খুঁজুন
                               
, ,
           

বেপরোয়া গতি ঠেকাতে এআই নজরদারিতে এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
বেপরোয়া গতি ঠেকাতে এআই নজরদারিতে এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা কমানো ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিসীমা পর্যবেক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু করা গেলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে দুর্ঘটনা কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

চার বছরে প্রায় ৫৮৯ দুর্ঘটনা, নিহত ১৫২
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় প্রায় ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫২ জন। আহত হয়েছেন ৯৫০ জন। দুর্ঘটনার এই পরিসংখ্যান সড়কটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল, ঝুঁকি নিয়ে অন্য গাড়িকে অতিক্রম করা এবং ট্রাফিক আইন না মানার মতো প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

৫৫ কিলোমিটার সড়কে থাকবে নজরদারি
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার অংশ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকায় এ সড়কে নিরাপদ গতিসীমা বজায় রাখা এবং নিয়ম মেনে ওভারটেকিং করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চালকদের অসতর্কতা ও আইন অমান্য করার কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার আওতায় পুরো এক্সপ্রেসওয়েকে নজরদারির মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে। তবে ক্যামেরা স্থাপনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও মোট ক্যামেরার সংখ্যা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয় মামলার পরিকল্পনা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় মহাসড়কগুলো এআই ক্যামেরার পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এআই ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করা এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া গতি। পুরো এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর মতে, এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে চালকেরা নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে আরও সচেতন হবেন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা, নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

সড়কে সাইন ও সিসি ক্যামেরা থাকলেও দুর্ঘটনা
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ করে সাইন ও মার্কিং দেওয়া আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরাও রয়েছে। তবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা এবং সড়ক আইন অমান্য করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ঘন কুয়াশাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হলে বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দুর্ঘটনা কমাতে ক্যামেরার কার্যকারিতা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।

নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এ সড়কে দুর্ঘটনা কমানো গেলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকলে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে। এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত গতি ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এর বাস্তব ফল নির্ভর করবে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতার ওপর।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

তাহসিফের মৃত্যু তদন্তে মিলল মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
তাহসিফের মৃত্যু তদন্তে মিলল মোটরসাইকেল

তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান মোস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল। তবে মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই চলছে।

মাজার বস্তি এলাকায় পাওয়া যায় মোটরসাইকেল
পিবিআইয়ের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত করছে নৌ পুলিশ, ছায়া তদন্তে পিবিআই
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পাঠানো ওই বার্তায় পিবিআই জানায়, বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। তবে ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে এবং নৌ পুলিশকে সহযোগিতা করছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। নৌ পুলিশকে সহযোগিতার জন্য পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের মতো পিবিআইও কাজ করছে। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে। মোটরসাইকেলটি তাঁর কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া গেলে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

১৬ বছর পর ফিরছে জামালগঞ্জ স্টেশনের যাত্রীসেবা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
১৬ বছর পর ফিরছে জামালগঞ্জ স্টেশনের যাত্রীসেবা

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের যাত্রীসেবা। এই পথে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করলেও স্টেশনটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে অবশেষে স্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের পাকশী বিভাগের উদ্যোগে স্টেশনটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে স্টেশনের কার্যক্রম, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা।

জনবল সংকটে ১৬ বছর ধরে বন্ধ
রেলওয়ের পাকশী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের অভাবে ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে স্টেশনটির কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের প্রক্রিয়া চলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাকশী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্টেশনের অবকাঠামো, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও পরিচালন সরঞ্জাম সচল করা প্রয়োজন। একই চিঠিতে পাকশী বিভাগের ৫৬টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রেন থামে, তবু যাত্রীদের দুর্ভোগ
স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এই রেলপথে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু যাত্রী ওঠানামার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানো হয় না। এর পরিবর্তে প্ল্যাটফর্মবিহীন ২ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠতে ও নামতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। কখনো কখনো নির্ধারিত স্টেশনে নামতে না পেরে পরের স্টেশনে গিয়ে নামতে হয় যাত্রীদের। এতে তাঁদের সময় ও অর্থ—দুটিই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

পর্যটকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন
স্থানীয়দের মতে, জামালগঞ্জ রেলস্টেশন শুধু আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, পর্যটকদের জন্যও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াতেও স্টেশনটি সুবিধা দিতে পারে। তাই স্টেশনটি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও যাতায়াত সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

জনবল সংকটে বাড়ছে রেলকর্মীদের চাপ
স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে শুধু যাত্রীরাই নন, রেলওয়ের কর্মীরাও নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্মরত রেলকর্মীদের ওপর বাড়তি দায়িত্বের চাপ তৈরি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক স্টেশনমাস্টার জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কাজও সামলাতে হয় তাঁকে। তাঁর মতে, বন্ধ স্টেশনগুলো চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা জরুরি। এতে যাত্রীসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কর্মরত কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের চাপও কমবে।

সিগন্যাল ও অবকাঠামো সচলের নির্দেশনা
রেলওয়ের চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশনের লুপ লাইন ফিটকরণ, সিগন্যালিং সরঞ্জাম কার্যকর করা এবং বৈদ্যুতিক ফিটিংস সচল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের প্রক্রিয়াও চলছে।

জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. হাসিবুল হাসান জানান, স্টেশনটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চিঠি তিনি দেখেছেন। এতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর জামালগঞ্জ রেলস্টেশন চালুর উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে কেবল নির্দেশনা বা প্রস্তুতি নয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে স্টেশনটিতে নিয়মিত যাত্রীসেবা চালু হোক—এটাই এখন তাঁদের প্রত্যাশা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দক্ষ চালক তৈরিতে জোর, নিরাপদ সড়কের পথে বিআরটিসির বড় কর্মসূচি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
দক্ষ চালক তৈরিতে জোর, নিরাপদ সড়কের পথে বিআরটিসির বড় কর্মসূচি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, পেশাদার চালকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের সম্ভাবনা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পরিসরে চালক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত দুটি কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন চালক তৈরি করার পাশাপাশি পেশায় নিয়োজিত চালকদের দক্ষতা হালনাগাদ করার উদ্যোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু চালক তৈরির একটি কর্মসূচি নয়; বরং সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • দুই প্রকল্পে ৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
  • কর্মরত চালকদের জন্য থাকছে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ
  • আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ চালকের চাহিদা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা

দুই প্রকল্পে প্রশিক্ষণ পাবেন ৬৮ হাজার চালক
বিআরটিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের (বিআরএসপি) আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার তরুণকে নতুন করে পেশাদার চালক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে, পেশায় আগে থেকেই যুক্ত ২০ হাজার চালককে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। বিআরটিসির চারটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং ২৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিআরটিসির প্রাক্কলন ও কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ (আইসিডব্লিউএস) বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ফাতেমা বেগমের মতে, এই উদ্যোগ দক্ষ চালক তৈরির পাশাপাশি দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, এডিবির অর্থায়নে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি) আওতায় আরও আট হাজার নতুন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। ফলে দুটি কর্মসূচি মিলিয়ে মোট প্রশিক্ষণ লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াচ্ছে ৬৮ হাজারে।

দক্ষতার পাশাপাশি নিরাপদ চালনার ওপর জোর
চালক প্রশিক্ষণের প্রচলিত ধারণা সাধারণত গাড়ি চালানো শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিআরটিসির এই কর্মসূচিগুলোতে চালনার কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি নিরাপদ ড্রাইভিং, যানবাহনের প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে কর্মরত পেশাদার চালকদের জন্য রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালালেই একজন চালকের সব দক্ষতা হালনাগাদ থাকে, এমন নয়। ট্রাফিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাবিধি, যানবাহনের প্রযুক্তি এবং সড়কে ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিআরএসপি প্রকল্পে নতুন চালক তৈরির পাশাপাশি অভিজ্ঞ চালকদের প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্তি তাই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন চালকদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী চালকদের আচরণ ও সক্ষমতার উন্নয়নও জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সুযোগ তৈরির লক্ষ্য
এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত এসআইসিআইপি কর্মসূচিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চালক হিসেবে কাজের সুযোগ বাড়াতে প্রশিক্ষণার্থীদের ইংরেজি ও আরবি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৩৬০ ঘণ্টা। এতে আত্মরক্ষামূলক ড্রাইভিং, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং পেশাদার চালক হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো হয়।

বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, এসআইসিআইপি কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি। ইতোমধ্যে চারটি ধাপে ২ হাজার ৮৫০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। পঞ্চম ধাপে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আরও ৬৫০ জন।

প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা ব্যক্তিদের সরকার স্বীকৃত সনদ এবং বিনা মূল্যে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীরা যাতায়াত ও টিফিন ভাতাও পাচ্ছেন।

ভাষাগত দক্ষতা যুক্ত করার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে চালকের কাজ পেতে শুধু গাড়ি চালাতে জানাই যথেষ্ট নয়; নিয়োগকর্তার নির্দেশনা বোঝা, ট্রাফিক আইন অনুসরণ, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও প্রয়োজন।

নারী চালক তৈরিতে নতুন সম্ভাবনা
বিআরটিসির চালক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী যাত্রীদের হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য রাখা হয়েছে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান।

নারীদের ড্রাইভিং পেশায় উৎসাহিত করা এবং ‘পিঙ্ক বাস’ সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও দক্ষ নারী চালক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের আগ্রহ তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে এই পেশায় আসার প্রবণতা বাড়ছে।

গণপরিবহনে নারী চালকের অংশগ্রহণ বাড়লে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নারী যাত্রীদের জন্য পরিবহনসেবায় অংশগ্রহণ ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণের সুযোগের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন পরিবেশ, উপযুক্ত কর্মঘণ্টা এবং নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আগের অভিজ্ঞতা এবার কতটা কাজে লাগবে?
চালক প্রশিক্ষণে বিআরটিসির পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সংস্থাটি এর আগে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইআইপি) আওতায় অন্তত ৪৭ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান বিআরএসপি প্রকল্পে প্রথম দফায় প্রায় ৬ হাজার ৪০০ জন নতুন চালকের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের প্রশিক্ষণ চলছে। কর্মরত পেশাদার চালকদের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণও শিগগিরই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণের পর ফল নিশ্চিত চ্যালেঞ্জ
৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ দেশের পরিবহন খাত ও শ্রমবাজারের জন্য সম্ভাবনাময়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে মানের ক্ষেত্রে আপস করা হলে প্রত্যাশিত সুফল ব্যাহত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

প্রথমত, প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো, প্রশিক্ষক, যানবাহন এবং ব্যবহারিক অনুশীলনের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্স দেওয়ার আগে চালকের বাস্তব দক্ষতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণ শেষে দেশীয় পরিবহন প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। পাশাপাশি নারী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং পেশাগত বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিসির কর্মকর্তারা আগ্রহী চালকদের নিকটস্থ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগাযোগ করে নিবন্ধনের তথ্য জানার পরামর্শ দিয়েছেন।

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে