খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বিশ্বস্ত বন্ধুর মতোই মানুষের পাশে ফায়ার সার্ভিস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বস্ত বন্ধুর মতোই মানুষের পাশে ফায়ার সার্ভিস

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর। স্বশরীরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়ান।’ সরকারপ্রধানের নির্দেশনা আক্ষরিক অর্থেই যেন বাস্তবায়ন করে চলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। শুধু অগ্নিকান্ড নয় যেকোনে দুর্যোগেই বন্ধুর মতোই জনগণের পাশে থেকে দিচ্ছেন নিরলস সেবা।

সততা, দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করে চলেছেন দেশের মানুষের কল্যাণে। প্রথাগত দমকল বাহিনীর গন্ডি পেরিয়ে ‘গতি, সেবা ও ত্যাগ’ মূলমন্ত্র নিয়ে বিপদে সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসার নাম হয়ে উঠেছে ইউনিফর্মধারী এই সুশৃঙ্খল অধিদপ্তর। অর্জন করেছে দেশপ্রেম ও মানবতার কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার মনোবলের খ্যাতি। অনিন্দ্য সুন্দর মন-মনন আর শৃঙ্খলাপূর্ণ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে নিজেদের সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাও কুড়িয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

‘দুর্ঘটনা-দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ। রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৭ বছর পর আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে পাচ্ছেন তাঁরই আন্তরিক স্পর্শে নতুন প্রাণাবেগে উচ্ছ্বসিত-উদ্দীপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

এদিন সকাল ১০ টায় গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে চলতি বছরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বক্তব্য রাখবেন সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

সূত্র জানায়, এক সময় বহুতল ভবন বা বড় ধরণের অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। কিন্তু এখন সেটি অতীত, পুরনো ধারাপাত। আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ফায়ার সার্ভিসের নবযাত্রা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই। সম্প্রতি সংস্থাটির বহরে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতার (৬৮ মিটার) টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) গাড়ি।

এখন সেটি দিয়ে ২৪ তলা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণ বা যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব। নালায় কিংবা ডোবায়, সুউচ্চ বহুতল ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবেলা ও জানমালের নিরাপত্তায় বিচক্ষণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে টিম ফায়ার সার্ভিস। যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন অকুতোভয় ফায়ার ফাইটাররা। এই তাঁরাই সিনেমার পর্দায় নয় বাস্তবের ‘সুপার হিরো’।

বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিতে ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলায় গড়ে উঠছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কর্মদক্ষতা উন্নীত হবে বিশ্বমানে।

প্রতিনিয়ত বাড়ছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সংখ্যা। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ছিল ২০৪টি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফায়ার স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এই সংখ্যা বাড়াতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি প্রতি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ২৮৭টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হয়। দু’টি প্রকল্পের অধীনে আরও ৯৫টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করেন। মূলত এসবের মাধ্যমে যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলাসহ জনসেবামূলক কাজের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে আরও ৫২ টি ফায়ার স্টেশন।

একই সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশে সর্বমোট চালু ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ৪৯১টি। এসব ফায়ার স্টেশন চালুর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সক্ষমতা আরও বেড়েছে। এতে অগ্নি দুর্ঘটনা রোধ, জনজীবন ও জনগণের সম্পদ রক্ষা বহুলাংশে কমে এসেছে। নতুন ফায়ার স্টেশন হওয়ায় খুশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারাও।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর দুর্যোগ মোকাবেলায় সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে বলে সব সময়ই দৃঢ়কন্ঠে উচ্চারণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। নেতৃত্বের অসীম দক্ষতার সৃষ্টিশীলতায় সুগভীর চেতনায় বারবার জবানীতে তুলে আনেন; স্বত:স্ফূর্ততার দীপ্তি ছড়িয়ে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস এখন আর ঠুনকো দমকল বাহিনী নয়। আগে আগুন নেভার পরে তারা ঘটনাস্থলে আসত।

কিন্তু এখন সংবাদ পেতে দেরি হলেও ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয় না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা উপস্থিত হয়, ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন হচ্ছে। বেড়েছে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সেবার মান।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে প্রশংসা আর অনুভবে গতিময় ও প্রোজ্জ্বল উপস্থাপন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান এমপির। চলতি বছরের পহেলা অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অপার বৈভবে ঐশ্বর্যময় ফায়ার সার্ভিসকে নবদিনের কলতানে তিনি উপস্থাপন করেন তাঁর বৈচিত্র্যময় উদাহরণের ঝাঁপিতে।

প্রতিমন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের আউলিয়া ঘাটে নৌকা ডুবিতে ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানে ফায়ার সার্ভিস আজও কাজ করছে। সেখানে পরিশ্রম করে, পানিতে ভিজে, রোদে পুড়ে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের অবদানের স্বীকৃতি আমরা দিতে পারবো না, সম্ভব না, এটা আল্লাহ দেবেন।’

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৫ মে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। তিনি খোলনলচে পাল্টে ফায়ার সার্ভিসকে ঢেলে সাজাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দক্ষ নেতৃত্বে বিপুল প্রাণাবেগের উচ্ছ্বলতার প্রাবল্যে তাঁর প্রতিটি উচ্চারণ দেশপ্রেম ও নির্ভীকতার ইঙ্গিতবহ। চিন্তার ঔদার্য্য ও মানবিকতার প্রসারিত দৃষ্টিকোণে শুরুতেই বিএম কনটেইনার ডিপোর স্মরণাতীতকালের ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৩ ফায়ার ফাইটারকে তিনি ‘অগ্নিবীর’ খেতাবে ভূষিত করেন। অভিভাবকত্বের পরশে প্রতিটি সদস্যের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।

শুধু তাই নয় তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্তে গুরুতর আহত হওয়া ফায়ার সার্ভিসের অন্য সদস্যদের দ্রুত সিএমএইচে ভর্তির মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করায় তাঁদের জীবন রক্ষা পায়। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে একদিন-প্রতিদিন কাজ করে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে অগ্রণী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.মাইন উদ্দিন বিশ্বাস করেন ‘নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করেই ফায়ার সার্ভিস দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে।

কালের আলোর সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক দিকনির্দেশনায়, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন ও সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী’র সরাসরি তত্ত্বাবধানে উন্নত বিশ্বের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের উন্নত ও ধনী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় গর্বিত সহযাত্রী হতে চাই আমরা।’

কালের আলো/এএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ