খুঁজুন
                               
, ,
           

সর্বাত্মক ত্যাগের মানসিকতার বার্তা সেনাপ্রধানের, দুর্যোগ মোকাবেলা করতে চান সম্মিলিতভাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
সর্বাত্মক ত্যাগের মানসিকতার বার্তা সেনাপ্রধানের, দুর্যোগ মোকাবেলা করতে চান সম্মিলিতভাবেই

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বন্যায় মহাদুর্যোগ নেমে এসেছে সিলেটে। শহর থেকে গ্রাম ডুবেছে বন্যায়। অচল জীবনযাত্রা। পানিবন্দি অগণিত মানুষ। ফলত সময়টি কথার নয়, কাজের বলেই মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। মানবতার জয়গান গেয়ে এমন দু:সময়ে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব বলেও আশাবাদী উচ্চারণ ধ্বনিত তাঁর কন্ঠে।

নির্ভীক চিত্তে, আলোর পথরেখা অঙ্কন করে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে উজ্জীবিত করেছেন নিজ বাহিনীর সদস্যদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা বলেছেন। নিজেদের সর্বোচ্চ প্রয়াসে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চান। দীপ্ত অঙ্গীকারও করেছেন সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে।

রবিবার (১৯ জুন) সিলেটের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিবেকের জাগ্রত কন্ঠে মানবিকতার উজ্জ্বল আভায় পরশ পাথর হয়েই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গতদের পাশে থাকার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি সমুজ্জ্বল হয়ে উঠলো সেনাপ্রধানের কন্ঠের ঐক্যতানে।

বন্যায় সীমাহীন কষ্টের ঘূর্ণিপাকে সিলেটের মানুষ।বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কট নিয়েছে চরম আকার। কঠিন এই দুর্যোগে বিপন্ন মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে গত শুক্রবার (১৭ জুন) থেকে সিলেট অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দিন-রাত একাকার করে চলছে কার্যক্রম।

সেনাবাহিনীর এমন মানবিক কার্যক্রমের পদক্ষেপ স্থানীয়দের মাঝে জাগিয়েছে আশার আলো। নিজ বাহিনীর সদস্যরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই বানভাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিপন্ন মানুষকে ‘নিরাপদ’ করতে ছুটছে অহর্নিশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বান্তকরণে সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দায়িত্ব পালনে অনগ্রাউন্ডে তাদের কষ্ট কেমন, আবেগ-অনুভূতি, কীভাবে সেনা সদর দপ্তর থেকে তাদের আরও সহযোগিতা করা সম্ভব, বন্যা পরবর্তী সময়ের আগাম প্রস্তুতি- এসব বিষয় নিজ চোখে দেখতে রবিবার (১৯ জুন) হেলিকপ্টারে সিলেটে আসেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন।

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় হেলিকপ্টার আকাশে উড়তে না পারায় এবং সড়কপথে লম্বা সময়ের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় এসে পৌঁছার ঝক্কির কারণেই গত দু’দিন সিলেটে আসতে পারেননি তিনি। সেনাবাহিনী মোতায়েনের তৃতীয় দিনের মাথায় এদিন সকালেই ছুটে গেছেন সিলেটে দুর্গতদের পাশে।

জেনারেল শফিউদ্দিন সিলেটের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক ও নিকটবর্তী বন্যা কবলিত এলাকায় বন্যার্তদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্গতদের কষ্টের দিনলিপি শোনেন এবং সব রকমের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

সেনাবহিনী প্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিরলসভাবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখা, জরুরি ত্রাণকার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মকভাবে আত্মত্যাগের মাধ্যমে সহায়তার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অফ অর্ডন্যান্স মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হকসহ সেনা সদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা
এদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার কথাও জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী দুর্গত মানুষের সহায়তায় যা কিছু করা সম্ভব তা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, সাভারসহ বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের সেনাসদস্যদের বন্যার্তদের সহায়তায় নিয়োজিত করা হয়েছে। আরও অনেককে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেনাবাহিনী দুর্গতদের পাশে থাকবে।’

‘সব রেকর্ড ভঙ্গ করে বন্যার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেটা কাটিয়ে উঠতে আমরা সবাই কাজ করছি। সেনাবাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধু সেনাবাহিনী না, সরকারের সব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে’- যোগ করেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্গত মানুষের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাদের সহায়তায় সেনাসদস্যরা কী পরিমাণ কষ্ট করছে তা নিজে দেখতে এসেছি।’

গণমাধ্যমকে সেনাপ্রধান বলেন, ‌‘সেনাবাহিনী এর চেয়ে ভালো কাজ করতে পারত কি না- আমরা এই আলোচনায় যেতে চাই না। আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তবে বৈরী আবাহাওয়া, প্রবল স্রোত, টানা বৃষ্টি, নেটওয়ার্কহীনতা সত্ত্বেও সেনাসদস্যরা বন্যাকবলিতদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।’

পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে
সেনাপ্রধান বলেন, ‘দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে বন্যার পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ সহসা কমবে না। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হবে। পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা ত্রাণ ও চিকিৎসা প্রদান শুরু করেছি। সেনাসদস্যদের বলেছি কষ্ট যতই হোক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

সেনাবাহিনী প্রধান কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারব। তাই সেনা সদস্যদের সর্বাত্মকভাবে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে আন্তরিকতার কাজ করতে হবে।’ সেনাপ্রধান সুনামগঞ্জসহ বন্যা দুর্গত এলাকাসমূহে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

কী বলছে আইএসপিআর?
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত শুক্রবার (১৭ জুন) থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিলেট অঞ্চলের ১৭ পদাতিক ডিভিশন সিলেট জেলার সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জয়িন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা এবং সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা বাজার, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলা এবং কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছে।

সেনাবাহিনীর অন্যান্য ফরমেশন থেকে সিলেট এলাকায় উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন নৌযান মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে নৌবাহিনীর একটি দল সিলেট এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করেছে।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৮ জুন) থেকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন’র ১২৫ জন সেনাসদস্য নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য মোতায়েন রয়েছে।

দু’বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার
আইএসপিআর আরও জানায়, শনিবার (১৮ জুন) সেনা সদস্যরা সুনামগঞ্জ থেকে এমআইএসটি’র ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং রবিবার (১৯ জুন) সুনামগঞ্জের ছাতকে আটকে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছে।

এছাড়াও সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে ২০১০ জন বন্যাদুর্গত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৩ হাজার ৬২৫ জনকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ২ হাজার ২০০ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যার্তদের মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ বিতরণ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেল গঠন করেছে।

সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনান্য সকল অঞ্চলের ফরমেশনসমূহ নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন

সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এবার সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে মালদ্বীপের মনোরম সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর রোদেলা আবহে বেশ স্বচ্ছন্দ সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

সিনেমার শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময়টুকু নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, রোদ পোহানো এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবকাশযাপনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

ছবি<< সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপে কাটানো সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন নয়নতারা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেয়ার করা ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে। ছবিগুলোতে রোদেলা দিনে সৈকতের বালুবেলায় হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

ছবি<< সংগৃহীত

নয়নতারার এই অবকাশযাপনের লুকেও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ ও স্টাইলিশ ছোঁয়া। চোখে সানগ্লাস, মাথায় টুপি এবং পরনে হালকা রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে ধরা দিয়েছেন তিনি। পেছনে নীল সমুদ্র আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আরও আকর্ষণীয় আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

ছবিগুলোর লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট পাতিনা মালদ্বীপকে ট্যাগ করেছেন নয়নতারা। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অভিনেত্রীর অবকাশযাপনের এসব ছবি প্রকাশের পর তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

ছবি<< সংগৃহীত

তবে শুধু অবকাশযাপন নয়, কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। সম্প্রতি তাকে বড়পর্দায় দেখা গেছে ‘হাই’ সিনেমায়। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন।

সিনেমাটিতে ময়িল ও দেবায়ানি—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের জীবন ও তাদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা, মিথ্যা ও নানা নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি।

চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সিনেমাটি গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন না করলেও এর নাটকীয়তা ও গল্পের বিভিন্ন জটিলতা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। সিনেমায় নয়নতারার অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এদিকে সিনেমার পর্দায় ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অবকাশের মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী। মালদ্বীপের সৈকতে তার রোদেলা দিনের ছবিগুলো তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমুদ্রের নীল জল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে সম্ভাবনাময় একজন সামিরা খান মাহী। সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘বকুল ফুল’ নাটকে পাগলির চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ‘বিয়ে করতে গিয়ে’, ‘সকাল বিকাল রাত্রি’, ‘গার্লস স্কোয়াড’সহ বেশ কিছু নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন।

শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে অভিনয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন মাহী। সামনে নিজেকে আরও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে মেলে ধরতে চান তিনি। নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয়ের দর্শন, জনপ্রিয়তা ও সিনেমায় কাজের ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে মিডিয়ায় এলাম

২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শোর মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু মাহীর। ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’য় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পা রাখেন তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন।

নিজের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে মাহী বলেন, “২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শো ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু। প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিং জগতে পা রাখি। এরপর বাংলালিংক, প্রাইড গার্লস, সেলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি।”

অভিনয়ে তার প্রথম কাজ ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’। এরপর একে একে অনেক নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

মাহী বলেন, “অভিনয়ের জগতে প্রথম পা রাখি ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’র মাধ্যমে। এরপর ‘পারিবারিক গোলযোগ’, ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘শুভ্রার ওয়ারড্রব’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’, ‘ম্যাচিং ব্রাদার’, ‘এক পা দু-পা’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি।”

যে কাজগুলো বদলে দিয়েছে পথ

ক্যারিয়ারে বেশ কিছু কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মাহী। বিশেষ করে ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করে।

মাহীর ভাষায়, “আমি মনে করি, যে সময়টায় ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’, ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম, তখন আরও কয়েকটি নাটকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। এরপর দর্শক আমাকে সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করেন।”

বর্তমান সময়ে অভিনয়ের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে সেটি ধরে রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন মাহী।

“আগের থেকে জনপ্রিয়তা একটু ইজি; কিন্তু জনপ্রিয়তা পেলেই হয় না, টিকিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।

দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন মাহী। তিনি বলেন, “আমি যে সময়ে শুরু করলাম, তখন আরও ২০ জনের মতো এসেছিলাম। সবাই তো আর ক্লিক করলেন না। এ ক্ষেত্রে এটাও বলা যায়, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এতটাও সোজা নয়। বিশেষ করে ভালোবাসা পাওয়াটা ভেরি ডিফিকাল্ট। আমার সৌভাগ্য, আমি অল্প সময়ে এটি পেয়েছি।”

ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই

এক ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না মাহী। বরং নিজেকে এমন একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চান, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সমানভাবে মানিয়ে নিতে পারেন।

“আমি ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই। সব ধরনের অভিনয় করব,” বলেন তিনি।

তবে দর্শক অনেক সময় একজন শিল্পীকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করলে ভিউয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় বলে মনে করেন মাহী।

তার কথায়, “দর্শক একরকম নিয়েই নেন। তো ওটার বাইরে চলে গেলে ভিউয়ে ঝামেলা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে ভিউ ম্যাটার করে না, যখন আপনি অনেক ভালো কাজ করেন।”

ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের রুচিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মাহী বলেন, “আমরা যদি ভালো কিছু দিই, তাহলে অডিয়েন্সের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। এখন একই জিনিস যদি দিতেই থাকি, যেটা তারা পছন্দ করেন, তখন তো উপলব্ধি পরিবর্তন হলো না। এজন্য মাঝেমধ্যে আমার মন খারাপ হয়।”

‘সবার নিজস্বতা থাকা দরকার’

অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজস্বতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন মাহী। নিজের বিশেষ দক্ষতার জায়গা হিসেবে সিলেটি ভাষায় কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

মাহী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবার নিজস্বতা থাকা দরকার। যেমন আমার একটা বিশেষ দক্ষতা আছে, সিলেটী ভাষায় কথা বলতে পারি, যেটা দর্শক পছন্দ করেন। অনেকে আমাকে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী বলেন।”

সহশিল্পীদের কাউকেই প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না এই অভিনেত্রী। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

“আমি কাউকে আমার প্রতিযোগী মনে করি না। কাউকে এমনটা মনে করলে হিংসার বিষয়টা চলে আসবে। আমি চাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে,” বলেন মাহী।

‘আমি একদম পানির মতো’

নিজের অভিনয়ের ধরন বোঝাতে বেশ চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছেন মাহী। নিজেকে পানির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমি একদম পানির মতো। যেই পাত্রে রাখবেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করব।”

চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্ষমতাকেই নিজের অন্যতম শক্তি মনে করেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চান মাহী।

“সেই জায়গা থেকে আমি সবার সঙ্গে নাইস। আমি কখনো কারও সঙ্গে খারাপ হতেই পারব না,” বলেন তিনি।

‘হাওয়া’ দেখে সিনেমায় আগ্রহ

ছোট পর্দা ও ওয়েবের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও কাজ করতে চান মাহী। ‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার।

তবে প্রচলিত অর্থে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা নেই তার। গল্প ও চরিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই অভিনেত্রী।

মাহী বলেন, “‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা জেগেছে। তেমন গল্পের সিনেমায় বেশি কাজ করতে চাই। অনেক সুন্দর আর গ্ল্যামার লাগতে হবে, এটা আমি চাই না। ক্যারেক্টারটা প্লে করে আসতে চাই।”

‘হাওয়া’ সিনেমার তুষি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ওখানে কিন্তু তুষিকে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, এমন না; কিন্তু চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

‘যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়’

কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন মাহী। শুধু নিয়মিত কাজ করার জন্য যেকোনো গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করতে চান না তিনি। নিজের কাজের মধ্যে সবসময় বৈচিত্র্য রাখাই তার লক্ষ্য।

তার ভাষায়, “আমি আসলে মনে করি যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়, কারণ আমি গতানুগতিক অভিনেত্রী হতে চাই না। বরাবরই আমার কাজের মধ্যে যেন ভ্যারিয়েশন থাকে, সেটিই আমার লক্ষ্য।”

কাজের সংখ্যা কম হলেও ভালো কাজকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহী বলেন, “গল্প বাছতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদের থেকে আমার কাজ পরিমাণে কম। এতেই খুশি, কারণ ভালো কাজ কম হলেও তাতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়।”

সামিরা খান মাহীর কথায় স্পষ্ট, সংখ্যার চেয়ে কাজের মান এবং চরিত্রের বৈচিত্র্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়জীবনে তাই একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে চান তিনি। দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই এখন তার লক্ষ্য।

কালের আলো/জেএন