খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

হরমুজ না খুললে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়াবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
হরমুজ না খুললে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়াবে

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে না দিলে বর্তমানে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার যে মজুতভিত্তিক ব্যবস্থা রয়েছে, তা গ্রীষ্মের শেষ দিকে কার্যকারিতা হারাতে পারে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বিশ্লেষক অ্যারন ব্র্যাডি বলেন, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ব এত দিন মজুত তেলের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এ অবস্থা চিরদিন চলতে পারে না।

ইরানি মিডিয়ার ফাঁস করা শর্তাবলি ভুয়া: দাবি করলেন ট্রাম্প

বর্তমানে বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি আসন্ন। যদিও দিনজুড়ে পরিস্থিতি কয়েকবার বদলেছে। তারপরও বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৯৪ ডলার, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, একসময় মজুত তেলের পরিমাণ এত কমে যাবে যে তা দিয়ে আর সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। তখন বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ম্যাককুয়ারির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শ্রমিক দিবসের (লেবার ডে) সময় পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, যদি যুদ্ধ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে, তাহলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষায় তেলের দাম প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত যেতে হতে পারে।

কী আছে ইরান চুক্তিতে, যা সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে তেল ও গ্যাস খাতের কয়েকজন নির্বাহী জানিয়েছেন, কিছু মজুত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে।

অ্যারন ব্র্যাডি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না গেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানের মজুত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে আসবে বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তখন বাজারে আর কোনও সরবরাহ সুরক্ষা থাকবে না। এর ফলে তেলের দাম, এমনকি পেট্রলের দামও বাড়ার চাপের মুখে পড়বে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল পিকারিংও বলেছেন, গ্রীষ্মের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সীমায় পৌঁছে যেতে পারে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেলের মজুত বাড়ছিল। উৎপাদন বৃদ্ধির হার চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। এ কারণেই তেলের দাম বাড়লেও অনেকের আশঙ্কার মতো ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার বা তারও বেশি হয়নি।

এ ছাড়া চীনের আমদানি কমে যাওয়া, সৌদি আরব ও অন্য কিছু দেশের পাইপলাইনের ব্যবহার বৃদ্ধি, কিছু ট্যাংকারের চলাচল অব্যাহত থাকা এবং বিভিন্ন দেশের কৌশলগত মজুত ব্যবহার বাজারকে স্বস্তি দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেল মজুত দ্রুত কমছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমে ৪২ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।

একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকেও তেল সরবরাহ করছে। তবু মজুত কমার অন্যতম কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রফতানি বৃদ্ধি। এই তেল বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট কিছুটা সামাল দেওয়া যায়।

কেন দলে দলে নাগরিকত্ব ছাড়ছেন মার্কিনিরা

তবে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে তেল রফতানির ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপের কথা তারা বিবেচনা করছেন না।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল ও উপসাগরীয় উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ পরিশোধন বাজারগুলোতে বর্তমানে ৩৫ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। মজুত ৩২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে গেলে ‘বিপদসীমা’ শুরু হবে।

এক বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মজুত এই সীমার নিচে নেমে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা ও দামের আকস্মিক উল্লম্ফনের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যাবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বর্তমানে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেট ভাঙলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, বিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেট ভাঙলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, বিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশ্বকাপ ফুটবলের রঙে রঙিন গোটা দুনিয়া। বিশ্বজয়ের দামামায় মর্যাদার মঞ্চে খেলছে ৪৮ দেশ। ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর ফুটবল উৎসবের খেলা বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নামমাত্র খরচে সরাসরি সম্প্রচার করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সম্প্রচারস্বত্বের জটিলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সিণ্ডিকেটের অভিযোগের অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু ক্যাবল অপারেটরদের চালবাজিতে অনেকেই বিটিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল না দেখতে পাওয়ার অভিযোগ তুলেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এ নিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ করিম নিজের ফেসবুক আইডিতে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

সামাজিক মাধ্যমের সেই পোস্ট সরাসরি নজরে আসে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর। অভিযোগ আমলে নিয়ে সরাসরি অ্যাকশনে যান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বিটিভির ডিডিজিকে (উপ-মহাপরিচালক) ফোন করে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন বিটিভির কর্মকর্তারাও। তাঁরা একই সঙ্গে অপারেটর ও ফিড অপারেটরদের কাছে গিয়ে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হয় পুরো বিষয়টি। সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এভাবেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ভেঙে যায় ক্যাবল অপারেটরদের সিণ্ডিকেট। এখন দর্শকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিটিভিতে উপভোগ করছেন আনন্দের ফুটবল মহারণ। স্বভাবতই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তড়িৎ গতিতে সমস্যার সমাধান করায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেই সাংবাদিকও।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিকাব) সাবেক সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ করিম গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন-‘শান্তিবাগে বিটিভি অফ করে দিয়েছে ক্যাবল অপারেটর। বিশ্বকাপ দেখতে পারছি না। ক্যাবল অপারেটররা সিন্ডিকেট করেছে।’ এই পোস্টটি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর দৃষ্টিতে আসার পর তিনি ক্যাবল অপারেটরদের স্বেচ্ছাচারিতা ও সিণ্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় আদাজল খেয়ে মাঠে নামেন বিটিভির কর্মকর্তারা।

এর পরের গল্পও শুক্রবার (১২ জুন) আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন সাংবাদিক মাসুদ করিম। সেখানে তিনি বলেন, ‘কাল বিশ্বকাপ চলাকালে শান্তিবাগে আমার টিভি সেটে বিটিভি দেখা যাচ্ছিল না। আমি বিষয়টি আমার ক্যাবলের ফিড অপারেটরকে জানাই। তিনি আমাকে টি স্পোর্টসে খেলা দেখার অনুরোধ করেন। আমি তখন তাকে আমার বাসায় আসতে বলি। তিনি এলে আমি তাকে বলি যে, আপনি অন্য চ্যানেল দেখতে বলছেন কেন। তিনি তখন কিছুক্ষণ রিমুট টিপে বলেন যে, বিটিভি আসছে না। এটা পাওয়া যাবে না। আমি বিষয়টি বিটিভিতে আমার বন্ধু মোস্তাফিজ ও অনুজ পন্নিকে জানানোর পর জানতে পারলাম ক্যাবল অপারেটররা সিন্ডিকেট করেছে। তারা অনেক জায়গাতেই টি স্পোর্টসে খেলা দেখতে বলছে। পন্নির নিজের টিভিতেও একই সমস্যা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পন্নি আমাকে বলল, আপনাকে বিটিভি থেকে একজন ফোন করবে।

বিটিভির লাইসেন্স শাখার একজন ফোন করে জানতে চাইলেন, বিটিভি দেখা যাচ্ছে কিনা। আমি দেখলাম, দেখা যাচ্ছে। আমি লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা ও পন্নিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিটিভিতে খেলা দেখতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি, একই সমস্যা। বিটিভি দেখা যাচ্ছে না। অগত্যা আমি বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে অপারেটরদের বিটিভি দেখাতে গড়িমসি জানিয়ে একটি পোষ্ট দিলাম।’ জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক আরও লিখেছেন-‘আমাকে বিটিভি থেকে জানাল মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিটিভির ডিডিজিকে ফোন করেছেন বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। বিটিভির কর্মকর্তারা আমাকে একের পর এক ফোন দিচ্ছেন। আমি তাদের বলেছি, বিটিভি দেখা যাচ্ছে। তবুও তারা অপারেটর ও ফিড অপারেটরদের কাছে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপে অভিভূত সাংবাদিক, প্রশংসা নেটিজেনদের
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিকের সমস্যাকে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেয়া হয়েছে, তাতে অভিভূত হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তার ফেসবুক পোস্টের শেষে আরও লিখেছেন-‘মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার পরিচয় নাই। তবুও তিনি যে সমস্যাটাকে আমলে নিয়েছেন তা দেখে আমি অভিভূত। সকল মন্ত্রী এভাবে কাজ করলে আমাদের নাগরিকদের অনেক সমস্যাই দূর করা সম্ভব। ধন্যবাদ, মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী!’

এই পোস্টটি রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নেটিজেনরা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করছেন। আফরাইম রহমান প্রান্ত নামের একজন লিখেছেন- ‘বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে পরলাম, খুব ভালো লাগলো বিষয়টি। ধন্যবাদ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে।’ এমডি রনি লিখেছেন-‘একজন নাগরিকের সামান্য অভিযোগ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয়, তবে সেটিই জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের ইতিবাচক উদাহরণ। গণমাধ্যমের অবাধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেবাদাতাদেরও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা জরুরি। ঘটনাটি প্রমাণ করে, সদিচ্ছা ও তৎপরতা থাকলে নাগরিক ভোগান্তি নিরসন অসম্ভব নয়।’ এখানে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মহিউদ্দিন আহমেদও। তিনি লিখেছেন-‘দেশের কারো যেন বিটিভিতে খেলা দেখতে সমস্যা না হয় সেজন্য গতকাল রাতে আমি নিজে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশক্রমে কোয়াবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি এবং অনুরোধ করা হয়েছে এমনটি যেন আর কোথাও না ঘটে।’ জামিল রহমান নামে আরেকজনের মন্তব্য-‘সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে আপনার মতো মানুষদের প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য হবে। ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য। আমরাই পারবো সিন্ডিকেটদের বয়কট করতে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

পরিবেশ সুরক্ষায় বিএনপি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রিন্স

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
পরিবেশ সুরক্ষায় বিএনপি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রিন্স

Oplus_131072

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। এ কারণেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি নতুন বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ‘এক শিশু এক গাছ’ কর্মসূচি এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই ধোবাউড়া জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলায় জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জেলা পরিষদের নিজস্ব স্থাপনা ও প্রকল্পভুক্ত এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দেশের অর্থনীতিবিদরা প্রস্তাবিত বাজেটকে মানবিক অর্থনীতি গঠনের প্রচেষ্টা, অর্থনীতিতে গতিশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। বিএনপি দেশ ও জনগণের সমস্যা, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই রাজনীতি করে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনি ইশতেহার ও বাজেট প্রণয়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

সবার প্রতি বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং রোপিত গাছের পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রিয়জনকে গাছ উপহার দিন, সন্তানদের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করুন এবং নিজের আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগান। শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ কামরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আযহারুল ইসলাম কাজল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরসহ জেলা পরিষদ ও বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।

পরে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ধোবাউড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বধ্যভূমি, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন।

কালের আলো/এসএকে

বঙ্গবন্ধুর বাকশাল টেকেনি, কার্ড বন্ধুর টাকশালও টিকবে না: রাশেদ প্রধান

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধুর বাকশাল টেকেনি, কার্ড বন্ধুর টাকশালও টিকবে না: রাশেদ প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেছেন, আগের আওয়ামী লীগের ছিল বঙ্গবন্ধু, আর বিএনপির হয়েছে ‘কার্ড বন্ধু’। বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

তিনি বলেন, তারা কথায় কথায় শুধু নতুন নতুন কার্ডের ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল টিকেনি, কার্ড বন্ধুর টাকশালও টিকবে না।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‌‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলে মনে হয় তিনি বাংলাদেশের নয়, ভারতের কোনো মুখ্যমন্ত্রী।

রাশেদ প্রধান বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো সরকার এত অল্পসময়ের মধ্যে এতটা অজনপ্রিয় ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলে মনে হয় তিনি ভারতের কোনো মুখ্যমন্ত্রী।

কালের আলো/এসআর/এএএন