খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সমুজ্জ্বল ৪ টি ইউনিটের পতাকা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
সমুজ্জ্বল ৪ টি ইউনিটের পতাকা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

২০১৪ সালের পহেলা জুলাই কুমিল্লা সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠিত ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট বা ভিগোরাস এইটিন। ৪ টি আর্টিলারি কোর্স সম্পন্ন, ২০১৮ সালে নির্বাচনী দায়িত্ব, ২০১৯-২০ সালে মৌলভীবাজারে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ২০২০-২১ সালে অপারেশন কোভিড শিল্ড এবং ২০২২ সালে সুনামগঞ্জ’র দোয়ারা বাজারে বন্যাকালীন দায়িত্ব পালন করে সফলতা দেখিয়েছে এই রেজিমেন্ট।

২১ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন বা গ্লোরিয়াস স্যাপার্স’র কথাও ধরা যাক। ২০১৪ সালের পহেলা জুলাই সিলেট সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিট ১৭ পদাতিক ডিভিশন গঠনের প্রধান কারিগরও। চলতি বছর তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে কুড়িয়েছে সুনাম। একইভাবে রামু সেনানিবাসে গোড়াপত্তন হওয়া ৩৭ বীর বা অগ্রণী সাইত্রিশ এবং ৩৮ বীর বা রণজয়ী আটত্রিশ মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ত্রাণ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে।

এভাবেই দেশ ও দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দায়িত্ব যথাযথ পালনে বিশেষ অবদান, প্রশিক্ষণ ও অপারেশন কর্মকাণ্ডে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই চারটি ইউনিট বা রেজিমেন্টকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে এসব ইউনিটকে কালার প্রদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। চৌকস ব্যান্ড দলের বাজনার তালে প্যারেড গ্রাউন্ড রাখা কালো মোড়কে ঢাকা চারটি পতাকা উন্মুক্ত করে চার ইউনিট প্রধানের হাতে তুলে দেন তিনি।

এ সময় সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকের এই কালারপ্রাপ্তি এই ইউনিটসমূহের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে থাকবে। তাঁরা ভবিষ্যতে এখনকার চেয়ে আরও সুন্দর, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব’র সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

জানা যায়, বিভিন্ন যুদ্ধের সময় দলনেতা বা অধিনায়কের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দল বা ইউনিটের রেজিমেন্টাল কালার বা পতাকা বহন করার রেওয়াজ রয়েছে। এটি একটি রেজিমেন্টের শৌর্যবীর্য, তেজোদীপ্ততা ও কর্মশক্তির প্রতীকও বটে! সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করে আসছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অপারেশনাল কার্যক্রমে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য এবার চারটি ইউনিটকে দেওয়া পতাকা আগামীতেও পেশাগত কাজের মাধ্যমে সমুজ্জ্বল থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সেনাপ্রধান।

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের এমআর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি’র অধিনায়কের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল কুচকাওয়াজ প্রদর্শন এবং সেনাপ্রধানকে সালাম প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আমাদের ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা এবং পৃষ্ঠপোষকতা সার্বক্ষণিকভাবে করে যাচ্ছেন।’

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করে আছে এবং সেটি অক্ষুন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন এক নম্বরে অবস্থান করছে। এটা অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয় আমাদের জন্য। এই অর্জন একদিনে হয়নি। আমরা অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ শিকার করেছি।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে সেনা সদস্যদের নির্দেশ দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে সব সময়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এর পাশাপাশি আমরা শান্তিকালীন সময়েও ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে অনেক দায়িত্ব পালন করে থাকি।’ সেনাপ্রধান সকলকে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা এবং ভাতৃত্ববোধ বজায় রেখে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও যোগ্য সেনাসদস্য হিসেবে গড়ে উঠার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া একই দিনে সেনাপ্রধান চট্টগ্রাম আর্মি মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজ এবং ৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম একযোগে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম আর্মি মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ