোধন করলেন, রোপণ করলেন গাছের চারা। এরপর মঞ্চে উঠে একে একে বললেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কৃষকের কথা, খেটে খাওয়া পরিবারের কথা, স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা। ‘ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে এসেছি।’ মুহুরীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই এক বাক্যেই যেন বৃহস্পতিবারের (০১ অক্টোবর) ফেনী সফরের সারাংশ—প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্প, প্রকল্প থেকে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা।
  • ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন
  • ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ডে জনকল্যাণের বার্তা
  • অরাজকতা নিয়ে রাজনৈতিক সতর্কবার্তা

নদীর সঙ্গে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের কাছে মুহুরী-কহুয়া নদী শুধু জলধারা নয়; কখনো আশীর্বাদ, কখনো আতঙ্ক। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে বাঁধের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। পানি উপচে পড়লে ডুবে যায় কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতভিটা, থমকে যায় জনজীবন। সেই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের মোকাবিলায় এবার ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বড় প্রকল্প। ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’—বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৬ জুন একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। কাজ শেষ করার লক্ষ্য ২০৩০ সাল। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘এটি আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি’

প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগে এই নদী খননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি বাস্তবায়ন করতেই তাঁরা এসেছেন। তিনি স্মরণ করেন, দুই-আড়াই বছর আগে বড় বন্যায় মুহুরী ব্রিজের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি যেন আর না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা তৈরি হবে। বাড়বে কৃষি উৎপাদন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের লাভ বাড়বে, বাজারে খাদ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সহজ হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নদী খনন থেকে কৃষকের গোলা

তারেক রহমানের বক্তব্যে নদী খনন কোনো বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন কৃষকের আয় ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন।তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের উপকারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে বলেই সেই কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের মা, কৃষক কার্ডে কৃষক 

ফেনীর দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পরিবারের মায়েদের কাছে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। খেটে খাওয়া পরিবারের মায়েদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কৃষকদের জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড। এদিন, ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড এবং ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়। অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও বিতরণ করা হয় সহায়তার চেক।

উন্নয়নের মঞ্চে রাজনীতির উত্তাপ

তবে ফেনীর মঞ্চ শুধু উন্নয়নের হিসাবেই থেমে থাকেনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক সুর তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কিছু আসনে জয় পাওয়ার পর তারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—অন্যকে নসিহত করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।

‘আগে নিজের ঘরের দিকে নজর দিন’

একটি ‘গুপ্ত রাজনৈতিক দল’-এর নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অন্যদের নসিহত করছেন, তাদের আগে নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া উচিত। নারী নির্যাতন ও একটি মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান।

‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে’

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে আরও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ আবার এক হয়েছে এবং তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ‘এক দফা’ নিয়ে রাজনীতি করা এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন—তাদের মানুষের জন্য কী কর্মসূচি আছে? খাল কাটা, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি তাদের আছে কি না। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘বেহেশতের টিকিট’ নিয়ে সমালোচনা

নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির প্রচারণার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বেহেশতের মালিক আল্লাহ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি ওই প্রচারণাকে রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, তাদের ‘মুনাফেকি’ প্রকাশ হয়ে গেছে। স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ তাদের ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫০ শয্যার

ফেনীর জনসভায় স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনাও সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নানাবাড়ির স্মৃতিতে ফিরে দেখা

রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও ফেনীতে নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসেছেন। সম্ভবত ১৯৮৪ সালে প্রথম এসেছিলেন, এরপর ১৯৯১ সালে। নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করে তাঁর বক্তব্য—‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্যও কাজ করতে হবে।’ ফেনীর ফুলগাজীতে তাঁর নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি। ফুলগাজীসহ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মহাসড়কজুড়ে অভ্যর্থনা

ফেনী যাওয়ার পথও ছিল আলাদা এক দৃশ্যপট। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে বাসে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ফুল, ব্যানার ও দলীয় পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভিড় দেখা যায়। গাড়িবহর অতিক্রমের সময় স্লোগান, ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা—সব মিলিয়ে মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আলাদা আবহ।

নদীর পাড়ে সকাল থেকেই অপেক্ষা

পরশুরামের ঘাটঘর এলাকার দক্ষিণ কাউতলীতে মুহুরী নদীর পাড়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার আগেই সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের সড়ক ও নদীর পাড়ে দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপন—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পূর্ব সাহেবনগরের পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরজাহান নাতিকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপনজনকে দেখার সুযোগও স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কৃষক আবদুল জলিলের প্রত্যাশা আরও বাস্তব—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, কৃষিমন্ত্রী আমীনুর রশিদ, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম।

সূর্যের শক্তিও যাবে জাতীয় গ্রিডে

ফেনী সফরের আরেক কর্মসূচিতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনে স্থাপিত রুফটপ সমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

শেষ দৃশ্যে মুহুরীর পাড়

দিনের শেষে থেকে যায় মুহুরী নদী, বৃষ্টিভেজা মাঠ আর মানুষের প্রত্যাশা। একদিকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প—বাঁধ মেরামত হবে, নদী খনন হবে, সেচের পানি বাড়বে। অন্যদিকে কৃষকের হাতে কার্ড, পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, অসহায় মানুষের হাতে সহায়তা। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা—অরাজকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতা থেকে শুরু করে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা—দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে হেলিকপ্টারে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে পরিদর্শন করেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিচালন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে।

  • আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ ও জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
  • বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন
এদিন সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। আকাশপথে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিপুল জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায়ও এ বন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মৎস্যসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী, শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ভিড়
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দুর্গম উপকূলীয় জনপদটিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এ সফরের গুরুত্ব কেবল প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

নদীভাঙন, পানির সংকট ও যোগাযোগের দুর্ভোগ
সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপের নলিয়ান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। নদীভাঙন, নিরাপদ পানির অভাব, লবণাক্ততা এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। উপকূলীয় জনপদের টেকসই উন্নয়নে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি। নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সারা বছর চলাচল উপযোগী সড়ক এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবমুখী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

সফর উপলক্ষে জোরদার নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড। সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থানেও ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন
নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে যান। পরে সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরের প্রধান ফটকে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

বন্দর সম্প্রসারণে বাড়তে পারে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহন, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আধুনিক বন্দর গড়ে তোলার জন্য শুধু জেটি বা কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। পণ্য ওঠানামার গতি, জাহাজ চলাচলের সুবিধা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহন, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা
সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে টার্মিনালের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, অনুমোদন, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া প্রকল্পটির চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া যায় না। সুন্দরবনের কাছাকাছি বড় জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বন, নদী, জলজ প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সফরে দক্ষিণাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন নলিয়ানের মানুষের নদীভাঙন, সুপেয় পানি ও যোগাযোগসংকট; অন্যদিকে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

এই দুই ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। সুন্দরবন থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, উপকূলীয় জনজীবন ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর গুরুত্ব সামনে এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন—পরিদর্শনে উঠে আসা সম্ভাবনাগুলো কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান এবং উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে রূপ নেয়।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

 

সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভ্রমণ অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬২টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদিগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটের মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারীদের ওপরও।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীকে যাত্রার সময় পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা এবং টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি, সৌদি আরবে নতুন করে কাজে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, সময়সূচি ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন