খুঁজুন
                               
, ,
           

ছিনতাই প্রতিরোধে হার্ডলাইনে ডিএমপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
ছিনতাই প্রতিরোধে হার্ডলাইনে ডিএমপি

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে ভোরের রাজধানী ভয়ঙ্কর। এখানে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা কখনও ছুরি-চাকুর ভয় দেখিয়ে, কখনও বা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিচ্ছে। এমনকি ছিনতাই করতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্যকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। তাদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন মিডিয়াকর্মীও। বেপরোয়া এই ছিনতাইকারীদের ঠেকাতে হার্ডলাইনে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত পহেলা জুলাই থেকে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক রাজধানীকে ছিনতাইকারীমুক্ত করতে ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষ জোর দিয়েছেন ছিনতাইকারীদের নতুন নেটওয়ার্ক খোঁজে বের করতে। রাজধানীর পুলিশপ্রধানের কঠোর নির্দেশনায় ডিএমপির ৫০টি থানায় নড়েচড়ে বসেছে দায়িত্বশীলরা। রাজধানীর ৮ টি বিভাগের প্রতিটি থানায় ছিনতাই প্রতিরোধী বিশেষ টিম সক্রিয় রয়েছে অভিযানে। ইতোমধ্যেই গত ১ জুলাই থেকে ৯ জুলাই ৫৬৩ জন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় যাবত ছিনতাইয়ে জড়িতদের তালিকা আপডেট করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সেই তালিকা মোতাবেক ছিনতাইকারীদের ধরতে রাজধানীজুড়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। থানাগুলোতে টহল টিম, ছিনতাইপ্রবণ এলাকাসমূহ চিহ্নিত করে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্টের সংখ্যা। এসবের পাশাপাশি মোবাইল টিমের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার নিজেই পুরো অভিযান তদারকি করছেন। কখনও ওয়্যারলেসে, মোবাইল ফোনে আবার সরাসরি কর্মকর্তাদের ডেকে এনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। থানা পুলিশের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকেও মাঠে থাকতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। পোশাকে থাকা পুলিশের পাশাপাশি সিভিলে থেকে ডিবি সদস্যরা কাজ করছেন। এক্ষেত্রে অপরাধীদের ডাটাবেজকে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) শচীন চাকমা কালের আলোকে বলেন, ‘ক্রাইম বিভাগের আট ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার ব্যতিত প্রতিদিন রাত্রিকালীন টহল ডিউটি তদারকির জন্য মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয় একজন উপ পুলিশ কমিশনার, ৮ জন এডিসি/এসিদেরকে দিয়ে মনিটরিং করার জন্য দায়িত্ব-বন্টন করে দিয়েছেন।

ডিএমপির তথ্য বলছে, চলতি মাসের ১ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা বিভাগে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৩৭ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে রমনায় ২৪ মামলায় ৪৯ ছিনতাকারী, লালবাগে ৪১ মামলায় ৮১, মতিঝিলে ১৯ মামলায় ৫২, ওয়ারীতে ১৪ মামলায় ২৮, তেজগাঁওয়ে ৮৩ মামলায় ২০৮, মিরপুরে ৩৭ মামলায় ৭৭, গুলশানে ৯ মামলায় ১৩ ও উত্তরা বিভাগে ১০ মামলায় ৫৫ ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, রাজধানীতে এবার ঈদের ছুটিতে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় এবার চুরি-ছিনতাই বা ডাকাতি হয়নি। শুধুমাত্র ফার্মগেট এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন পুলিশের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান তালুকদার। এছাড়া ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী প্রযোজক রাকিবুল হাসান আহত হন। দুটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ছিনতাইকারীর হামলায় আহত শেরেবাংলানগরের পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী প্রযোজক রাকিবুল হাসানকে দেখতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। রাজধানীকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এর জন্য আমাদের যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করবো।’

জানা যায়, ডিএমপি সদর দপ্তর সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের নতুন নেটওয়ার্ক খোঁজে বের করতে বিশেষ জোর দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। পুলিশের চলমান অভিযানে টিকতে না পেরে অনেক ছিনতাইকারী আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ কেউ রাজধানীর বাইরে চলে গেছেন। সড়কে থাকা ভ্রাম্যমাণ ছিনতাইকারীরাও এলাকা ছেড়েছেন।

এসব বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খঃ মহিদ উদ্দিন কালের আলোকে বলেন, ‘ছিনতাই তৎপরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিটি থানায় পৃথক পৃথক টিম করে দেওয়া হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ডাটাবেজ ঘেঁটে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে থানার ‘ডেডিকেটেড টিম’কে ফোর্স, অস্ত্র ও লজিস্টিকস দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে সব থানায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কোন ছিনতাইকারী জামিনে বের হয়ে ফের কীভাবে অপরাধে জড়াচ্ছে, কোন গ্রুপগুলো কোন এলাকায় কাজ করছে সেগুলো দেখা হচ্ছে। অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারের পর দেখা যাচ্ছে একই ছিনতাইকারী আগে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার গ্রেফতার হয়েছিল। কারাগার থেকে বের হয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। পুরো রাজধানী ছিনতাইমুক্ত না হওয়া অবধি ডিএমপির অভিযান চলবে।’

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ । ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ