খুঁজুন
                               
, ,
           

যাকে ভালোবাসি, তাকেই কেন বেশি কষ্ট দিই?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
যাকে ভালোবাসি, তাকেই কেন বেশি কষ্ট দিই?

ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গেই আমরা সবচেয়ে বেশি সময় কাটাই, ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিকল্পনা করি এবং নিজের অনুভূতিগুলোও সবচেয়ে খোলামেলাভাবে প্রকাশ করি। তাই সম্পর্ক যত গভীর হয়, আনন্দের পাশাপাশি অভিমান, হতাশা ও কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়তে পারে।

মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিশ্লেষণেও দেখা যায়, যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তার আচরণই অনেক সময় আমাদের ওপর সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। সাইকোলজি টুডে-এর এক বিশ্লেষণে এর অন্যতম কারণ হিসেবে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ঘনিষ্ঠ মানুষই কেন বেশি প্রভাব ফেলেন?

একজন অপরিচিত মানুষের কথা বা আচরণ সাধারণত আমাদের জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তাই তিনি কোনো ছোটখাটো ভুল করলে সেটি সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকা বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বিষয়টি আলাদা। এই মানুষটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নানা সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন। ফলে তাঁর আচরণ আমাদের আবেগকে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাবিত করে।

একটি ছোট মন্তব্য, অবহেলা কিংবা সময় না দেওয়ার ঘটনাও তাই প্রিয় মানুষের কাছ থেকে এলে অনেক বড় মনে হতে পারে।

অপরিচিতের চেয়ে প্রিয় মানুষের কাছে প্রত্যাশা বেশি

অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আমরা সাধারণত সামাজিক ভদ্রতা বজায় রাখি। তিনি কোনো ভুল করলে বিষয়টি অনেক সময় হাসিমুখে এড়িয়ে যাই।

কিন্তু প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। তিনি আমাদের বুঝবেন, সময় দেবেন, গুরুত্ব দেবেন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সমস্যা তৈরি হয় যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তখন হতাশা, রাগ, অভিমান কিংবা অভিযোগ দেখা দিতে পারে। ফলে যে মানুষটির প্রতি আমাদের সবচেয়ে বেশি টান, তাঁর সঙ্গেই কখনো কখনো বেশি তর্ক বা মনোমালিন্য তৈরি হয়।

ভালোবাসায় শুধু ভদ্রতা নয়, দরকার সততাও

একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবসময় শুধু ভালো কথা বলাই যথেষ্ট নয়। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে দুজনেরই নিজের সমস্যা, কষ্ট, অসন্তুষ্টি ও প্রত্যাশার কথা প্রকাশ করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

সঙ্গীর কোনো আচরণে সমস্যা হলে তা নিয়ে কথা বলা সাময়িকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু সবকিছু মনে চেপে রাখার পরিবর্তে সম্মান ও সংযমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যেখানে সামাজিক ভদ্রতা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে গভীর সম্পর্কে সততা, খোলামেলা যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বেশি কষ্ট পাওয়া কি বেশি ভালোবাসার প্রমাণ?

এখানেই বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রিয় মানুষকে কষ্ট দেওয়া বা তাঁর কাছ থেকে কষ্ট পাওয়া নিজে থেকে ভালোবাসার প্রমাণ নয়।

বরং গভীর সম্পর্ক মানুষকে বেশি সংবেদনশীল ও দুর্বল করে তুলতে পারে। সম্পর্কটি যত গুরুত্বপূর্ণ হয়, সেটি হারানোর ভয়, প্রত্যাশা এবং হতাশার প্রভাবও তত বেশি হতে পারে।

তাই কোনো সম্পর্কের মান বিচার করতে শুধু একটি মুহূর্তে কে কী আচরণ করল, সেটি দেখা যথেষ্ট নয়। বরং দুজন মানুষ দীর্ঘমেয়াদে একে অন্যের প্রতি কতটা যত্নশীল, সমস্যার সময় কীভাবে কথা বলেন এবং ভুলের পর কীভাবে সম্পর্কটি মেরামত করেন—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কষ্টের পর কীভাবে সম্পর্ক সামলানো হয়

প্রতিটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেই মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা মানসিক আঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই পরিস্থিতির পর দুজন কীভাবে তা সামাল দেন।

ক্ষমা চাওয়া, নিজের ভুল স্বীকার করা, অন্যজনের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন হলে নিজের আচরণ পরিবর্তন করা—এসব সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী আরন বেন-জিভ তাঁর ‘দ্য আর্ক অব লাভ’ বইয়ে প্রেমের সম্পর্কের পরিবর্তনশীলতা ও ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় পল টি. পি. ওয়াং ও ক্রিস্টোফার এইচ. মেয়ার ভালোবাসার আনন্দের পাশাপাশি এর সঙ্গে থাকা কষ্ট ও তিক্ততার দিকও তুলে ধরেছেন।

ভালোবাসার আসল পরীক্ষা কোথায়?

ভালোবাসা মানেই এমন সম্পর্ক নয়, যেখানে কখনো কষ্ট, অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝি হবে না। বরং গভীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব ঘটনার পর দুজন কীভাবে আবার একে অন্যের কাছে ফিরতে পারেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই, তাঁর আচরণই আমাদের সবচেয়ে বেশি নাড়া দিতে পারে। তাই প্রিয় মানুষকে কষ্ট দিয়ে ফেললে সেটিকে ভালোবাসার স্বাভাবিক অজুহাত না বানিয়ে, কেন কষ্ট হলো তা বোঝার চেষ্টা করা এবং সম্পর্কটিকে আরও ভালো করার উদ্যোগ নেওয়াই হতে পারে সুস্থ ভালোবাসার পরিচয়।

কালের আলো/এসএ

শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

একটি শিশু নিজের নাম বলল—‘জাইমা’। মুহূর্তেই বদলে গেল অনুষ্ঠানের আবহ। মেয়ের নামের সঙ্গে মিল পেয়ে মুচকি হাসলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ চারপাশে তখন শিশুদের উচ্ছ্বসিত করতালি। এরপর আর কোনো কঠিন প্রটোকল যেন থাকল না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে থাকা শিশুরা একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করল। আর তিনি উত্তর দিতে দিতে ফিরে গেলেন নিজের শৈশবে—বললেন সুন্দরবনের কথা, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ দেখার বিস্ময়ের কথা। জানালেন, ছোটবেলায় বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না; ভাবতেন, বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেবেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৫০ শিশুর উষ্ণ অভ্যর্থনা, প্রশ্নের সরলতা আর প্রধানমন্ত্রীর অকপট জবাব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মানবিক দৃশ্যপট। আর সেই আবহেই উঠে আসে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথাও।

  • শিশুদের হাসি-প্রশ্নে বদলে গেল আয়োজন
  • সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ‘দুনিয়ার সব খেলনা’
  • নিজের গল্পের ফাঁকে শিশুদের দিলেন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হওয়ার পাঠ

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’

এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। কিন্তু নিরাপদ শৈশবের ধারণাকে শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এসেছে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মানবিক মূল্যবোধ—একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের প্রায় সব অনুষঙ্গই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করে শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

পড়ার টেবিলের বাইরেও শৈশব

অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। খেলাধুলা, গান, কেরাত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে ও কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশও তত কনফিডেন্ট হিসেবে গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিশুদের ব্যক্তিগত বিকাশের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা স্পষ্ট। আত্মবিশ্বাসী শিশু মানেই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম—আর সেই প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, এমন প্রত্যাশাই তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। শুধু দক্ষতা নয়, মূল্যবোধের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের সব প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা ছিল সরল—জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সহমর্মিতা না থাকলে মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে খুলে গেল শৈশবের দরজা

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণ এনে দেয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার শিশুরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে এক শিশু বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’ নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকায় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে বলেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠানস্থল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর এক শিশু জানতে চায়, জাইমা রহমান অনুষ্ঠানে কেন আসেননি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। আরেক শিশুর প্রশ্নে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাবার ব্যস্ততার কারণে শৈশবে বাইরে ঘোরার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। তবে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে একবার তিন দিনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।

হিরণ পয়েন্টে নরম কাদার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ নিজের চোখে দেখার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে ভাসে বলে জানান তিনি। শৈশবের স্বপ্ন জানতে চাইলে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আসলে কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। ভাবতাম বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেব।’ নিজের শিক্ষাজীবনের কথাও শিশুদের জানান তিনি। বলেন, তিনি শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন।

প্রযুক্তি—বন্ধ নয়, সঠিক ব্যবহারের পাঠ

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশ্নেও নিষেধের বদলে দায়িত্বশীলতার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পড়াশোনা, বিজ্ঞান মেলা কিংবা খেলাধুলার তথ্য জানতে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো ঠিক নয় বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—প্রযুক্তি যেন শিশুর সময় কেড়ে না নেয়; বরং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথ খুলে দেয়। ডিজিটাল বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য এই বার্তার গুরুত্বও কম নয়। প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে উন্মুক্ত মাঠ

অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রতিটি এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হলেও ইউনিয়ন ও উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুবিধাবঞ্চিত এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞান, গণিত ও খেলাধুলায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শৈশব’ স্মরণিকা, ছবি গ্যালারি ও সোলার প্যানেল

শিশুদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরে শিশু জাদুঘর ভবনে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধনও করেন তিনি। এই আয়োজনের শেষভাগে যেন পাশাপাশি দাঁড়ায় দুটি ছবি—একদিকে শিশুদের আঁকা ভবিষ্যতের স্বপ্ন, অন্যদিকে সেই ভবিষ্যৎকে বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ।

কালের আলো/এএএএমকে

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৯৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৯৯৬

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) পদে যোগদান করেছেন কামারুম মুনিরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কামারুম মুনিরা ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) পদে যোগদান করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহ এবং পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নতুন দায়িত্বে কামারুম মুনিরা এ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি