খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

ভরসার নাম পিসিএসডব্লিউ, দু:সাহসী নারীদের অভিবাদন আইজিপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১, ৮:২১ অপরাহ্ণ
ভরসার নাম পিসিএসডব্লিউ, দু:সাহসী নারীদের অভিবাদন আইজিপির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে তাঁদের ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ করেন না। সাইবার হয়রানির শিকার হলেও লোক লজ্জার ভয়ে অনেকেই থাকেন নিশ্চুপ। কিন্তু সেই প্রথা ভাঙতে শুরু করেছে। সাইবার অপরাধের মুখে পড়া নারীরা নির্দ্বিধায় অভিযোগ করতে পারছেন।

তাঁরা পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডব্লিউ) অল-উইমেন ইউনিট থেকে সব রকমের সহযোগিতা নিচ্ছেন। পেয়েছেন আইনী সহায়তার পাশাপাশি মানসিক শক্তি-সাহসও। ফলশ্রুতিতে, মাত্র এক বছরেই নারী সেবা প্রার্থীদের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের এই ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্ম। দ্রুত সেবা আর সমস্যার সমাধান হওয়ায় তাঁরা হৃদয়ের অতল থেকে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়াম থেকে এই সেবার উদ্বোধন করেছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এই সার্ভিসে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৮০ জন ভুক্তভোগী নারী যোগাযোগ করেছেন। যার মধ্যে ১২ হাজার ৬৪১ জন নারী ভুক্তভোগী হয়রানির শিকার হয়ে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২১ জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

স্বল্প সময়েই বিস্ময়জাগানিয়া সাফল্যের পর পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডব্লিউ) এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড.বেনজীর আহমেদ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে এবং সতর্ক থাকতে সুপরামর্শ দিয়েছেন।

আহ্বান জানিয়েছেন, সাইবার ঝুঁকি না জেনে সোশ্যাল মিডিয়ার অজানা বিশ্বে ঝাঁপ না দেওয়ারও। একই সঙ্গে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে এই সার্ভিস থেকে সেবা নেওয়া দু:সাহসী নারীদেরও অভিবাদন জানিয়েছেন তিনি। নিজেদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইন্টারনেট দুনিয়াকে নিরাপদ করতে চেয়েছেন সবার সহযোগিতা। সুদৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন ভার্চুয়াল জগতের অপরাধীদের নিশ্চিহ্নেও।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিসের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণামূলক এমন সব অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি।

আইজিপির ‘ব্রেইন চাইল্ড’ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের হয়রানি করার ধরণ ও মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বলে মনে করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ। নিজের দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি চালু করেন পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিস।

যুগোপযোগী এই সার্ভিস জেন্ডার রেপসন্সিভ পুলিশিং’র অনন্য এক উদাহরণ। শুধুমাত্র নারী পুলিশ অফিসার দ্বারা পরিচালিত এই সার্ভিসে নারীরা তাদের অভিযোগের বিষয়ে নিসঙ্কোচে জানাতে পারছেন। বিগত ১ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সেবা প্রত্যাশীকে সাইবার স্পেসে হয়রানি সংক্রান্তে তাদের তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতা রক্ষাপূর্বক পেশাদারিত্বের সঙ্গেই প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’কে আইজিপির ‘ব্রেইন চাইল্ড’ হিসেবেই উল্লেখ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) খালেদা বেগম। তিনি পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন এক বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, সাইবার স্পেসে নারীর দৃপ্ত পদচারণা নিশ্চিত করতে সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ভুক্তভোগী নারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রযুক্তিগত ও আইনী সহায়তা প্রদানে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন বদ্ধপরিকর।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি যা মোট অভিযোগের ৪৩ ভাগ। নারীর প্রতি সাইবার স্পেসে অপরাধের ধরন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুয়া আইডি থেকে মেসেজ/তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি, আইডি হ্যাক করে হয়রানি, ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং, মোবাইলে কল করে হয়রানি, আপত্তিকর ছবি/ভিডিও/ মেসেজ পাঠিয়ে হয়রানি ইত্যাদি।

ভুক্তভোগী নারীদের বয়স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের শতকরা ১৬ ভাগের বয়স ১৮ বছরের কম। শতকরা ৫৮ ভাগ ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শতকরা ২০ ভাগ এবং ৬ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি।

অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে মামলার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে আগ্রহী হননি। তারা শুধু আইডি বন্ধ করে বা মেসেজ ডিলিট করে সমস্যা সমাধান করতে চেয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ১২ ভাগ আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জিডি বা মামলা করেছেন যার মধ্যে মাত্র ১৩ ভাগ ভুক্তভোগী অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আইজিপির চোখে পরিবর্তন-রূপান্তর
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সবাইকে মুজিববর্ষের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অল উইমেন ইউনিট। এখানে সকল কর্মকর্তা ও সদস্য হচ্ছেন নারী। এই নারী কর্মকর্তা এবং সদস্যরা নারীদের জন্য কাজ করেন।’

তিনি বলেন, ‘সাইবার ওয়ার্ল্ড আমাদের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সহজ করে দিচ্ছে। আমরা সেই জেনারেশন যারা অনেক কিছু দেখেছি। ছোটবেলায় আমরা কুপিবাতি, হারিকেন, মোমবাতি, টেবিল ল্যাম্প, টিউব লাইট দেখেছি এখন এলইডি লাইট দেখছি।

পাকিস্তান আমলে যখন টেলিভিশন চালু হয় তখন মফস্বলে টেলিভিশন দেখা যেতো না। তখন লম্বা বাঁশের সঙ্গে বাঁশ জোড়া দিয়ে তার মাথায় প্লেইড, ডিশ যুক্ত করে টিভি আমরা দেখেছি। তারপর ক্যাবল টিভি দেখেছি এখন ডাইরেক্ট টু হোম দেখি। টেসলা যদি স্টারনেট নিয়ে আসতে পারে তাহলে আমরা সরাসরি মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট দেখবো। তখন ওয়াইফাই লাগবে না। এই জেনারেশন খুব লাকি জেনারেশন। অল্প সময়ের মধ্যে এতো পরিবর্তন-রূপান্তর দেখেছি।’

ড.বেনজীর বলেন, ‘টেকনোলজি আমাদের সবকিছুকে আরামদায়ক করেছে। আবার টেকনোলজিকে ভিত্তি করে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি ২৫ লক্ষ। ফেসবুক ব্যবহার করেন ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। গ্রামেগঞ্জে যারা থাকেন তারাও ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। এটাকে পুঁজি করে সাইবার সন্ত্রাস, সাইবার বুলিং, সাইবার ট্রলিং হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় রাষ্ট্রও ভিকটিম। আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার ওয়ার্ল্ডে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ফলস নিউজ, মিস নিউজ, কন্সপাইরেসি থিওরি আমরা নেটে দেখছি।

সাইবার বুলিং ও সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে নারীদেরও একটি বড় অংশ ভিকটিম। এই প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে একজন সেবা গ্রহীতা বললেন, যখন তারা এই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল তার পরিবার কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে এটা তারাই অনুভব করতে পেরেছেন। যখন কোন ব্যক্তি বা পরিবার সঙ্কটের মধ্যে পড়ে তারাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তারা গিয়েছেন। এগুলো অবর্ণনীয় পরিস্থিতি। কখনও ব্যক্তির মানবিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে।’

‘সোশ্যালি এলিনিয়েশন মানুষকে একা করে দেয়’
পুলিশ মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা একটি ট্রানজেশনাল সোসাইটির মধ্যে বসবাস করি। আমাদের এখানে সাইক্রিয়েটিক কাউন্সিলিং খুব একটি নেই। এক সময় কাউন্সিলিংর কাজ করতো যৌথ পরিবার। অর্থাৎ, হয়তো একটি পরিবারের কোন একজন ভিকটিম হয়েছেন তখন তার দাদী বা নানীর সঙ্গে শেয়ার করতে পারতো। তারা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এক ধরণের কাউন্সিলিং করতে পারতো। অনেক সময় চাচা-ফুফু, খালারাও কাউন্সিলিং’র কাজ করতে পারতো।

এখন যৌথ পরিবার ভাঙতে ভাঙতে অনু এবং পরমাণু পরিবারে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষ এখন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এই সোশ্যালি এলিনিয়েশন মানুষকে একা করে দেয়। একা মানুষ মানেই অসহায় মানুষ। এক্ষেত্রে ট্রমাটাইজড হয়ে গেলে পারিবারিক, সামাজিক কাউন্সিলিং পাওয়া যায় না। আবার মনোবিদ পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে মনে করা হয় মনোবিদের কাছে কেউ পাগল হলেই যায়। এগুলো আমাদের দেশে উন্নতি ঘটেনি। এগুলো খুবই চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন।’

সামাজিক ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে নারীদের
ড.বেনজীর বলেন, ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ প্ল্যাটফর্মে গত এক বছরে ১৭ হাজার সেবা গ্রহীতা যোগাযোগ করেছেন। প্রতি মাসে দেড় হাজার ভিকটিম যোগাযোগ করেছেন। ১২ হাজার অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু একটি বিরাট অংশ মামলা মোকদ্দমা করতে চায় না। তারা চায় ফায়ার ফাইটিং, অর্থাৎ, ভুয়া আইডি থেকে সাইবার বুলিং করা হয়েছে ওটাকে বন্ধ করে দিলেই ভিকটিম খুশি।

সবচেয়ে মুশকিল, সনাক্ত করার পর কোনক্রমে গ্রেফতার বা গ্রেফতারের পর্যায়ে গেলে তখন যদি ভিকটিম ব্যাকআপ করে তখন বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যাই আমরা। এটিকে মোকাবেলা করতে হবে। কেউ যদি সন্ত্রাসের কার্যক্রম করে এটিকে বিচার করতে হবে। ইয়াং উইমেন মোস্ট ভিকটিম। সমাজ, সম্মান ও মানহানির জন্য তারা অভিযোগ করতে চায় না। সামাজিক মূল্যবোধে তাড়িত হয়ে তারা এটি করতে চায় না। এক্ষেত্রে আমাদের দু:সাহসী হতে হবে এবং সামাজিক ট্যাব্যুকে ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ইন্টারনেট ব্যবহারে কেন সতর্কতায় জোর আইজিপির?
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইজিপি। এ প্রসঙ্গে তিনি মোটা দাগে একটি উদাহরণ উপস্থাপন করেন। বলছিলেন, ‘কিছুদিন আগেও একজন ইয়াং লেডি অনেক ছবি আপলোড করেছেন তার ফেসবুকে। এগুলো ছিল একটু ডিফারেন্ট টাইপের ছবি। অনেকেই এই ছবিগুলো কপি করেছে। মজার ব্যাপার হলো একটি নুড সাইটে, কমার্শিয়াল সাইটে ছবিগুলো পোস্ট করা হয়েছে।

এভাবে ব্যবসা করা হচ্ছিল তার ছবিগুলো দিয়ে। ওই নারী জানেন না আরেকজন তার ছবি নিয়ে ব্যবসা করছেন। বিয়েশাদির ব্যাপারের সময়ে তিনি জানতে পেরেছেন বিষয়টি। ফলে তিনি ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছেন। আমরা তাকে সাইবার সাপোর্ট ইউনিট দিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার আগে সবাইকে ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে হবে। এটি না জেনে যাওয়া ঠিক হবে না। কোন ব্যক্তিগত তথ্য, সেনসেটিভ ইনফরমেশন, স্পর্শকাতর ছবি একবার যদি সামাজিক মাধ্যমের দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এটি কোটি কোটি মানুষের কব্জায় চলে যায় মুহুর্তের মধ্যে। ভুয়া আইডি হলে সেই আইডি ব্লক হবে। কিন্তু সেখান থেকে শেয়ার হয়ে যাবে কোটি কোটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে পুরুষ-নারী সবাইকে সতর্ক হতে হবে। এটির ঝুঁকি জানতে হবে।

ঝুঁকি না জেনে, সেফটি এবং সিকিউরিটি মেজারস না জেনে কেউ দয়া করে কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার অপরিচিত পৃথিবীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়বেন না। প্রত্যেকেই কিন্তু ঝুঁকিতে, বিপদে পড়বেন। পশ্চিম ইউরোপের একটি বিশাল সমস্যা আইডেন্টি থ্রেপড। যতো বেশি আমাদের দেশে ডেটাবেজ ব্যবহার হবে। মাঝখানে ই-কমার্সের জোয়ার বয়ে গেলো। আমরা কোটি কোটি মানুষ আমাদের অনেক প্রাইভেট তথ্য দিয়ে দিয়েছি, না জেনে, না বুঝে। দেড় লাখ টাকার মোটরসাইকেল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে এটা শুনেই আমরা হামলে পড়েছি। হামলে পড়ে অনেক তথ্য দিয়ে দিয়েছি। এই সমস্ত ইকমার্স সাইটের কাছে এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য।

এসব তথ্যের সিকিউরিটি, সেফটি কী? আপনার টেলিফোন নাম্বার, অ্যাড্রেস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন। সবই আপনার ব্যক্তিগত জিনিস। এখন চাইলেই কিন্তু হ্যাকাররা এসব বিষয় আপনার স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। না জেনে ইন্টারনেটের ওয়ার্ল্ডে ইনভলব হলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে আসে। এই ঝুঁকি নরমাল অপরাধের ঝুঁকি থেকে বেশি। ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটার যারা ব্যবহার করেন তারা কোন ধরণের কোন অপরিচিত লোককে এক্সেস দিবেন না। চেনা-জানা মানুষের মধ্যেই নিজস্ব নেটওয়ার্ক হতে হবে। একদিন, দু’দিনের চেনা-জানা মানুষকে এক্সেস দিলেই বিপদে পড়বেন।

কারও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে, কারও বিহেভিয়ার প্যাটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে, ক্যারেক্টার প্যাটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার পারসোনাল নেটওয়ার্কে কাউকে এন্ট্রি দিবেন না। আমরা দেখি, ফেসবুকে একদিন, দু’দিনের পরিচয় তাদের সঙ্গে দেখা করতে বেড়িয়ে পড়েন। এজন্য অনেকেই ভিকটিম হয়েছেন, কেউ বলেন কেউ বলেন না। এগুলো অপরিমাণদর্শী কাজ।

সাহস দেখিয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলা ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা নারীদের অভিবাদন জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা চাই না কোন নারী-পুরুষ ভিকটিম হোক। কেউ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভিকটিম হলে লুকিয়ে রাখবেন না। এগুলোর জন্য আমাদের সহযোগিতা নিবেন। আমরা চাই এই অপরাধীদের শাস্তি হোক। আমরা চাই আমাদের ইন্টারনেট আমাদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ হোক। আমরা ভালো কাজটিকেই ব্যবহার করতে চাই। অপরাধের জায়গাটিকে সবাই মিলে নিশ্চিহ্ন করতে চাই।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ড.মঈনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মো.শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি মোশাররফ হোসেন, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, ইব্রাহিম ফাতেমীসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম