খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে ভারতের উজানের মেঘালয় রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

এ অবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বন্যা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায়—৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার।

এছাড়া শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড়ি অঞ্চলের টানা বৃষ্টি সিলেটের নদ-নদী ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উজান থেকে নেমে আসা পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য পাহাড়ি নদীর প্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়,

যা স্বল্প সময়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

সেখানকার আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মে মেঘালয়ের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত এবং ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এছাড়া জেলা ভিত্তিক পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।এদিকে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্যে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮ দশমিক ৬১ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৭ দশমিক ৪৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার।

সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৯০ মিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য মিটার এবং গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ৭ দশমিক ৮৬ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটার।

এছাড়া লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৪২ মিটার এবং ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে ৭ দশমিক ২৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল এবং সিলেটের অভ্যন্তরীণ ভারী বৃষ্টি একসঙ্গে অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

এতে সিলেটের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াও হতে পারে।

এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে। একই সঙ্গে সিলেটেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উজানে বৃষ্টি ও ঢল চলমান থাকলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আকস্মিক বন্যা হলেও তা স্বল্পমেয়াদি হবে এবং পানি দ্রুত নেমে যাবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সুখবর দিলেন বিজয়

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সুখবর দিলেন বিজয়

দক্ষিণী তারকা থালাপতি বিজয় এবার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এলেন সুখবর। তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অনুরোধে রাজ্যের সব প্রেক্ষাগৃহে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার জন্য প্রতিদিন পাঁচটি করে শো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজয়। সেখানে নতুন সিনেমার প্রচার ও ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে প্রেক্ষাগৃহে দৈনিক শোর সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয় নতুন এই নির্দেশনার কথা।

এর আগে তামিলনাড়ু সিনেমা (রেগুলেশন) বিধিমালা, ১৯৫৭ অনুযায়ী নতুন সিনেমার জন্য দিনে চারটি শো প্রদর্শনের অনুমতি ছিল। শুধুমাত্র সরকারি ছুটি, স্থানীয় উৎসব কিংবা বিশেষ দিনে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত একটি শো চালানো যেত।

তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার ক্ষেত্রে প্রথম সাত দিন প্রতিদিন পাঁচটি করে শো চালানো যাবে। এছাড়া সিনেমা মুক্তির প্রথম সপ্তাহ, সরকারি ছুটি, স্থানীয় উৎসব এবং শনি-রোববার বাড়তি শোর জন্য আর আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সিনেমার ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি দর্শকদের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নির্মাতা, প্রযোজক ও প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা।

কালের আলো/এম/এএইচ

আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ছয় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছে পুলিশ।

বুধবার (২৭ মে) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ওসিও রাহাৎ খানও। ওসি বলেন, ভোরের দিকে শিশুগুলোর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসেছি।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজ থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে মগবাজার আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানবসম্পদ ও গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান এসি বন্ধ রাখায় সাফোকেশনে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গণমাধ্যমকে তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল দিবাগত রাতের শেষ ভাগে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বাচ্চাদের আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগের কারণে এসি বন্ধ রাখা হয়। এরপর দুঃখজনকভাবে সাফোকেশনে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, এই ঘটনায় কেউ সরাসরি দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ও সরকারের অন্যান্য বিভাগও ঘটনাটির তদন্ত করেছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

আর বাকি ১৫ দিন: ড্রিবলিংয়ের ওকোচার অবিশ্বাস্য রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
আর বাকি ১৫ দিন: ড্রিবলিংয়ের ওকোচার অবিশ্বাস্য রেকর্ড

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১৫ দিন বাকি। এই কাউন্টডাউনকে সামনে রেখে প্রতিদিন ফুটবল ইতিহাসের সেরা সব রেকর্ড নিয়ে বিশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে ফিফা। ফিফার আজকের পাতায় উঠে এসেছে নাইজেরিয়ান ফুটবল জাদুকর জে জে ওকোচার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি একক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবলিং বা টেক-অন করার বিশ্বরেকর্ডটি এককভাবে ধরে ওকোচা। ১৯৯৪ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ম্যাচে রক্ষণভাগের বিশ্বসেরা দল ইতালির বিপক্ষে এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।

সেদিন ইতালির রক্ষণভাগের মহাতারকা পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা কিংবা দেমেত্রিও আলবার্টিনিদের মতো বিশ্বসেরা ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পুরো ম্যাচে রেকর্ড ১৫টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন ওকোচা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এক ম্যাচে এত বেশি ড্রিবলিং করতে পারেননি আর কোনো ফুটবলার।

একক ম্যাচে ওকোচা শীর্ষে থাকলেও সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিং করার রেকর্ডটি আধুনিক ফুটবলের মহাজাদুকর লিওনেল মেসির দখলে। কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২৫টি সফল ড্রিবলিং সম্পন্ন করেছেন।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট সংস্করণে বা এক আসরে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিং করার রেকর্ডটি ফুটবলের ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে একক নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন করার পথে পুরো টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৫৩টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন এই কিংবদন্তি।

কালের আলো/এম/এএইচ