খুঁজুন
                               
, ,
           

রকেট-শোরাড মিসাইলে আরও অপ্রতিরোধ্য সেনাবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন মাত্রার কথা সেনাপ্রধানের কন্ঠে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
রকেট-শোরাড মিসাইলে আরও অপ্রতিরোধ্য সেনাবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন মাত্রার কথা সেনাপ্রধানের কন্ঠে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখার পাশাপাশি বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর বহরে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নানা যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম। সেনাবাহিনীর ‘হোম অফ গানার্স’ হিসেবে পরিচিত বন্দর নগরী চট্টগ্রামের আর্টিলারি সেন্টারে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সকালে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সমরাস্ত্রের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠান হয়েছে।

এসব আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামে আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে সতের কোটি মানুষের আস্থা ও গর্বের ঠিকানা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এদিন সকালে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ড.এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ফরমান তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বেলুন উড়িয়ে অত্যাধুনিক শোরাড মিসাইল মিসাইল ও আকাশ প্রতিরক্ষার রকেট যুক্ত করার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি দুটি রেজিমেন্টের পতাকাও উত্তোলন করেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজিত এই ওয়েপন সিস্টেম নি:সন্দেহে একটি অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে এসব সমরাস্ত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমর সক্ষমতাকে এক নতুন মাত্রা দেবে বলেও তিনি দৃঢ়কন্ঠে উচ্চারণ করেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘৪৪ শোরাড মিসাইল রেজিমেন্ট আর্টিলারির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। আধুনিক এফএম ৯০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইলের সমন্বয়ে গঠিত ৪৪ শোরাড মিসাইল রেজিমেন্ট আর্টিলারি নিঃসন্দেহে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহকে দুর্ভেদ্য আকাশ-প্রতিরক্ষা প্রদানের এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

এ সময় জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে বর্তমান সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেন। আধুনিক এসব সমরাস্ত্র বাহিনীতে সংযোজন এবং রেজিমেন্টের পতাকা উত্তোলন করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগের অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।’

সূত্র জানায়, সেনবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া তুরস্ক থেকে আনা অত্যাধুনিক টাইগার এমএলআরএস মিসাইল ১২০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে যুক্ত হওয়া চীন থেকে আনা শোরাড মিসাইল; ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার গতি সম্পন্ন এই ক্ষেপনাস্ত্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আকাশ ও সীমানা প্রতিরক্ষায় প্রতিহত করবে বহি:শত্রুর আক্রমণ।

একই সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরের নতুন সংযোজন শোরাড হলো সেনাবাহিনী বহরের অত্যাধুনিক মিসাইল। ২০২১ সালের মার্চে সফল মিসাইল ফায়ারিং সম্পন্ন হওয়ার পর ওই বছরই শোরাড মিসাইল রেজিমেন্ট পূর্নাঙ্গ ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সে সাথে রেজিমেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো আকাশ-প্রতিরক্ষার ৫১ এমএলআরএস রেজিমেন্ট।

তৃতীয় এমএলআরএস ব্যাটারীতে যুক্ত হওয়া এসব সমরাস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী হতে সেনা সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘প্রিয় সেনাসদস্যগণ আমি আশা করবো সমরাস্ত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি নিজেদের যথাযোগ্যভাবে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলবেন। যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে সমরাস্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহারের আপনারা সক্ষম হন। আমাদের মনে রাখতে হবে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের সর্বদা প্রস্তুত রাখা প্রতিটি সেনাসদস্যের নৈতিক দায়িত্ব।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পরে দুপুরে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন সেনাপ্রধান। এখানে অংশ নেন দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৪৭টি ইউনিটের অধিনায়করা। আর্টিলারি ব্যাটারীর অন্তর্ভুক্তিকরণ ও নবগঠিত ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে সেনাবাহিনীর নতুন ইউনিটসমূহের সকল সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সেই উন্নয়নের পথ ধরে আজকের এই ইউনিটের অন্তর্ভুক্তিকরণ ও পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠিত হলো এবং একই সাথে বাস্তবায়িত হলো সামরিক বাহিনীর উন্নয়নের রূপকল্প ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আরেকটি ধাপ।’

আইএসপিআর আরও জানায়, এরপর সেনাবাহিনী প্রধান দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এবং এই রেজিমেন্টের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সেনাবপ্রধান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য, দেশমাতৃকার সেবায় সক্রিয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই রেজিমেন্টের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, সেনা সদর দপ্তরের এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. মোশফেকুর রহমান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মুহাম্মদ জুবায়ের সালেহীনসহ ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তা, অসামরিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদবীর সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ । ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ