খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সেনাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত হবে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সেনাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত হবে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

নানাদিক থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে তিনদিনব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেনাবাহিনী প্রধানদের এবারের সম্মেলন পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। নিজেদের মধ্যকার সহযোগিতা সম্প্রসারণের মনোনিবেশ করেই ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে সম্মেলনটিতে।

পারস্পরিক সহযোগিতা আর সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত প্রসারিত করার ঐক্যমতে পৌঁছেই এক মঞ্চ ভাগাভাগি করেছেন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৭টি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। এই অঞ্চলের ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদও বিশ্বমঞ্চে সহযোগিতার বিষয়গুলোতেই সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও যেন নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছেন। পারস্পরিক বন্ধুত্ব আরও গভীর এবং টেকসই করতে একমত হয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধানসহ এই অঞ্চলটির জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতারা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এবং পাপুয়া নিউগিনি ডিফেন্স ফোর্সের আয়োজনে চলতি বছরের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেনাবাহিনী প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে গত শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১ টা ৪০ মিনিটে হাওয়াইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

মার্কিন সেনাবাহিনীর আমন্ত্রণে তিনদিনের এই সম্মেলনে সিরিজ কর্মসূচিতে কাটিয়েছেন জেনারেল শফিউদ্দিন। মতবিনিময় করেছেন যুক্তরাজ্যের ফিল্ড আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রালফ উডইসহ বিভিন্ন দেশের বাহিনী প্রধান ও বাহিনীর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে।

আন্তরিক পরিবেশে প্রতিটি বৈঠকই ছিল দ্বিপাক্ষিক। নিজেদের সম্পর্কের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে নানা সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার বৃদ্ধির বিষয়েও ‘ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক’ এ জোর দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনে যোগদান শেষে এদিন দেশে ফিরেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এর আগে তিনি কনফারেন্সের প্রথম দিনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সক্ষমতা এবং মার্কিন আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড পরিচালিত একটি লাইভ ফায়ার মহড়া অবলোকন করেন।

আর্মি চিফস কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে সেনাবাহিনী প্রধান ‘দ্য চেঞ্জিংফিজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট অব ল্যান্ড অপারেশনস’ এবং ‘দ্য ইনভলভিং হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট অব ল্যান্ড অপারেশনস’ বিষয়বস্তু দু’টির ওপর অনুষ্ঠিত প্লেনারি সেশনে অংশ নেন। প্লেনারি সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জেমস মেকনভিল স্বাগত ভাষণ দেন।

এর পাশাপাশি ওই কনফারেন্সে যোগদানকারী যুক্তরাজ্যের ফিল্ড আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রালফ উডইসসহ বিভিন্ন দেশের বাহিনীপ্রধান এবং বাহিনীর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেন।

কনফারেন্সের শেষ দিন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ মার্কিন আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল, জেনারেল চার্লস এ ফ্লিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল আন্দিকা পেরকাসা, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল নাম ইয়ং শিন, রয়াল থাই আর্মির অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল পর্নসাক পুলসাওয়াদ, পাপুয়া নিউগিনির ডিফেন্স ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল গিলবার্ট টরোপো, মঙ্গোলিয়ান ল্যান্ড ফোর্স কমান্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল বুজিনভ আমগালানবাটার, সিঙ্গাপুর আর্মির চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফ্রেডেরিক চো এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের সার্ভিস কোরের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদ শাফিকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

আইএসপিআর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফরের মধ্য দিয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যায়।

কালের আলো/এএএম/এনএন

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি