খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

চট্টলায় নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত করলেন সেনাপ্রধান, যুক্ত হলো দু’টি বিশেষায়িত হেলিকপ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
চট্টলায় নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত করলেন সেনাপ্রধান, যুক্ত হলো দু’টি বিশেষায়িত হেলিকপ্টার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দেশের উত্তরে অবস্থিত সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের পর এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করলো ‘আর্মি এভিয়েশন ফরোয়ার্ড বেস’। কৌশলগতভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করা বীর চট্টলার মাটিতে এই ফরোয়ার্ড বেস স্থাপনের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা দু’টি বিশেষায়িত বেল ফোর জিরো সেভেন জিএক্সআই হেলিকপ্টার সেখানে সংযোজনের মাধ্যমে সূত্রপাত হলো নতুন এক অধ্যায়ের। পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আরও একধাপ এগিয়ে গেলো আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ।

উচ্ছ্বাস আর আনন্দমুখরতায় সোমবার (১১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর এলাকায় সুইচ বাটন চেপে এবং লাল ফিতা কেটে আর্মি এভিয়েশন ফরোয়ার্ড বেস ও অত্যাধুনিক বেল ফোর জিরো সেভেন জিএক্সআই হেলিকপ্টারের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

এরই মধ্যে দিয়ে ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের স্বাক্ষী হলেন তিন বাহিনীর উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের গণমাধ্যমের কর্মীরাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা কারণেই বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভূকৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় সন্ত্রাস দমনের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গম অঞ্চলে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সেখানে বসবাসরত জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানেও তাদের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। কিন্তু এখানে ছিল না কোন এভিয়েশন বেস এবং বিশেষায়িত হেলিকপ্টার। এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এবার ‘আর্মি এভিয়েশন ফরোয়ার্ড বেস’ স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন।

একই সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ফোর্সেস গোল অর্জনের অংশ হিসেবেই আধুনিক এই দু’টি হেলিকপ্টার কেনা এবং ফরোয়ার্ড এভিয়েশন বেস স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩ মার্চ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেনা সদস্যেদের সহায়তা প্রদানে লালমনিরহাট আর্মি এভিয়েশন ফরোয়ার্ড বেস’র পথচলা শুরু হয়।লালমনিরহাট সেনানিবাসে উদ্বোধন করা হয় আর্মি এভিয়েশন স্কুলের নবনির্মিত হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স।

নবীন বৈমানিকদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
চট্টগ্রামে আনন্দঘন পরিবেশে এই অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আর্মি এভিয়েশন’র আধুনিকায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে দু’টি অত্যাধুনিক বেল ফোর জিরো সেভেন জিএক্সআই হেলিকপ্টার।

এ দু’টি হেলিকপ্টার নবীন বৈমানিকদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে আকাশ থেকে ভূমিতে অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণেও কাজ করবে।’

দেশের দক্ষিণাচল, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলা, চিকিৎসা সহায়তা, আভিযানিক ও প্রশাসনিক কাজ, পার্বত্য অঞ্চলে রসদ সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন থেকে চট্টগ্রাম আর্মি এভিয়েশন বেস থেকে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি আধুনিক ও যুগোপযুগী সেনাবাহিনী গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্ব এবং আন্তরিকতায় জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক উদ্যোগের কারণেই চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস নির্মান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন দু’টি বেল ফোর জিরো সেভেন জিএক্সআই হেলিকপ্টার আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের বহরে অন্তর্ভূক্তি সম্ভব হয়েছে।’

বিমান অপারেশন খরচও উল্লেখযোগ্যহারে কমবে
আর্মি এভিয়েশনের গ্রুপ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এতোদিন তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছানো আর্মি এভিয়েশনের জন্য একটি সময় সাধ্য বিষয় ছিল।

কিন্তু চট্টগ্রামে ‘আর্মি এভিয়েশন ফরোয়ার্ড বেস’ স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আমাদের সময় কমে আসবে তেমিন বিমান অপারেশন খরচও উল্লেখযোগ্যহারে কমে আসবে।’

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগোচ্ছে আর্মি এভিয়েশন
সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুযোপযোগী সামরিক সক্ষমতা অর্জন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই এই কথা বলে আসছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য সেনাবাহিনীর আভিযানিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে বিমান সহায়তা প্রদান করা। ফলশ্রুতিতে আধুনিক সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে আর্মি এভিয়েশনে সংযোজিত হচ্ছে আধুনিক হেলিকপ্টার ও সামরিক বিমান।

এদিন দু’টি বেল ৪৭০ জিএক্সআই হেলিকপ্টার সংযোজনের আগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমান বহরে সংযোজিত হয় ৪ টি ডায়মন্ড ডিএ৪০এনজি প্রশিক্ষণ বিমান।

এছাড়া আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের বিমান বহরে রয়েছে সেসনা-১৫২ এ্যারোব্যাট, সেসনা গ্রান্ড ক্যারাভান সিই-২০৮বি বিমান, বেল-২০৬ এল ৪ হেলিকপ্টার, ইউরোকপ্টার ডফিন এএস ৩৬৫ এন৩+, এমআই ১৭১ এস এইচ হেলিকপ্টার এবং কাসা সি-২৯৫ ডব্লিউ বিমান।

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করেছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়।

তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা চলাকালে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন