খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন সাবেক উপদেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন সাবেক উপদেষ্টা!

সাত সদস্যের ‘কিচেন কেবিনেট’ ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সিদ্ধান্ত নিতো বলে দাবি করেছেন সেই সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার হতো কিচেন কেবিনেটের বৈঠক। সেইসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছিল একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব। এর জেরে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও তা গৃহীত হয়নি।

সোমবার (২৫ মে) বেসরকারি টেলিভিশন যমুনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে ড. ইউনূস সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অন্য কোথাও হতো সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সরকারের বেশির ভাগ বড় সিদ্ধান্ত হতো উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চুক্তি প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, এই চুক্তির বিষয়ে কিছু জানত না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। চুক্তির নেপথ্যে ছিলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো কারণ ছিল হয়তো চুক্তি করতে বাধ্য ছিলাম এবং বাধ্যবাধকতা না থাকলে এটা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যথাযথ হতো।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ডিপ স্টেট’ পৃথিবীতে প্রতিটা ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে। পৃথিবীতে কিছুই ঘটে না ‘ডিপ স্টেট’ ছাড়া। তারা সেখানে ম্যানুপুলেট করে থাকে।

নিজের প্রত্যাশার বড় অংশ পূরণ হয়নি জানিয়ে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, কোনো এক উপলক্ষে আমাকে কিচেন কেবিনেটে যেতে হয়েছিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। পরে জেনেছি, প্রতি মঙ্গলবার তারা সেখানে বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসতো। এর বাইরে আমার জানা ছিল না এবং একটা গ্রুপ আছে যারা বসে সিদ্ধান্ত নিতো।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল সরকার। এর কোনো উত্তর দেয়নি ভারত। এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, উত্তর কি আমরা চেয়েছিলাম? কোনো উত্তর খুব একটা আমরা আশা করিনি। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে চলে গেছে বা যাচ্ছে, এমনটা না। মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

বিএনপি সরকারকে নিয়ে এখনই কোনো মূল্যায়ন করতে নারাজ তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনকে সামলানো সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমি কোনো পক্ষেরই লোক হিসেবে বিবেচিত হবো না এবং কেউই আমার শক্র হবে না। এটা হলো বড় চ্যালেঞ্জ; আগেও ছিল, এখনো তাই।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দেশীয় মাছ টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
দেশীয় মাছ টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। মাছের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে যেমন একদিকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি মাছের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজনে গাড়াইল বিলে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, মৎস্য শিকারে ব্যবহারে অবৈধ চায়না জালসহ সব প্রকার জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগসহ গণ জনসচেতনতার প্রয়োজন।

তিনি জানান, টেকসই মৎস্য চাষ ও জল ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব আলী প্রমুখসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ

ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান (সিওএএস) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পুনের খাদকওয়াসলার জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমির সাবেক ছাত্র। এছাড়া তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে মর্যাদাপূর্ণ ‘কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স’ সম্পন্ন করেছেন।

১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশন লাভ করেন ধীরাজ। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে তিনি প্রথম আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তা যিনি সেনাপ্রধান হতে যাচ্ছেন।

দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে সাউদার্ন কমান্ড ও সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অপারেশনাল পদের দায়িত্ব সামলেছেন ধীরাজ শেঠ। এছাড়াও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তিনি।

ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন যখন বৈশ্বিক ভূ-কৌশলগত পরিবেশ ছিল গতিশীল এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও আধুনিক যুদ্ধের সদা পরিবর্তনশীল চরিত্রের কারণে নিরাপত্তা ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলো আরও প্রকট হয়ে উঠছিল।

এদিকে আগামী ৩০ জুন অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ২০২৪ সালের জুন মাসে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পান্ডের কাছ থেকে ৩০তম সেনাপ্রধান (সিওএএস) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি, চলতি মাসে তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের সামরিক ক্যারিয়ারে জেনারেল দ্বিবেদীর মেয়াদে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পাঁচ মাসে ধর্ষণের শিকার ২৫০ নারী ও শিশু: মহিলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
পাঁচ মাসে ধর্ষণের শিকার ২৫০ নারী ও শিশু: মহিলা পরিষদ

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে ১ হাজার ৩৫ নারী ও মেয়ে শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ জন ধর্ষণ, ৬৫ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ১৮ জন ধর্ষণের পর হত্যা এবং ৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম–মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করারও সুপারিশ করেন।

সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত বা ভাইরাল হওয়া ঘটনার বাইরে সব ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন রয়েছে। তবে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন। তিনি নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংলাপে বক্তারা নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ