খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারত সফর শেষে দেশে সেনাপ্রধান; জোরদার বাংলাদেশ-ভারত সেনাবাহিনীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
ভারত সফর শেষে দেশে সেনাপ্রধান; জোরদার বাংলাদেশ-ভারত সেনাবাহিনীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মহান মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সেনাবাহিনীর অবদান ও আত্মত্যাগের কথা সব সময়ই কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বিশ্বাস যেমন বেড়েছে তেমনি জোরদার হয়েছে সুসম্পর্কও।

প্রায় ১০ মাস আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পান্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরকালে নিজেদের মধ্যকার সাক্ষাতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের কথা উচ্চারণ করেছিলেন। এবার তারই আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র তিনদিনের ভারত সফরে এ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে। দৃঢ়তর করেছে সম্পর্কের বন্ধনকে। প্রাণবন্ত হয়েছে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার আস্থা ও বন্ধুতার জ্যোতিও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার (৩০ এপ্রিল) তিনদিনের ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এর আগে ভারত সফরে প্রতিটি মুহুর্ত কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন তিনি। এ সফরে সেনাপ্রধান ভারতের চেন্নাই’র অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ সমাপনী প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ ও মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গেও আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক করেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সফরকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান, ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ পান্ডে, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার, ভাইস চিফ অফ এয়ার স্টাফ এয়ার মার্শাল এপি সিং, প্রতিরক্ষা সচিব গিরিধর আরামনে এবং পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কাত্রা’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতকালে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পারস্পরিক সহায়তা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। আইএসপিআর মনে করে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র এই সফরের মধ্যে দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। বন্ধুতা আর সৌহার্দ্যের মূল্যায়নেও সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ’র এই সফর দু’দেশের সেনাবাহিনীর বিদ্যমান সম্পর্কে যোগ করবে নতুন মাত্রা, এমন অভিমত সামরিক বিশ্লেষকদেরও।

কালের আলো/এমএএএমকে

কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে  বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এক জেলা থেকে আরেক জেলা—একই দিনে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরব তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর বিকেলে তিনি যোগ দেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে। দুটি কর্মসূচিতেই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদ, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত রাখার বার্তা।

  • কিশোরগঞ্জে ‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’ চ্যালেঞ্জ
  • কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হালুয়াঘাটে অনলাইন হুমকির জবাব
  • নৈরাজ্য প্রতিরোধে মাঠে থাকার ঘোষণা

‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’
দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান। আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।’

‘ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। তাঁর ভাষ্য, গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পক্ষগুলো পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করে তাদের ‘ফ্যাসিবাদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পরিবার সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাসে আগুনের প্রসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা
সম্প্রতি দুটি বাসে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস পুড়িয়ে বা কোনো চক্রের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি বলেন, যারা মনে করছেন দুটি বাস পুড়িয়ে এবং একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখাতে পারবেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে গলা মেলান নেতাকর্মীরাও
এর আগে দুপুরে শহরের রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘আপা আপা করিস নারে, আপা আর আসবে নারে।’ প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও গলা মেলান।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জের পর গন্তব্য হালুয়াঘাট
কিশোরগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করেই বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর এলাকার ধান মহলে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আয়োজনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা। এখানেও বক্তব্যের সার কথা—অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা। তবে হালুয়াঘাটের বক্তব্যে অনলাইনভিত্তিক হুমকি এবং ভবিষ্যতে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

অনলাইন হুমকির বিপরীতে মাঠের বার্তা
হালুয়াঘাটে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে হুমকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ অতীতে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমনি গুম, খুনসহ সকল অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে দেশের জনগণ তারেক রহমান—এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, ‘যারা এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে থাকা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রিন্সের
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠন, জনসমস্যা সমাধান এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা চায় না। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এতে জেলা ও উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই কর্মসূচিতে অভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা
কিশোরগঞ্জ ও হালুয়াঘাট—দুই কর্মসূচিতেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল ছিল রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা এবং অপরাধের বিচার। কিশোরগঞ্জে ছিল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা এবং হালুয়াঘাটে গুরুত্ব পেয়েছে অনলাইন হুমকি, বিচার ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রশ্ন। একই দিনে দুই জেলার ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর রাজনৈতিক ব্যস্ততার একটি স্পষ্ট চিত্রও তুলে ধরে। দুপুরে কিশোরগঞ্জের রাজপথের কর্মসূচি থেকে বিকেলে হালুয়াঘাটের সমাবেশ—দিনভর এই ছুটে চলার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মাঠের রাজনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় থাকার বার্তাই দিয়েছেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীরাও আশান্বিত হয়ে উঠেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেটাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অফিস স্থাপনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মেটাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অফিস স্থাপনের আহ্বান

মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে বাংলাদেশে অফিস খোলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং স্থায়ী প্রতিনিধির উপ-প্রতিনিধি এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। সময়সীমার কারণে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশে মেটার বড় ব্যবহারকারীভিত্তির কথা তুলে ধরে দুই পক্ষের সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

এ ছাড়া মেটার প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ডিজিটাল কমার্স খাতকে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল হয়রানি

বৈঠকে অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী ছিল। বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মেটার মধ্যে ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

এইচএসসি ফল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
এইচএসসি ফল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল কবে প্রকাশ হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বলছে, ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যেকোন দিন এই ফলাফল প্রকাশ হতে পারে।

তবে কমিটি বলছে, ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারিখ চূড়ান্ত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।’

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে শেষ হয়েছে।

তবে দ্রুত ফলাফল প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২ জুলাই শুরু হয়ে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হলে চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এসব পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯৩ জন। তারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ