খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের সুরক্ষায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি পালন করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি প্রতি শনিবার পরিচালনা করতে হবে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব ব্যাংককে আগামী তিন মাস বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি শনিবার এডিস মশা নিধনে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও এটিএম বুথসহ সব স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে এসব স্থানে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পরিত্যক্ত ফুলের টব, কৌটা, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের বোতল এবং পানি জমতে পারে—এমন অন্যান্য পাত্র অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভবনের ছাদ, গ্যারেজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), ফ্রিজ, পানির ট্যাংক ও রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মস্থল ও গ্রাহকসেবার পরিবেশে এডিস মশার প্রজনন কমানো এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাতীয় দিবস পালনে নতুন পরিপত্র, তালিকায় ৯২ দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় দিবস পালনে নতুন পরিপত্র, তালিকায় ৯২ দিবস

দেশে সরকারিভাবে মোট ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রোববার (১১ অক্টোবর) জারি করা এ পরিপত্রে দিবসগুলোর শ্রেণিবিন্যাস, উদ্‌যাপনের ব্যয় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, দিবসগুলো আগের মতোই ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত থাকবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৮টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৯টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তে ‘ক’ শ্রেণিতে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘খ’ শ্রেণিতে ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় চা দিবস পালনের তারিখ ৪ জুন থেকে পরিবর্তন করে ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্রে দিবস পালনের ব্যয়সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘খ’ শ্রেণির দিবস উদ্‌যাপনে সরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে। ‘গ’ শ্রেণির দিবস পালনে উন্নয়ন খাত থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। তবে ‘ক’ শ্রেণির দিবস পালনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যয়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

দিবস উদ্‌যাপনে অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও বড় আয়োজন যথাসম্ভব পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব উপলক্ষে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা আয়োজন এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের ঢাকায় আনার ক্ষেত্রেও সংযত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্যপক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

নতুন পরিপত্র জারির মাধ্যমে গত ১১ মার্চ জারি করা আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে এখন থেকে নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে প্রশ্ন ফাঁস?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে প্রশ্ন ফাঁস?

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের তদারকির মধ্যেই যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় নেবে কে? যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে এখন এ প্রশ্নই সামনে এসেছে। ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল পরীক্ষায়। কিন্তু পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ এবং ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য দুর্নীতির বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

  • চাকরির নামে ২৫ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ
  • ২৪২ পদের নিয়োগ ঘিরে অনিয়ম
  • দায়ীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের ঝুঁকি এড়ানোর পদক্ষেপ হলেও প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল এবং চাকরির নামে অর্থ চাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, তদন্ত যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল কি?
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত শনিবার রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। আগামী ১৬ অক্টোবর নতুন তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

একটি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ফলে প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার অভিযোগের পর এসব ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবহেলা, নিয়ম ভঙ্গ কিংবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

২৫ লাখ টাকায় চাকরির প্রস্তাব
পরীক্ষার আগেই চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করেছেন এক চাকরিপ্রার্থী। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, পঞ্চগড়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার কাছে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব আসে। বলা হয়েছিল, পরীক্ষার আগের রাতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করা হবে।

ওই প্রার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে একটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে রাখার কথা বলা হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় পরে জানানো হয়, পরীক্ষার দিন সকালে তার বাসায় প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে একজন হাজির হবেন এবং তাকে কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করার শর্তও দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবে সম্মতি দিলে পরীক্ষার আগে মোট অর্থের অর্ধেক এবং প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হলে বাকি টাকা দিতে হতো বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি প্রস্তাবে রাজি হননি।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ ধরনের চক্র ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তাদের যোগসাজশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অর্থের বিনিময়ে চাকরির প্রস্তাবের অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

ভোগান্তির দায় নেবে কে?
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ঠাকুরগাঁও থেকে আসা পরীক্ষার্থী শামীম রেজা জানান, আবেদন ও আনুষঙ্গিক খরচের পাশাপাশি ঢাকায় আসতে তার বাসভাড়া লেগেছে ১ হাজার ২০০ টাকা। বন্ধুর মেসে থেকে প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পারেননি। বাড়ি ফিরতেও আবার যাতায়াতের খরচ বহন করতে হবে তাকে।

অনেক প্রার্থী টিউশনির আয় কিংবা ধার করা অর্থ দিয়ে আবেদন ও যাতায়াতের ব্যয় মেটান। ফলে নিয়োগ পরীক্ষার এমন অনিশ্চয়তা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। এ কারণে পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি বিবেচনায় উপযুক্ত প্রতিকার এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে।

ছাত্রদল-এনসিপির দাবি, ডাকসুর ভিপির চার দফা
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা স্থগিত করা আগের অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে শ্রেয়তর পদক্ষেপ। তবে দায়ীদের কঠোরতম শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে তারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অপসারণসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তার দাবির মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

তদন্তে বেরিয়ে আসুক প্রকৃত দায়
প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবহেলা ছিল কি না এবং চাকরি নিশ্চিতের নামে অর্থ চাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমাও যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তের ফল প্রকাশ করা উচিত। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা, নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই এখন শুধু নতুন তারিখে পরীক্ষা আয়োজন নয়, বরং প্রশ্ন ফাঁসের উৎস শনাক্ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ এবং চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

কালের আলো/জেএন/এমকে

গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে রিট, আটক হওয়ার পর আর এগোলেন না গুলশান আরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে রিট, আটক হওয়ার পর আর এগোলেন না গুলশান আরা

গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা। বিদেশযাত্রায় তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আদালতকে জানানোর পর আবেদনটি আর চালাতে চাননি তাঁর আইনজীবীরা। পরে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ হিসেবে খারিজ করে দেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় আবেদনটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

  • গ্রেপ্তারের তথ্য আদালতকে জানানোর পর আবেদন খারিজ
  • সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গুলশান আরা মূলত বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। আবেদনটি ওই বেঞ্চে আইটেম নম্বর চার হিসেবে ছিল এবং আদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, গুলশান আরার পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে একটি পরবর্তী ঘটনা ঘটেছে। সেটি হলো, একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হেফাজতে আছেন। এ কারণে তাঁরা মামলাটি আর চালাতে চান না। পরে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি ‘নট প্রেস’ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ আবেদনটি খারিজ করেছেন।

কী অভিযোগে গ্রেপ্তার?
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান আরাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি গুলশান আরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

রিট খারিজের তাৎপর্য কী?
গুলশান আরার রিট আবেদনটি খারিজ হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গ্রেপ্তারের পর মামলার পরিস্থিতি পরিবর্তন। তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি হেফাজতে থাকায় বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত আবেদনটি আর চালানোর প্রয়োজন নেই। সে পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ করেন।
আইনগতভাবে ‘নট প্রেস’ বলতে সাধারণত আবেদনকারী বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আবেদনটি আর এগিয়ে না নেওয়ার বিষয়টি বোঝায়। এ ধরনের আদেশকে মামলার মূল অভিযোগের বিষয়ে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না। একইভাবে, বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে করা রিট খারিজ হওয়াও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।

ঘটনাটি একই সঙ্গে দুটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় সামনে এনেছে—একদিকে বিদেশযাত্রায় বাধা না দেওয়ার আবেদন, অন্যদিকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও হেফাজত। প্রথম আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়েছে আইনজীবীদের আর না এগোনোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে; অপরদিকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিচার পৃথক বিষয়। এখন সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে