খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শেখ হাসিনা-সোলিহের উপস্থিতিতে নব দিগন্তের উন্মোচন করলেন জেনারেল শফিউদ্দিন-শামাল!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনা-সোলিহের উপস্থিতিতে নব দিগন্তের উন্মোচন করলেন জেনারেল শফিউদ্দিন-শামাল!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দুবাই এয়ার শো প্রদর্শনীর ফাঁকে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের। হৃদ্যতাপূর্ণ সেই সাক্ষাৎ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইট করেছিলেন মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চায় মালদ্বীপ, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতায় টুইট জেনারেল শামালের

লিখেছিলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে তিনি সম্মানিত।

গতবারের গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকটি ছিল সাইডলাইনে। মাস ঘুরতেই আবারো একত্রে মিলিত হয়েছেন তাঁরা। তবে এবারের সাক্ষাৎ পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে দু’দেশের দু’সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামাল উন্মোচন করলেন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ১৩ টি সামরিক যানের প্রতীকী চাবি তুলে দিলেন মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ্ শামালের হাতে। এরই মধ্যে দিয়ে সামরিকভাবে অগ্রসরমান বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও নিজেদের স্বপ্নের পালে লাগিয়ে দিয়েছে নতুন হাওয়া। আরও সুদৃঢ় করেছে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সেনাবাহিনীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে চার এমওইউ-চুক্তি সই

দু’দেশের দু’সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে আনন্দঘন এই মুহুর্তটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দু’টির গভীর বন্ধুত্বেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, দীর্ঘদিন যাবত দু’প্রতিবেশী বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করছে। বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সঙ্কটে মালদ্বীপ পাশে পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশকেও মালদ্বীপ সমর্থন দিয়েছে আকুন্ঠচিত্তেই।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজের টানা প্রধানমন্ত্রীত্বের তিন মেয়াদে এবার দ্বিতীয়বারের মতো মালদ্বীপ সফর করছেন। প্রথমবার সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি মালদ্বীপে গেলেও গত বুধবার (২২ ডিসেম্বর) প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে এই দ্বীপরাষ্ট্রের উদ্দ্যেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

আর চলতি বছরের মার্চ মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহ।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ‘যুগান্তকারী বছর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবারের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে প্রেসিডেন্ট সলিহর দফতরে পৌঁছলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন এবং বৈঠক শেষে তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দ্বৈত কর পরিহার এবং যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং একটি চুক্তি নবায়ন করা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম সলিহ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সলিহের সঙ্গে তার বিশদ আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠক অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

পক্ষান্তরে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সলিহ বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এ বছর বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এরপর দু’নেতার উপস্থিতিতে নিজেদের মধ্যকার ‘বন্ধুত্বের প্রতীক’ হিসেবে মালদ্বীপকে ১৩ টি সামরিক যান উপহার দেয় বাংলাদেশ। মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ্ শামালের হাতে ১৩টি সামরিক যানের চাবি প্রতীকী হস্তান্তর করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

এর মাধ্যমে দু’দেশ তথা সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও উন্নীত করেছে নতুন মাত্রায়-মত সামরিক পর্যবেক্ষকদের।

এর আগে গত রোববার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালদ্বীপ সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ১৩টি সামরিক যান উপহার দেওয়া হবে।

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৩টি সামরিক যান বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করেছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়।

তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা চলাকালে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন