খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সেনাবাহিনীর দখলে কেএনএফ’র ঘাঁটি, মরণকামড় দিলে প্রতিহতের ঘোষণা সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জুন, ২০২৩, ১০:১০ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর দখলে কেএনএফ’র ঘাঁটি, মরণকামড় দিলে প্রতিহতের ঘোষণা সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) মূল ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রোববার (৪ মে) দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান রিজিয়ন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এমন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

নিশ্চিত করেছেন দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কথা। অচিরেই পাহাড়ের এসব সন্ত্রাসী নির্মূলের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা যেমন জানিয়েছেন তেমনি শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছুর সমাধানের ভাষ্যও উচ্চারিত হয়েছে তাঁর জবানীতে। মেধা-মনন, পেশাদারিত্ব আর অকাট্য যুক্তির নিরিখে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। বলেছেন, ‘কেউ মরণকামড় দিলে আমরাও প্রতিহত করবো, এটিই স্বাভাবিক।’

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যদি আত্মসমর্পণ কিংবা আলোচনায় বসতে চায়, এই বিষয়ে পদক্ষেপ কী হবে- গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নে সোজা সাপ্টা জবাব দিয়েছেন- ‘অবশ্যই, কেউ যদি আসতে চায় তাদের স্বাগত।’ শান্তিতেই সমাধানে বিশ্বাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই চার তারকা জেনারেল বলেছেন, ‘শান্তিতে যা সমাধান হবে সেটা সহিংসতায় কেন যাবো?’

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পার্বত্য জেলা বান্দরবানকে সাম্প্রতিক সময়ে রীতিমতো অস্থির করে তুলেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে নষ্ট করেছে শান্তি-শৃঙ্খলা। এই সন্ত্রাসীদের অতর্কিত আইইডি বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক সেনা সদস্য। জনজীবন থমকে দেওয়া কেএনএফ’র মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিহত করতে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কঠিন এই সময়টিতে নিজ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি কমান্ডাররা কীভাবে অভিযান পরিচালনা করছে, কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে, সেনা সদর দপ্তর অভিযানকে আরও ফলপ্রসু করতে কী কী সহায়তা করতে পারে এসব বিষয়াদি সামনে রেখেই রোববার (৪ মে) দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান রিজিয়ন পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

যে লক্ষ্য সামনে রেখে সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে সেটি অর্জিত হওয়া নিয়েও আশাবাদী তিনি। গণমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ‘যে অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে আমাদের অফিসার ও সৈনিকরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে আমি আশাবাদী। যে অভিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আমরা এই অপারেশন করছি সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য মানবিকতার উদাহরণ তুলে ধরে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খুবই মানবিক। সারাবিশ্বে মানবিকতার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিখ্যাত। জাতিসংঘে অনেকদিন ধরে আমরা এক নম্বর শান্তিরক্ষাকারী দেশ। এটি অর্জনের পেছনে যতগুলো গুণাবলি আছে তার মধ্যে অন্যতম মানুষের প্রতি দরদ ও সহনশীলতা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি। এটি আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি। কেউ যদি দেশের ক্ষতি করে, দেশের জনগণের ক্ষতি করে, সেটি রোধ করতে গিয়ে যদি আমাদের শক্ত অবস্থানে যেতে হয়, অবশ্যই যাবো। কিন্তু তা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছুর সমাধান চাই। কেউ মরণকামড় দিলে আমরাও প্রতিহত করবো, এটিই স্বাভাবিক।’

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পেশাল অপারেশন কন্ডাক্ট করছি। সন্ত্রাসীদের তৎপড়তা এত বেশি বেড়েছে যার ফলশ্রুতিতে আমাদের কিছু সেনাসদস্যকে হারিয়েছি, যা আমাদের চলমান অপারেশনকে থামাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, এটি খুবই দুরূহ অঞ্চল। একটা পাহাড় দেখা যাচ্ছে কাছে, কিন্তু সেটিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে কয়েক ঘণ্টা। হেঁটে হেঁটে গিয়ে আমরা সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পাচ্ছি, তা দখল করেছি। তাদের মূল ঘাঁটি ও মূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দখল করেছি। তারা এ এলাকায় এখন আর নেই। তাদের কিছু কিছু জনগণের সঙ্গে মিশে আছে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান অভিযান প্রায় শেষের পথে এমনটি জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপাতত আমরা সিচুয়েশন স্টাবিলাইজ করেছি। আরও কিছু এলাকা ক্লিয়ার করবো। সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিজিবি তারা ধীরে ধীরে তাদের দায়িত্বগুলো করতে থাকবে। সেনাবাহিনীর যে অভিযান তা প্রায় শেষ করে এনেছি। আশা করছি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে শেষ করতে পারবো।’

পাহাড়ি জঙ্গলে শক্তিশালী বোমা আইইডি পুঁতে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইইডি একটি নতুন মাত্রা। আইইডি মাটির ভেতর কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে এগুলো ডিটেক্ট (শনাক্ত) করা খুবই খুবই ডিফিকাল্ট (কঠিন)। খুব জঙ্গলাকীর্ণ রাতের অন্ধকারে বের করা আরও কঠিন। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়ে চেষ্টা করছি আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে। আইইডি শনাক্তে প্রয়োজনে ডগ স্কোয়াডসহ অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হবে। আমি আশা রাখছি, ভবিষ্যতে আইইডিতে হতাহতের সংখ্যা কমে আসবে ইনশাআল্লাহ।’

সেনাপ্রধানের প্রেস ব্রিফিং’র সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান এবং রামুর জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ