খুঁজুন
                               
, ,
           

ভরসার নাম পিসিএসডব্লিউ, দু:সাহসী নারীদের অভিবাদন আইজিপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১, ৮:২১ অপরাহ্ণ
ভরসার নাম পিসিএসডব্লিউ, দু:সাহসী নারীদের অভিবাদন আইজিপির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে তাঁদের ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ করেন না। সাইবার হয়রানির শিকার হলেও লোক লজ্জার ভয়ে অনেকেই থাকেন নিশ্চুপ। কিন্তু সেই প্রথা ভাঙতে শুরু করেছে। সাইবার অপরাধের মুখে পড়া নারীরা নির্দ্বিধায় অভিযোগ করতে পারছেন।

তাঁরা পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডব্লিউ) অল-উইমেন ইউনিট থেকে সব রকমের সহযোগিতা নিচ্ছেন। পেয়েছেন আইনী সহায়তার পাশাপাশি মানসিক শক্তি-সাহসও। ফলশ্রুতিতে, মাত্র এক বছরেই নারী সেবা প্রার্থীদের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের এই ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্ম। দ্রুত সেবা আর সমস্যার সমাধান হওয়ায় তাঁরা হৃদয়ের অতল থেকে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়াম থেকে এই সেবার উদ্বোধন করেছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এই সার্ভিসে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৮০ জন ভুক্তভোগী নারী যোগাযোগ করেছেন। যার মধ্যে ১২ হাজার ৬৪১ জন নারী ভুক্তভোগী হয়রানির শিকার হয়ে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২১ জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

স্বল্প সময়েই বিস্ময়জাগানিয়া সাফল্যের পর পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডব্লিউ) এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড.বেনজীর আহমেদ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে এবং সতর্ক থাকতে সুপরামর্শ দিয়েছেন।

আহ্বান জানিয়েছেন, সাইবার ঝুঁকি না জেনে সোশ্যাল মিডিয়ার অজানা বিশ্বে ঝাঁপ না দেওয়ারও। একই সঙ্গে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে এই সার্ভিস থেকে সেবা নেওয়া দু:সাহসী নারীদেরও অভিবাদন জানিয়েছেন তিনি। নিজেদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইন্টারনেট দুনিয়াকে নিরাপদ করতে চেয়েছেন সবার সহযোগিতা। সুদৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন ভার্চুয়াল জগতের অপরাধীদের নিশ্চিহ্নেও।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিসের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণামূলক এমন সব অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি।

আইজিপির ‘ব্রেইন চাইল্ড’ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের হয়রানি করার ধরণ ও মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বলে মনে করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ। নিজের দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি চালু করেন পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিস।

যুগোপযোগী এই সার্ভিস জেন্ডার রেপসন্সিভ পুলিশিং’র অনন্য এক উদাহরণ। শুধুমাত্র নারী পুলিশ অফিসার দ্বারা পরিচালিত এই সার্ভিসে নারীরা তাদের অভিযোগের বিষয়ে নিসঙ্কোচে জানাতে পারছেন। বিগত ১ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সেবা প্রত্যাশীকে সাইবার স্পেসে হয়রানি সংক্রান্তে তাদের তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতা রক্ষাপূর্বক পেশাদারিত্বের সঙ্গেই প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’কে আইজিপির ‘ব্রেইন চাইল্ড’ হিসেবেই উল্লেখ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) খালেদা বেগম। তিনি পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন এক বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, সাইবার স্পেসে নারীর দৃপ্ত পদচারণা নিশ্চিত করতে সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ভুক্তভোগী নারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রযুক্তিগত ও আইনী সহায়তা প্রদানে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন বদ্ধপরিকর।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি যা মোট অভিযোগের ৪৩ ভাগ। নারীর প্রতি সাইবার স্পেসে অপরাধের ধরন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুয়া আইডি থেকে মেসেজ/তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি, আইডি হ্যাক করে হয়রানি, ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং, মোবাইলে কল করে হয়রানি, আপত্তিকর ছবি/ভিডিও/ মেসেজ পাঠিয়ে হয়রানি ইত্যাদি।

ভুক্তভোগী নারীদের বয়স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের শতকরা ১৬ ভাগের বয়স ১৮ বছরের কম। শতকরা ৫৮ ভাগ ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শতকরা ২০ ভাগ এবং ৬ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি।

অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে মামলার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে আগ্রহী হননি। তারা শুধু আইডি বন্ধ করে বা মেসেজ ডিলিট করে সমস্যা সমাধান করতে চেয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ১২ ভাগ আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জিডি বা মামলা করেছেন যার মধ্যে মাত্র ১৩ ভাগ ভুক্তভোগী অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আইজিপির চোখে পরিবর্তন-রূপান্তর
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সবাইকে মুজিববর্ষের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অল উইমেন ইউনিট। এখানে সকল কর্মকর্তা ও সদস্য হচ্ছেন নারী। এই নারী কর্মকর্তা এবং সদস্যরা নারীদের জন্য কাজ করেন।’

তিনি বলেন, ‘সাইবার ওয়ার্ল্ড আমাদের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সহজ করে দিচ্ছে। আমরা সেই জেনারেশন যারা অনেক কিছু দেখেছি। ছোটবেলায় আমরা কুপিবাতি, হারিকেন, মোমবাতি, টেবিল ল্যাম্প, টিউব লাইট দেখেছি এখন এলইডি লাইট দেখছি।

পাকিস্তান আমলে যখন টেলিভিশন চালু হয় তখন মফস্বলে টেলিভিশন দেখা যেতো না। তখন লম্বা বাঁশের সঙ্গে বাঁশ জোড়া দিয়ে তার মাথায় প্লেইড, ডিশ যুক্ত করে টিভি আমরা দেখেছি। তারপর ক্যাবল টিভি দেখেছি এখন ডাইরেক্ট টু হোম দেখি। টেসলা যদি স্টারনেট নিয়ে আসতে পারে তাহলে আমরা সরাসরি মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট দেখবো। তখন ওয়াইফাই লাগবে না। এই জেনারেশন খুব লাকি জেনারেশন। অল্প সময়ের মধ্যে এতো পরিবর্তন-রূপান্তর দেখেছি।’

ড.বেনজীর বলেন, ‘টেকনোলজি আমাদের সবকিছুকে আরামদায়ক করেছে। আবার টেকনোলজিকে ভিত্তি করে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি ২৫ লক্ষ। ফেসবুক ব্যবহার করেন ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। গ্রামেগঞ্জে যারা থাকেন তারাও ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। এটাকে পুঁজি করে সাইবার সন্ত্রাস, সাইবার বুলিং, সাইবার ট্রলিং হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় রাষ্ট্রও ভিকটিম। আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার ওয়ার্ল্ডে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ফলস নিউজ, মিস নিউজ, কন্সপাইরেসি থিওরি আমরা নেটে দেখছি।

সাইবার বুলিং ও সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে নারীদেরও একটি বড় অংশ ভিকটিম। এই প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে একজন সেবা গ্রহীতা বললেন, যখন তারা এই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল তার পরিবার কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে এটা তারাই অনুভব করতে পেরেছেন। যখন কোন ব্যক্তি বা পরিবার সঙ্কটের মধ্যে পড়ে তারাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তারা গিয়েছেন। এগুলো অবর্ণনীয় পরিস্থিতি। কখনও ব্যক্তির মানবিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে।’

‘সোশ্যালি এলিনিয়েশন মানুষকে একা করে দেয়’
পুলিশ মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা একটি ট্রানজেশনাল সোসাইটির মধ্যে বসবাস করি। আমাদের এখানে সাইক্রিয়েটিক কাউন্সিলিং খুব একটি নেই। এক সময় কাউন্সিলিংর কাজ করতো যৌথ পরিবার। অর্থাৎ, হয়তো একটি পরিবারের কোন একজন ভিকটিম হয়েছেন তখন তার দাদী বা নানীর সঙ্গে শেয়ার করতে পারতো। তারা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এক ধরণের কাউন্সিলিং করতে পারতো। অনেক সময় চাচা-ফুফু, খালারাও কাউন্সিলিং’র কাজ করতে পারতো।

এখন যৌথ পরিবার ভাঙতে ভাঙতে অনু এবং পরমাণু পরিবারে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষ এখন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এই সোশ্যালি এলিনিয়েশন মানুষকে একা করে দেয়। একা মানুষ মানেই অসহায় মানুষ। এক্ষেত্রে ট্রমাটাইজড হয়ে গেলে পারিবারিক, সামাজিক কাউন্সিলিং পাওয়া যায় না। আবার মনোবিদ পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে মনে করা হয় মনোবিদের কাছে কেউ পাগল হলেই যায়। এগুলো আমাদের দেশে উন্নতি ঘটেনি। এগুলো খুবই চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন।’

সামাজিক ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে নারীদের
ড.বেনজীর বলেন, ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ প্ল্যাটফর্মে গত এক বছরে ১৭ হাজার সেবা গ্রহীতা যোগাযোগ করেছেন। প্রতি মাসে দেড় হাজার ভিকটিম যোগাযোগ করেছেন। ১২ হাজার অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু একটি বিরাট অংশ মামলা মোকদ্দমা করতে চায় না। তারা চায় ফায়ার ফাইটিং, অর্থাৎ, ভুয়া আইডি থেকে সাইবার বুলিং করা হয়েছে ওটাকে বন্ধ করে দিলেই ভিকটিম খুশি।

সবচেয়ে মুশকিল, সনাক্ত করার পর কোনক্রমে গ্রেফতার বা গ্রেফতারের পর্যায়ে গেলে তখন যদি ভিকটিম ব্যাকআপ করে তখন বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যাই আমরা। এটিকে মোকাবেলা করতে হবে। কেউ যদি সন্ত্রাসের কার্যক্রম করে এটিকে বিচার করতে হবে। ইয়াং উইমেন মোস্ট ভিকটিম। সমাজ, সম্মান ও মানহানির জন্য তারা অভিযোগ করতে চায় না। সামাজিক মূল্যবোধে তাড়িত হয়ে তারা এটি করতে চায় না। এক্ষেত্রে আমাদের দু:সাহসী হতে হবে এবং সামাজিক ট্যাব্যুকে ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ইন্টারনেট ব্যবহারে কেন সতর্কতায় জোর আইজিপির?
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইজিপি। এ প্রসঙ্গে তিনি মোটা দাগে একটি উদাহরণ উপস্থাপন করেন। বলছিলেন, ‘কিছুদিন আগেও একজন ইয়াং লেডি অনেক ছবি আপলোড করেছেন তার ফেসবুকে। এগুলো ছিল একটু ডিফারেন্ট টাইপের ছবি। অনেকেই এই ছবিগুলো কপি করেছে। মজার ব্যাপার হলো একটি নুড সাইটে, কমার্শিয়াল সাইটে ছবিগুলো পোস্ট করা হয়েছে।

এভাবে ব্যবসা করা হচ্ছিল তার ছবিগুলো দিয়ে। ওই নারী জানেন না আরেকজন তার ছবি নিয়ে ব্যবসা করছেন। বিয়েশাদির ব্যাপারের সময়ে তিনি জানতে পেরেছেন বিষয়টি। ফলে তিনি ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছেন। আমরা তাকে সাইবার সাপোর্ট ইউনিট দিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার আগে সবাইকে ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে হবে। এটি না জেনে যাওয়া ঠিক হবে না। কোন ব্যক্তিগত তথ্য, সেনসেটিভ ইনফরমেশন, স্পর্শকাতর ছবি একবার যদি সামাজিক মাধ্যমের দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এটি কোটি কোটি মানুষের কব্জায় চলে যায় মুহুর্তের মধ্যে। ভুয়া আইডি হলে সেই আইডি ব্লক হবে। কিন্তু সেখান থেকে শেয়ার হয়ে যাবে কোটি কোটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে পুরুষ-নারী সবাইকে সতর্ক হতে হবে। এটির ঝুঁকি জানতে হবে।

ঝুঁকি না জেনে, সেফটি এবং সিকিউরিটি মেজারস না জেনে কেউ দয়া করে কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার অপরিচিত পৃথিবীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়বেন না। প্রত্যেকেই কিন্তু ঝুঁকিতে, বিপদে পড়বেন। পশ্চিম ইউরোপের একটি বিশাল সমস্যা আইডেন্টি থ্রেপড। যতো বেশি আমাদের দেশে ডেটাবেজ ব্যবহার হবে। মাঝখানে ই-কমার্সের জোয়ার বয়ে গেলো। আমরা কোটি কোটি মানুষ আমাদের অনেক প্রাইভেট তথ্য দিয়ে দিয়েছি, না জেনে, না বুঝে। দেড় লাখ টাকার মোটরসাইকেল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে এটা শুনেই আমরা হামলে পড়েছি। হামলে পড়ে অনেক তথ্য দিয়ে দিয়েছি। এই সমস্ত ইকমার্স সাইটের কাছে এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য।

এসব তথ্যের সিকিউরিটি, সেফটি কী? আপনার টেলিফোন নাম্বার, অ্যাড্রেস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন। সবই আপনার ব্যক্তিগত জিনিস। এখন চাইলেই কিন্তু হ্যাকাররা এসব বিষয় আপনার স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। না জেনে ইন্টারনেটের ওয়ার্ল্ডে ইনভলব হলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে আসে। এই ঝুঁকি নরমাল অপরাধের ঝুঁকি থেকে বেশি। ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটার যারা ব্যবহার করেন তারা কোন ধরণের কোন অপরিচিত লোককে এক্সেস দিবেন না। চেনা-জানা মানুষের মধ্যেই নিজস্ব নেটওয়ার্ক হতে হবে। একদিন, দু’দিনের চেনা-জানা মানুষকে এক্সেস দিলেই বিপদে পড়বেন।

কারও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে, কারও বিহেভিয়ার প্যাটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে, ক্যারেক্টার প্যাটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার পারসোনাল নেটওয়ার্কে কাউকে এন্ট্রি দিবেন না। আমরা দেখি, ফেসবুকে একদিন, দু’দিনের পরিচয় তাদের সঙ্গে দেখা করতে বেড়িয়ে পড়েন। এজন্য অনেকেই ভিকটিম হয়েছেন, কেউ বলেন কেউ বলেন না। এগুলো অপরিমাণদর্শী কাজ।

সাহস দেখিয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলা ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা নারীদের অভিবাদন জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা চাই না কোন নারী-পুরুষ ভিকটিম হোক। কেউ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভিকটিম হলে লুকিয়ে রাখবেন না। এগুলোর জন্য আমাদের সহযোগিতা নিবেন। আমরা চাই এই অপরাধীদের শাস্তি হোক। আমরা চাই আমাদের ইন্টারনেট আমাদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ হোক। আমরা ভালো কাজটিকেই ব্যবহার করতে চাই। অপরাধের জায়গাটিকে সবাই মিলে নিশ্চিহ্ন করতে চাই।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ড.মঈনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মো.শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি মোশাররফ হোসেন, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, ইব্রাহিম ফাতেমীসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারের লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারের লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১১৫৪ ও ২১৬৪ পয়েন্টে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লেনদেন হয়েছে ১০৫ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
বৃহস্পতিবার এ সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানি গুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৯ টির, কমেছে ৫৩টির এবং অপরির্বতিত রয়েছে ১০০টি কোম্পানির শেয়ার।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো-টেকনো ড্রাগস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সার্প ইন্ডাস্ট্রি, রানার অটো, এনভয় টেক্সটাইল, সেনা ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং, ডোমিনেজ স্টিল, বেক্সিমকো লিমিটেড ও কাট্টালি টেক্সটাইল।

 

এর আগে আজ লেনদেন শুরুর প্রথম ৫ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ১০ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আগের অবস্থান থেকে ৩ পয়েন্ট কমে যায়।

এরপর সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর অর্থাৎ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।অপরদিকে লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫২০ পয়েন্টে অবস্থান করে। এরপর সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এসময়ের ২০টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছে ১০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টি কোম্পানি শেয়ারের দর।

কালের আলো/এমএসআইপি

‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ থেকে বিয়ে নিয়ে নতুন ভাবনায় আরিফিন শুভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ থেকে বিয়ে নিয়ে নতুন ভাবনায় আরিফিন শুভ

চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ এখন নিজের মতো করেই জীবন কাটাচ্ছেন। কখনো দেশে, কখনো দেশের বাইরে—কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজের জন্যও সময় রাখছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কথায় সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে এসেছে নতুন উপলব্ধি।

গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছে শুভ অভিনীত সিনেমা ‘মালিক’। সিনেমাটি মুক্তির পর আবারও দেশের বাইরে চলে যান তিনি। এর আগে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে সনি লিভ অরিজিনাল সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে কাজ করেছেন। সিরিজটিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমানে নিজেকে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ বললেও ভবিষ্যতে তাঁর জীবনে আবার সম্পর্ক বা বিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন শুভ। তাঁর ভাষায়, মানুষ হয়তো একা থাকার জন্য তৈরি হয়নি।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাকে হারানোর পর ব্যক্তিজীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন এই অভিনেতা। সে সময় নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তবে ধীরে ধীরে জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে।

শুভ বলেন, বিয়ে বা সম্পর্ক তাঁর জীবনে আবার আসতে পারে। তবে সেটি কখন হবে, তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে নিজের স্বভাবসুলভ রহস্যময় ভঙ্গিতে তাঁর মন্তব্য, ‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।’

একসময় জীবন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা থাকলেও এখন আর সবকিছু নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে চান না শুভ। জীবনের স্রোত যেদিকে নিয়ে যাবে, সেভাবেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

বিয়ে নিয়ে নিজের উপলব্ধি প্রসঙ্গে শুভ বলেন, সুখী দাম্পত্য শুধু সামাজিকভাবে দৃশ্যমান কিছু বিষয় বা ছবি দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং বোঝাপড়া, দেওয়া-নেওয়া ও সমঝোতার মতো ছোট ছোট বিষয়ই একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল করে।

তাহলে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ শুভ কি ভবিষ্যতে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হতে চলেছেন? সেই উত্তর আপাতত নিজের কাছেই রেখেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, সময়ই বলে দেবে জীবনের স্রোত তাঁকে কোথায় নিয়ে যায়।

কালের আলো/এসএ

২০ কর্মকর্তা নিয়ে বৈঠকে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
২০ কর্মকর্তা নিয়ে বৈঠকে ইসি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ। তার আগে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে বসেছে ইসি সচিবসহ ২০ কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইসি সচিব আখতার আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে, কত সময় মধ্যে শেষ করতে হবে এ বিষয়গুলো আলোচনা হবে বৈঠকে।  এরপর ১১ টা ৪৫ মিনিট ভোটের সকল সামগ্রী নিয়ে ইসি ভবন থেকে সংসদ ভবনে যাবেন তারা।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা কর্মকর্তা যারা রয়েছি, আমরা আগামীকাল ১২ টা থেকে সোয়া ১২ টার মধ্যে জাতীয় সংসদে পৌঁছাব।

‘নির্বাচনি কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্যার আরেকটু সময় পরে সংসদে পৌঁছাবেন’ বলেও তিনি জানান।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনী কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনকে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন ২০ জন কর্মকর্তাকে সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

তারা হলেন- ইসি সচিব আখতার আহমেদ, যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান, উপসচিব রাশেদুল ইসলাম, পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন, উপসচিব মুনীর হোসাইন খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম, সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব এ টি এম শামীম মাহমুদ,  সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আফজাল আহাম্মেদ, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া, একান্ত সচিব এএসএম জাকির হোসেন, একান্ত সচিব এসএম হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, একান্ত সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী সচিব আসমা দিলারা জান্নাত, একান্ত সচিব রৌশন আরা বেগম, সিনিয়র সহকারী সচিব আরাফাত আরা ও সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম ইকবাল হাসান। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিযে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ভোটে রয়েছেন। ভোটগ্রহণ দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ