খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

মাছ উৎপাদনে শীর্ষে বাংলাদেশ, ৫২ দেশে রপ্তানিতে আয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
মাছ উৎপাদনে শীর্ষে বাংলাদেশ, ৫২ দেশে রপ্তানিতে আয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা

কালের আলো রিপোর্ট :

এ যেন মাছে-ভাতে বাঙালির প্রবাদ ফিরে এসেছে আবারও। মুক্ত জলাশয় আর ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা লাখ লাখ পুকুরে চাষের মাছে দেশে ঘটেছে রুপালি বিপ্লব। বিশ্বে স্বাদুপানি ও চাষের মাছ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশের একটি বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত বিশ্বের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে স্বাদুপানির মাছের ১১ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। যার মোট পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ টন।

আবার, ইলিশ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ১ নম্বর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘মিঠা পানি ও বদ্ধ জলাশয়ের মাছ উৎপাদনেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ এখন তৃতীয়,বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।’ মন্ত্রী ২০৪১ সালে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করেছেন।

মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিতেও এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, ফ্রান্স, আমেরিকা, জাপান, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানিসহ বিশ্বের ৫২ টি দেশে চিংড়ি, রুই, কাতলা, মৃগেল, কাঁকড়া, কুঁচিয়া, পাংগাস, পাবদা, তেলাপিয়া, শোল, কৈ, শিং, মাগুর ইত্যাদি প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব দেশে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের আয় হয়েছে ৪ হাজার ৭৯০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মাছ রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের উন্নয়নেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

শুধু তাই নয়, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রজয়ের পর বঙ্গোপসাগর থেকে মৎস্য আহরণ বেড়েছে। সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের।

নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়েই ‘নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’– স্লোগানে সোমবার (২৪ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। নিরাপদ মাছ চাষের প্রচারে সপ্তাহজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে চলতি বছরের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বে মাছ উৎপাদনে ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের সাফল্যের নানাদিক নিজের জবানীতে তুলে আনেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘মাছের উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশে রপ্তানি সবকিছু মিলে দেশের উন্নয়নে, দেশের মানুষের উন্নয়নে, মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে মাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হলে খাবারের একটি বড় যোগান হয়। মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করে মাছ। যারা মাছ উৎপাদন করেন তাদের বেকারত্ব লাঘব হচ্ছে, তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলে মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। মৎস্য খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটি ৯৫ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।’

মৎস্য গবেষকরা বলছেন, দেশের মৎস্য বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উন্নত মাছের জাত এবং তা দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, বগুড়া ও কুমিল্লা জেলায় পুকুরে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘেরে মাছ চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। দেশে মোট কৃষিজ আয়ের শতকরা ২৪ ভাগের বেশি অবদান মৎস্য খাতে। মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এতে করে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে পৌঁছাবে যাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) একটি খানা জরিপ বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন একজন মানুষের প্রায় ৬২ গ্রাম আমিষের প্রয়োজন। আর এই আমিষের প্রধান চাহিদার উৎস হচ্ছে মাছ। বাজারে দুই অঙ্কের নোটেই মিলছে মাছ। দাম সাধারণের নাগালে থাকায় দেশে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে শতভাগ।

সরষে ইলিশ, ইলিশ পাতুড়ি, ইলিশ ভাজা হরেক পদের রান্না, হরেক রকম স্বাদ। বাঙালির বর্ষবরণ ইলিশ ছাড়া হয় না। ওপার বাংলায় জামাইষষ্ঠীতে ইলিশ লাগবেই। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যে হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে তাতে আগামী কয়েক বছরে উৎপাদন আরও বাড়বে। বিশ্বের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ইলিশ উৎপাদন দেশ হবে বাংলাদেশ।

মৎস্য খাতে ডিজিটালাইজড পদ্ধতি
রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে চলতি বছরের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, দেশে উৎপাদিত মাছ যাতে মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। ২০২০ সালে মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ আইন করা হয়েছে। সমুদ্র সীমাসহ অন্যত্র যারা মাছ আহরণে সম্পৃক্ত তাদের প্রতিটি নৌযানে যান্ত্রিক পদ্ধতি সংযোজন করা হচ্ছে, যাতে তাদের মনিটরিং এর আওতায় রাখা যায়। পাশাপাশি কোনো মৎস্য নৌযান দুর্ঘটনায় পতিত হলে তাদের অবস্থান জানার জন্যও এই পদ্ধতি কাজে লাগানো হচ্ছে। এভাবে মৎস্য খাতে ডিজিটালাইজড পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্য খাতের অবদান
মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর ২৪ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট মৎস্য খাত গড়ে তোলা। স্মার্ট মৎস্য খাতে উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির প্রক্রিয়ায় স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্য খাত থেকে সর্বোচ্চ অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাছ উৎপাদন এবং দেশে ও বিদেশে সরবরাহের জন্য সরকার দেশে আন্তর্জাতিকমানের পরীক্ষাগার তৈরি করেছে। পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে বিদেশিদের চাহিদা অনুযায়ী মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে মাছের জন্য যেসব খাদ্য উপাদান আসে সেগুলোও এ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাতে মাছ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনে অস্বাস্থ্যকর কোন উপাদান প্রবেশ করতে না পারে। শুধু মাছ উৎপাদন নয় বরং স্বাস্থ্যসম্মত ও খাবার উপযোগী নিরাপদ মাছ উৎপাদন সরকারের লক্ষ্য। আগে আমাদের লক্ষ্য ছিল মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি। এখন আমাদের লক্ষ্য দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনে বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের বহুমুখী ব্যবহারে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। মাছ থেকে চিপস, কেকসহ অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য তৈরি করলে মাছের ভোক্তাও বৃদ্ধি পাবে। এভাবে মাছের বহুমুখী ব্যবহার প্রক্রিয়াকে সরকার উৎসাহিত করছে। মাছের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে যারা কাজ করতে চায় তাদের সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ সরকার নানারকম সহায়তা প্রদান করছে।

মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে অভয়াশ্রম তৈরিসহ বিভিন্ন সময়ে সরকার মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উল্লেখ করে এ সময় মন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে মৎস্যজীবীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সরকার প্রণোদনা প্রদান, খাদ্য সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও উপকরণ সহায়তা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান একজন মৎস্যজীবীও যেন কষ্ট না পায়।

তিনি বলেন, দেশের জলসীমায় প্রচলিত ও অপ্রচলিত মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ৩৯ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছ ফিরিয়ে এনেছে। দেশীয় মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য ময়মনসিংহে লাইভ জিন ব্যাংক করা হয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে মুক্ত ও বদ্ধ জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কাইয়ূম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।

কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশে ঝোপে মিলল জীবিত নবজাতক

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশে ঝোপে মিলল জীবিত নবজাতক

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাস্তার পাশের ঝোপ  থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বারোমন্ডলের চালা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর ছালাম বলেন, ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ের ভেতরে গিয়ে নবজাতকটিকে দেখতে পান। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না, শুধু একটি পাতলা কাঁথায় মোড়ানো ছিল। এরপর দ্রুত শিশুটিকে সখীপুর মা ও শিশু ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ডা. শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতে বাইরে থাকার কারণে শিশুটির শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, শিশুটি এক নিঃসন্তান দম্পতি ইব্রাহিম ও নার্গিসের হেফাজতে রয়েছে। তারা শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, রাস্তার পাশ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছি। শিশুটির চিকিৎসা চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে, যাদের সংসদে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে, সমাজে যাদের সুনাম আছে সংরক্ষিত নারী আসনে দল তাদেরই বাছাই করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রায় পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে। আজ শনিবার (১১এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে আমাদের অফিসের কর্মকর্তারা ফরম বিতরণ করছেন। আপনারা জানেন গতকাল শুক্রবার, আজকে শনিবার ও আগামীকাল রোববার এই তিনদিন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। এটা অব্যাহতভাবে চলবে। গতকালও অনেকে জমা দিয়ে গেছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে যে বোর্ড আছে সেখানে আবেদনগুলো যাবে। কী পদ্ধতিতে ও কোন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে সেটি আজ-কালের মধ্যে জানা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিএনপি যে প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের বাছাই করে। একইভাবে এবারও সেই পদ্ধতিটি অবলম্বন করা হবে। অর্থাৎ যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তাদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ করছি। সেটি তারা পূরণ করে যেসব ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে, সেই ডকুমেন্টসহ আমাদের কাছে জমা দেবেন।

তিনি বলেন, এবারের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এই কারণে যে দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর এক ভয়ানক দুর্বিসহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে আজ এই জায়গায় উপনীত হয়েছে। একটা অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। ১৬ বছরের লড়াইয়ের পর গণতান্ত্রিক চর্চার যে পরিবেশটি পাওয়া গেছে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার আমাদের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের যেগুলো রয়েছে, যেমন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে গতকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্যাপক সগরম হয়ে উঠেছে। আজও সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মহিলা আসনের মনোনয়ন বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে।

বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা-অফিসে গিয়ে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে নিজেদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবদানের কথা তুলে ধরতেও দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএকে