খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রবৃদ্ধি আছে, স্বস্তি নেই—মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
প্রবৃদ্ধি আছে, স্বস্তি নেই—মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপে ট্রাম্প

অর্থনীতির সূচকে ইতিবাচক বার্তা, কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এমন এক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের মুখে, যেখানে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও ভোটারদের অভিজ্ঞতার মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ব্যবধান। কর্মসংস্থান ও শেয়ারবাজারের চিত্র আশাব্যঞ্জক হলেও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানি ব্যয় এবং সংসারের বাড়তি খরচ নিয়ে অসন্তোষ কাটছে না মার্কিন নাগরিকদের।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই ব্যবধান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি সামাল দিতে না পারায় সেই প্রতিশ্রুতি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।

অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক ভালো থাকলেই যে সাধারণ মানুষ সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট থাকবেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

সূচকে ইতিবাচক চিত্র, মানুষের মনে অসন্তোষ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি একেবারে খারাপ নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। শেয়ারবাজারও রয়েছে প্রায় রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি।

ট্রাম্প প্রশাসন এসব সূচককে নিজেদের নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। প্রেসিডেন্টের দাবি, জো বাইডেনের কাছ থেকে তিনি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন। তাঁর প্রশাসনের নীতির কারণে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির সাফল্যের হিসাব ভিন্ন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কত, গাড়িতে জ্বালানি ভরতে কত খরচ হচ্ছে কিংবা মাস শেষে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য বিল পরিশোধের পর হাতে কত টাকা থাকছে—এসব বিষয়ই তাদের সন্তুষ্টি নির্ধারণ করছে। অর্থাৎ সামগ্রিক অর্থনীতি এগোলেও সেই অগ্রগতির সুফল পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয়ে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দাম বাড়ছে, মজুরি পিছিয়ে
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সংকটের অন্যতম কারণ আয় ও ব্যয়ের মধ্যকার ব্যবধান। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে ৩ শতাংশ। অন্যদিকে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এর অর্থ, গড় মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যবৃদ্ধির হারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে আয় বাড়লেও মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

এখানেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা এবং সাধারণ মানুষের উপলব্ধির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়; বরং দাম আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়তে পারে। কিন্তু যেসব পরিবারকে প্রতিদিন বেশি দামে খাবার, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে, তাদের কাছে এই পার্থক্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।

ডেমোক্র্যাটদের প্রবীণ জরিপকারী সেলিন্ডা লেকের মতে, অর্থনীতিবিদ ও ভোটাররা মূল্যস্ফীতির বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখেন। অর্থনীতিবিদদের কাছে মূল্যবৃদ্ধির গতি কমা ইতিবাচক সংকেত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক সময় থাকে, দাম কমে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের এই দূরত্বই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শুল্কনীতি ও ইরান সংঘাত বাড়াচ্ছে চাপ
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব নীতিরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন অর্থনীতিবিদ। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কনীতি আমদানি পণ্যের ব্যয় বাড়ানোর বিতর্ক তৈরি করে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের এক গবেষণা অনুযায়ী, এসব শুল্কের কারণে ভোক্তা পণ্যের দাম প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

পরবর্তী সময়ে কিছু শুল্ক স্থগিত করা, নতুন বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক আরোপে জরুরি ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বাধার কারণে সম্ভাব্য প্রভাব কিছুটা সীমিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার চাপ পড়ে পেট্রলের দামে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে গাড়ি ও জ্বালানির খরচ সরাসরি জড়িত। ফলে জ্বালানির দাম বাড়া মানে শুধু গাড়ি চালানোর ব্যয় বৃদ্ধি নয়; পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচের মাধ্যমেও তা বৃহত্তর অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ পিটার মরিসি শুল্কনীতি ও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে না।

বাইডেনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন ট্রাম্প?
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রশাসনের অভিজ্ঞতার মিল রয়েছে। তখনও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কয়েকটি সূচক শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনঅসন্তোষ বাইডেন প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছিল।

তবে দুই প্রশাসনের পরিস্থিতিতে পার্থক্য রয়েছে। বাইডেনের সময় করোনা মহামারির পর সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নসহ বৈশ্বিক নানা কারণ মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পের সময় শুল্কনীতি ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন উঠছে।

ট্রাম্পের সহযোগী ও অর্থনৈতিক ভাষ্যকার ল্যারি কুডলো শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিকে প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এসব অর্জন সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ কমাতে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতির দাবি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট হবে কি না, তা নির্ভর করছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফেরানোর ওপর।

ভোটারদের মন জয়ে নতুন উদ্যোগ
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ কমাতে হোয়াইট হাউস কর হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপকে সামনে আনছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারে সীমা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এ ছাড়া রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার একটি ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট নীতির ওপর নির্ভর করবে।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক চাপ কমানো নয়, ভোটারদের কাছে প্রশাসনের কার্যকারিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াও। কারণ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়লে প্রবৃদ্ধি বা শেয়ারবাজারের সাফল্যের যুক্তি অনেক সময় যথেষ্ট হয় না।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হবে মানুষের অভিজ্ঞতা
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির ইতিবাচক পরিসংখ্যানকে মানুষের বাস্তব জীবনের স্বস্তিতে রূপান্তর করা। প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ভালো চিত্র প্রশাসনের পক্ষে যুক্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু নিত্যপণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় ও ঋণের খরচ নিয়ে অসন্তোষ থাকলে সেই যুক্তির প্রভাব সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

বাইডেন প্রশাসন অর্থনৈতিক সূচক ও জনমতের মধ্যকার ব্যবধান দূর করতে পারেনি—এমন মূল্যায়ন থেকে ট্রাম্পও পুরোপুরি মুক্ত নন। বরং নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রশ্নে তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ আরও বেশি।

শেষ পর্যন্ত ভোটাররা শুধু অর্থনীতি কতটা বড় হচ্ছে, তা দেখবেন না; বরং সেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি তাদের নিজেদের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনছে, সেটিও বিবেচনা করবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

সাইবার হয়রানির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
সাইবার হয়রানির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীর মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার ও সাইবার হয়রানির অভিযোগে মডেল-অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট ছবি ও লেখা দুই দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের চেম্বার থেকে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযোগ
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সানায়া আনামের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে সানায়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত বছরের ৭ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানায়াকে ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিশার নামে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়, ‘ফেমাস হইলে হইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিব নে’। পরবর্তী সময়ে সানায়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশের মাধ্যমে তার সম্মানহানি করা হয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ
আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিশার ফেসবুক পোস্টে দুজনকে বোন হিসেবে উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও উপহাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সানায়া আনাম একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত হলেও পোস্টে তাদের পেশাগত পরিচয় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশের বিষয়টিকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর লঙ্ঘন হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দিনের মধ্যে পোস্ট সরানোর নির্দেশ
নোটিশে তানজিন নাহার তিশাকে তা পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে আর্থিক মানহানির অভিযোগে এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ দেশের প্রচলিত আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তানজিন নাহার তিশার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএএন/জেএন

মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ধরা পড়ল চিকিৎসক অনুপস্থিতি

কুমিল্লা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ধরা পড়ল চিকিৎসক অনুপস্থিতি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ১২ চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাননি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনারও নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নেন। পাশাপাশি দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

৫১ চিকিৎসকের মধ্যে অনুপস্থিত ১২ জন
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসক রয়েছেন ৫১ জন। মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। অনুপস্থিত চিকিৎসকদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে তাঁদের নির্ধারিত কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেন তিনি। চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

১৫১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে হাসপাতাল
পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান অবস্থা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সেখানে আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা ও বিশেষায়িত সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং একটি ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব সুবিধা চালু করা গেলে কিডনি রোগী, গর্ভবতী মা, নবজাতক এবং ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন এমন রোগীদের স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৬ দিনের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকের ঘাটতি কমানো এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।

হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা-ও বিবেচনা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পরিদর্শনে গুরুত্ব পায়।

বিকল যানবাহন মেরামত ও অ্যাম্বুলেন্সের পরিকল্পনা
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব যানবাহন কন্ডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি। অন্যদিকে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আধুনিক করার উদ্যোগ
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে পরিদর্শনের সময় কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মাকে হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, ঢাকায় প্রথম জানাজা

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
মাকে হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, ঢাকায় প্রথম জানাজা

মা হারালেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। তাঁর মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন নানা শারীরিক জটিলতায়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে মারা যান তিনি।

দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে পপি
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন পপি। জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি। নিজের অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তৈরি করেছিলেন স্বতন্ত্র পরিচিতি।

তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মায়ের মৃত্যুর খবরটি নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মায়ের মৃত্যুতে পপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন