খুঁজুন
                               
, ,
           

১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলবে কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলবে কবে?

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনো নিশ্চিত হয়নি কোনো অর্থই। বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ অর্থায়ন কাঠামো এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আরও ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ও বাজেট সহায়তা চেয়েছে সরকার। অন্যদিকে, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে। সব মিলিয়ে অর্থায়নের আলোচনায় রয়েছে ১৮.২৭ বিলিয়ন ডলার। তবে কোনো প্রস্তাবই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের অর্থায়ন প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সহযোগিতার আশ্বাস মিললেও অর্থের পরিমাণ, ঋণের শর্ত এবং অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বড় অঙ্কের অর্থায়নের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা কবে বাস্তবে রূপ নেবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • বিশ্বব্যাংকের ১৩.৭৭ ও আইএমএফের ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদনের অপেক্ষায়
  • বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে
  • ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়

বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রস্তাব
নিয়মিত সহায়তার বাইরে আগামী তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পেতে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিশেষ কাঠামো প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামের এই উদ্যোগে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সচল রাখা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং জরুরি অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সরবরাহ ও বাণিজ্যের সহনশীলতা বাড়াতে চার বিলিয়ন ডলার, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানে দেড় বিলিয়ন ডলার, আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং সংস্কারে তিন বিলিয়ন ডলার এবং জরুরি ও যৌথ অর্থায়নের জন্য দেড় বিলিয়ন ডলার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। ব্যাংককের বার্ষিক সভাতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাঠামোটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কারিগরি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবটির অনুমোদন, অর্থায়নের শর্ত ও অর্থ ছাড়ের সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়।

চলতি অর্থবছরের ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারও অনিশ্চিত
দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ অর্থায়নের পাশাপাশি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার প্রকল্প অর্থায়ন এবং এক বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। এই অর্থায়নও এখনো অনুমোদিত হয়নি।

সরকারের পাইপলাইনে থাকা ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও খাদ্যনিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্যোগ। তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুবিধা পেতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের আইডা গ্যারান্টির প্রস্তাব রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ফিন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এর জন্য চাওয়া হয়েছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। খাদ্যনিরাপত্তায় জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডর, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড এবং রাজধানীর চারপাশের নদী ও খাল পুনরুদ্ধার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়ন পাওয়া গেলে যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা মিলতে পারে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকাভুক্তি অর্থ ছাড়ের নিশ্চয়তা দেয় না; এ জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও অনুমোদন সম্পন্ন হতে হবে।

আইএমএফের ঋণে বড় শর্ত অর্থনৈতিক সংস্কার
আইএমএফের সঙ্গে সম্ভাব্য ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। ১৬ অক্টোবর ব্যাংককে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচনায় নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলবে।

আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, রাজস্ব আহরণ জোরদার, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কর্মসূচিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এখানে মূল বিবেচ্য শুধু নতুন ঋণের পরিমাণ নয়; বরং অর্থনৈতিক নীতিতে কী পরিবর্তন আনা হবে এবং সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি দেখাতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আলোচনা এগোলেও অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারেও অর্থায়নের চেষ্টা
বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিনিধিদল ইউরোক্লিয়ার, সিটি, ফিচ রেটিংস, নিউইয়র্ক ফেড, এইচএসবিসি, ব্যাংক অব আমেরিকা ও জেপি মরগানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এসব আলোচনায় বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং, সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামষ্টিক অর্থনীতি গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের সংস্কার, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হলেও নতুন অর্থায়নের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা অর্থ ছাড়ের সময়সীমা জানানো হয়নি।

অর্থায়ন পেলেই কি কাটবে অর্থনীতির চাপ?
দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থরতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন বেড়েছে। নতুন অর্থায়ন বাজেটের চাপ সামলানো, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণ পেলেই অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের মতে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অর্থায়ন তুলনামূলক কম ব্যয়ে পাওয়া যায়। যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনীতির প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

তবে তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে এই রুটে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে ট্রেনটি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ থেকে ৫৪৭ টাকা। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা আরও বিস্তৃত হলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই সেবার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। এতে পথে পরিবহন পরিবর্তনের ঝামেলা কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা, টিকিটের পর্যাপ্ততা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

জাপানের পক্ষে নৈশভোজে অংশ নেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়া ও সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

আধুনিক বিমান বাহিনীর সক্ষমতা কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের কার্যকারিতা বজায় রাখা, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সফরে তিনি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিমান শক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

  • জার্মানিতে উড়োজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিদর্শন
  • চেক প্রজাতন্ত্রে ভবিষ্যৎ বিমানশক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ
  • বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর জার্মানি সফরকালে বিমান বাহিনী প্রধান গ্রোব এয়ারক্রাফট এসই-এর আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির টুসেনহাউজেন-ম্যাটসিসে অবস্থিত উড়োজাহাজ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে গ্রোবের তৈরি প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব বিমানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সফর বিদ্যমান উড়োজাহাজের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতেও সহায়ক হতে পারে।

জার্মানি সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দেশটির অন্যতম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে। বিশেষ করে তাদের IRIS-T SLM ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের উপযোগী। একটি দেশের সমন্বিত ও স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিমান বাহিনী প্রধান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ স্থাপনের দিক থেকে এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

জার্মানি সফর শেষে গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেন। চেক বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে তিনি প্রাগে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আধুনিক আকাশযুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মাল্টিরোল লাইট এয়ারক্রাফট, আধুনিক প্যাসিভ ও অ্যাক্টিভ সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি), কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যৎ বিমান শক্তি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, কার্যকর প্রশিক্ষণ, আধুনিক রণকৌশল এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য। প্রাগের সম্মেলন এসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিমান বাহিনী প্রধানের এই সফরের দুটি অংশ পরস্পরের পরিপূরক। জার্মানিতে তিনি উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিমান বাহিনী প্রধানের জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর কেবল আনুষ্ঠানিক সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

এটি আধুনিক বিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে