খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

গৌরবময় সাঁজোয়া কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট সেনাপ্রধান, কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:১২ অপরাহ্ণ
গৌরবময় সাঁজোয়া কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট সেনাপ্রধান, কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

‘প্রাণ দেব মান নয়’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোর। প্রায় ৫০ বছর আগে গৌরবময় এক পথচলা শুরু হয় কোরটির। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামেও রয়েছে তাদের গৌরবোজ্জ্বল এক ইতিহাস। সুদীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁরা পেয়েছে সাতজন কর্নেল কমান্ড্যান্ট। বর্ণাঢ্য সামরিক ঐতিহ্য ও রীতিতেই এবার তাঁরা পেয়েছেন অষ্টম কর্নেল কমান্ড্যান্ট।

গভীর দেশপ্রেম আর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখা এই কোরের নতুন কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বগুড়ায় অবস্থিত মাঝিরা সেনানিবাসে আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের শহীদ লে. বদিউজ্জামান প্যারেড গ্রাউন্ডে অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

সাঁজোয়া কোরের ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত এবং গর্বিত জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

নিজেকে বিশেষ ভাগ্যবান মনে করে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে কোরের জন্য কল্যাণকর যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি কোরের অগ্রযাত্রাকে বেগবান ও আধুনিকায়নেও সবার সহযোগিতা চেয়েছেন নতুন এই কর্নেল কমান্ড্যান্ট।

সেনাপ্রধান সাঁজোয়া কোরের ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে দায়িত্বভার নেওয়ায় নব উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে কোরটির সদস্যদের মাঝেও। অতীতের ধারাবাহিকতায় সামনের দিনগুলোতেও দেশসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রতিটি সদস্য।

বঙ্গবন্ধুর নি:স্বার্থ সংগ্রামেই সার্বভৌম দেশ
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, ‘মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, বহু যুগের নিঃস্বার্থ সংগ্রাম এবং অসামান্য আত্মত্যাগ বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।’

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদদের অপরিমেয় শ্রদ্ধা-বিনয়ের সঙ্গে স্মরণ করে জেনারেল শফিউদ্দিন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আহবানে সাড়া দিয়ে সাঁজোয়া কোরের অকুতোভয় সদস্যরা দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঁজোয়া কোরের ৩৯০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করে ৫৯ জন বীর সেনানী শহীদ হন এবং ০৪ জন সদস্য অনন্য দেশপ্রেম, কর্তব্যবোধ ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য খেতাবপাপ্ত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে এই কোরের সদস্যগণ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সে গৌরবজ্জল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা আগামী দিনে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘মাতৃভূমিকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করার প্রয়াসে মহান মুক্তিযুদ্ধে এই কোরের সদস্যরা যে সাহস, উদ্দীপনা ও অপ্রতিরোধ্য লড়াই করেছিলেন জাতি তা গভীর শ্রদ্ধার সাথে চিরদিন স্মরণ করবে।’

পূর্বসূরীদের স্মরণ; ইতিহাসের বর্ণচ্ছটায় সাঁজোয়া কোর
জেনারেল শফিউদ্দিন বলেন, ‘অভিষেক প্যারেডের মাধ্যমে আমাকে কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে বরণ দিবসের এই তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে আমি স্মরণ করছি সাঁজোয়া কোরের ভূতপূর্ব সকল কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও সেন্টার কমান্ড্যান্টসহ সকল প্রাক্তন সদস্যদের, যাদের দুরদর্শিতা, নিরলস পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই কোর আজ সুদৃঢ় ভিত্তির উপর অধিষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাঁজোয়া কোর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সামরিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসসমৃদ্ধ জ্যেষ্ঠতম কোর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তথা ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে ঢাকা সেনানিবাস্থ বালুঘাটে, ১ম বেংগল ল্যান্সার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁজোয়া কোর তথা সমর সম্রাট এর যাত্রা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাঁজোয়া কোর দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ১৯৮৯ সালের ৫ এপ্রিল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সাঁজোয়া কোরের প্রথম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হন। সাঁজোয়া কোর ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় পতাকা এবং একই বছরের ২৬ এপ্রিল রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করে।’

সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত সম্পর্কের মাত্রা
অষ্টম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি পদাতিক রেজিমেন্টের সদস্য হলেও পেশাগত জীবনের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে এই কোরের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জিওসি, আর্টডক হিসেবে দায়িত্ব পালানকালে সেই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়।

চলতি বছরের ২৪ জুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ পূর্বক আজ সাঁজোয়া কোরের ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ায় এই সম্পর্কের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠতম ও ঐতিহ্যবাহী এই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি আবারো বলছি, আমি অত্যন্ত গর্বিত।

অনুষ্ঠানে আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, সেনা সদরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৪১ তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে যোগদান
আইএসপিআর জানায়, এদিন প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধানকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানানো হয় এবং সাঁজোয়া কোরের একটি চৌকষ দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। পরে সেনাবাহিনী প্রধান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী সাঁজোয়া কোরের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘সাঁজোয়া চিরন্তন’ এ পুস্পস্তবক অর্পন করেন এবং আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের ঐতিহ্যবাহী সাঁজোয়া জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান সাঁজোয়া কোরের ৪১তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে যোগ দেন। তিনি সম্মেলনে উপস্থিত সাঁজোয়া কোরের ইউনিটসমূহের অধিনায়ক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এবং সাঁজোয়া কোরের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

সেনাপ্রধান সাঁজোয়া কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই কোরের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে সাঁজোয়া কোরের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।

কালের আলো/এসআরকে/এনএল

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করেছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়।

তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা চলাকালে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন